সিকদার তাহের আহমদ: সিডনির ফেয়ারফিল্ড শো গ্রাউন্ডে গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার অনুষ্ঠিত হলো বৈশাখী মেলা। বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার ৩১তম এই বৈশাখী মেলায় ছিল ব্যাপক জনসমাগম। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন।
সিকদার তাহের আহমদ: বৈশাখী মেলাগুলোতে যেরকমটি হয়ে থাকে, যেমন দেশি খাবারের স্টল, রকমারি পণ্যের স্টল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এসব কিছু নিয়েই এবারের মেলা উদযাপিত হয়। বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার একত্রিশতম বৈশাখী মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন। রবিবারের এই মেলায় একটু আগেভাগেই সেখানে যাই পার্কিংয়ের কথা চিন্তা করে। শুরুতে জনসমাগম বেশি ছিল না। সেই সুযোগে কথা হয় এই মেলার অন্যতম আয়োজক বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট শেখ শামিমুল হকের সঙ্গে। শামিম ভাই, SBS বাংলায় আপনাকে স্বাগত।
সিকদার তাহের আহমদ: কেমন হচ্ছে এবারের আয়োজন?
আয়োজন আমাদের তরফ থেকে সবকিছু ডান যেভাবে প্ল্যান করা সবকিছুই আমাদের ঠিক আছে। Hopefully the rest of the day will be okay.
সিকদার তাহের আহমদ: কিরকম লোক আপনি আশা করছেন?
নাম্বার তো বলতে পারব না কিন্তু যথেষ্ট ভালো হবে। কারণ সাড়া খুব ভালো। অনলাইনে টিকিট যাচ্ছে খুব ভালো। তারপরে
long weekend, then weather খুব ভালো। Setup, শিল্পী সবকিছু মিলে everything is in track. তো আশা করছি যে ভালো হবে। Basically গত বছর থেকে ভালো হবে। কারণ গত বছর এটা আমাদের পিছিয়ে first of June ছিল which is official winter. আর এবার একেবারে April-ই হচ্ছে। Weather-ও fantastic. So, আশা করছি খুবই ভালো হবে।
সিকদার তাহের আহমদ: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। SBS-কে ধন্যবাদ। SBS-এর তো স্টল আছে এবং তারাও আপনাদেরও কর্মকাণ্ড আছে এবং SBS-কে thanks শুধু এখনকার জন্যে না, বহু বছর ধরে SBS Radio আমাদের সাথে আছে। তো এইজন্যে তাদেরকে আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সিকদার তাহের আহমদ: সাংবাদিক ও কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত বলেন,
আমরা তো সবেমাত্র আসলাম এখন। আমার ধারণা যে বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের মেলাটি সবসময়ই জমজমাট হয়। এটার একটা বহুমাত্রিক dimension আছে। সেটার কারণ হচ্ছে ধরেন দীর্ঘ সময় ধরে তারা মেলা করছে। বারোডীর একটা ছোট্ট স্কুল থেকে অলিম্পিক পার্ক হয়ে Fair Field Showground-এ এসেছে। এটার ব্যাপ্তিটা আমার মনে হয় আন্তর্জাতিকভাবে যেহেতু পরিচয় আছে, শেষ পর্যন্ত মেলাটা জমে উঠবে এটা আমার ধারণা।
সিকদার তাহের আহমদ: দাদাগিরি নামের একটি খাবারের স্টল দিয়েছেন গৌতম পাল। আপনাদের এই যে দাদাগিরি স্টল, এটা কি শুধু এই মেলার জন্যই নাকি এটার আসলেই দাদাগিরি নাম?
না, এই মেলার জন্য না। এই সূচনা কারণ আমি তেত্রিশ বছর সবাই আমাকে দাদা জানে। সবাই দাদা। বাবাও দাদা ডাকে, ছেলেরও দাদা ডাকে, নাতিরও দাদা ডাকে। সেজন্য সবাই বলছে দাদা স্টলের নাম দেন দাদাগিরি।
সিকদার তাহের আহমদ: মেলা কেমন লাগছে?
