এবারের বাজেটের প্রতিক্রিয়া মিশ্র,কারো জন্য ভালো আবার কারো জন্য সুখকর নয়।

Treasurer Josh Frydenberg and Prime Minister Scott Morrison outside Parliament House in Canberra, Wednesday, October 7, 2020.

Treasurer Josh Frydenberg and Prime Minister Scott Morrison outside Parliament House in Canberra, Wednesday, October 7, 2020. Source: AP

সরকারের ঘোষিত ফেডারাল বাজেটের প্রতিক্রিয়া দ্রুত এবং বিভিন্ন ছিল। প্রধানমন্ত্রী বহুসংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়ায় বাজেটের ব্যবস্থা গ্রহণে বিশেষভাবে আগ্রহী, তবে বিশেষত বেশ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের কর্মসূচির দিকগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারের লিংকটিতে ক্লিক করুন।


বাজেট ঘোষণার পর ফেডারেল সরকার দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এটাকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করছে।এবং অস্ট্রেলিয়ান জনগণের কাছে এটির সুফল পৌঁছে দিতে চায়। করোনাভাইরাসের প্রভাবে অভিবাসন প্রক্রিয়া বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে।

চলতি অর্থবছরে বাজেট পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭২,০০০  কম অভিবাসন হবে , যা হয়তো  ২০২২/২০১৩ আর্থিক বছর অবধি ইতিবাচক স্তরে  পৌঁছানো সম্ভব হবেনা । অস্ট্রেলিয়ান অর্থনীতিতে এটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। তবে প্রতিবছর ১৬০,হাজারের মাইগ্রেশন ক্যাপটি তোলা হবে না।

সরকার বলেছে যে পরিস্থিতিটির একটি রুপালি সম্ভাবনা  রয়েছে। পার্টনারদের অস্ট্রেলিয়া আনার ক্ষেত্রে এবং একত্রে বসবাসের অনেক সুযোগ বাড়বে । এসবিএসের সাথে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন যে সরকার এখন এই অনুরোধগুলির একটি ব্যাকলোগ মোকাবেলা করতে সক্ষম। 

 তবে এই উদ্যোগটি ফেডারেশন অফ এথনিক কমিউনিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়নি। এর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আল-খফাজি। তিনি বলেন  যে নীতিমালায়  ইংরেজী বলতে পার্টনারের  প্রয়োজন  তার বিধানটি অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, সরকার বাজেটে অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রাখেনি 

 তবে ইংলিশ ভাষার দক্ষতা মিঃ মরিসনের বাজেট নীতিমালার একটি বড় অংশ। তিনি বলেন যে এই ক্ষেত্রটিতে  আরো বেশি গুরুত্ব  দেয়ার ফলে  নারী ও শিশুদের উভয়কে সামাজিকভাবে এবং অর্থনীতিতে তাদের অবদানকে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি করার ফলে অভিবাসনের ঘাটতি পূরণের একটি উপায় পাওয়া যাবে।

বিরোধীরা বাজেটে সামাজিক আবাসনগুলিতে সরকারের বিনিয়োগের অভাবকে তুলে ধরতে আগ্রহী। বিরোধী ফ্রন্টব্যাঞ্চার জেসন ক্লেয়ার বলেন যে অভিবাসন অভাবের ফলে আবাসন বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে, সরকার এটিকে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে। 

 বাজেট কীভাবে মহিলাদের প্রভাবিত করে, বিশেষত শ্রমশক্তিতে তাদের অংশগ্রহণ নিয়েও সম্প্রদায়ে প্রতিক্রিয়া রয়েছে। মহিলারা এই মহামারীতে পুরুষদের তুলনায় বেশি কাজ হারিয়েছেন । বিজ্ঞান ও গণিতে নারীদের আরও বেশি চাকরি পেতে বাজেটে দু'শ-চল্লিশ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে কেউ কেউ আরও বেশি পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছিলো।  

ডি বেহান  একজন মা এবং ছোট ব্যবসায়ের মালিক, যার স্টার্টআপ বিজনেস মহামারীর ফলে  মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ঋণ  হ্রাস করার জন্য যদি জন্মহার বাড়িয়ে তুলতে চায় সরকার  তবে তাদের উচিত শিশুদের যত্নের জন্য তহবিল বাড়ানো উচিত। 

মিঃ মরিসন বলেন যে ফ্রি চাইল্ড কেয়ার কেবল উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার প্রভাব ফেলবে। এবং সরকারও নিরবভাবে প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়ার শরণার্থী গ্রহণের পরিমাণ ৫ হাজার হ্রাস করেছে। ১৮৭৫০ থেকে কমিয়ে এই সংখ্যা ১৩৭৫০ করা হয়েছে। সরকার বলেছে এতে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে এবং যারা অস্ট্রেলিয়ায় প্রটেকশন ভিসায় অবস্থান করছে তাদের কল্যানে ব্যয় করা হবে।

তবে এ নিয়ে আন্দোলনকারীরা  বলছেন, offshore detention.এর  জন্য ব্যয় বৃদ্ধির ফলে এই সঞ্চয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে যে এই পদক্ষেপটি  অর্থহীন , যখন আগের চেয়ে আরও বেশি মানুষের  সাহায্যের প্রয়োজন । 

বাজেট কীভাবে আপনার আর্থিক সংস্থাকে প্রভাবিত করছে জানতে আপনি এসবিএস বাজেট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইট sbs.com.au/news এ যান।


Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now