মেলা ভালো। আমি এই মেলার সাথে একত্রিশ বছর জড়িত।
সিকদার তাহের আহমদ: একটি তৈরি পোশাকের স্টল দিয়েছেন মিসেস নাজমুন্নাহার। তিনি নিয়মিত স্টল দিয়ে থাকেন, বলেন তিনি।
আমরা আশা করতেছি লোকজন আসবে। এই তো শুরু হলো মাত্র। আমার স্টলের নাম বাংলার বুটিক।
সিকদার তাহের আহমদ: এবারই প্রথম নাকি সবসময় আসেন?
সিকদার তাহের আহমদ: বাংলাদেশের মেলা আর অস্ট্রেলিয়ার যে মেলা মিলো মিল কিরকম?
আসলে honestly বাংলাদেশের মেলায় তেমন একটা যাওয়া হয় নাই। ছোট থাকতে গেছি যেটা হাঁড়ি পাতিল কিনার জন্য। আর অস্ট্রেলিয়ার এটা
মানে clean এবং nice people আসে। লোকজন আসে। আবার লোকজনের সাথে দেখা হয়, কথাবার্তা হয়, আনন্দ ফুর্তি হয় সেটাই আর কি।
সিকদার তাহের আহমদ: আপনার স্টলে নানারকম কাপড় দেখছি, dress পোশাক।
বাংলাদেশি আছে, ইন্ডিয়ান আছে, পাকিস্তানি আছে। আমি আসলে
আনন্দের জন্য মানুষ লোকজন দেখার জন্য আমি এখানে আসি। ধরেন ঈদের মেলায় বা ইয়ের মেলায় যাওয়া হয় তখন আবার এগুলা যে এটা আমার আসলে একটা শখ।
সিকদার তাহের আহমদ: এবারের মেলায় আবারো দেখা হলো পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ওয়াকাস নাইমের সঙ্গে। এর আগে ওয়ালি পার্কের বৈশাখী মেলাতেও স্টল দিয়েছিলেন তিনি ও তার স্ত্রী। ওয়াকাস নাইম বলেন,
সিকদার তাহের আহমদ: মেলায় সপরিবারে এসেছেন সুমিও মুৎসদ্দী।
সুমিও মুৎসদ্দী, SBS বাংলায় আপনাকে স্বাগত।
সিকদার তাহের আহমদ: আচ্ছা আপনার মেলায় কেমন লাগছে?
আচ্ছা মেলা মানেই তো আনন্দ। আনন্দ তো মহা আনন্দ আমার কাছে। কারণ এই মেলার সাথে জড়িত আমার সেই শৈশব থেকে। শৈশব মানে সে পঞ্চাশের দশক থেকে। সিডনিতে এসেছি উনিশশো একানব্বই সালে। তো আমরা আমি নিজেই দেখেছি ছায়া নোটের উনিশশো সাতষট্টি সালের মেলা বৈশাখী নববর্ষ উদযাপন, যেটা ছিল বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে শুরু করা হয়েছিল সানজীদা খাতুন এবং ওয়াইদুল হক সাহেবের ছায়া নোটের মাধ্যমে সেই মেলা আমি দেখেছি। আমি ছিলাম ওখানে। তারপরে এখন সিডনিতে এসে বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের সাথে জড়িত হয়ে দেখলাম এই তো একটা মহা উৎসব সিডনিতে বৈশাখী মেলার আয়োজন। এটা আমি দেখে অবাক হয়ে গেছি। আমরা যেটা গ্রামেগঞ্জে দেখেছি বৈশাখী মেলা সেই এখন নাগরিক সভ্যতার মধ্যে নিয়ে আসছে গ্রামীণ সেই মেলাকে যার দ্বারা pioneer ছিলেন রুহুল হক উজ্জ্বল, ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক, শেখ সামি সাহেব। আমরা খুবই মানে আনন্দিত যে সৌভাগ্যবান যে সেই মেলার সাথে জড়িত হতে পেরেছি সপরিবারে আমার তিন প্রজন্ম নিয়ে।
সিকদার তাহের আহমদ: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেছিলেন নুসরাত জাহান স্মৃতি।
Oh my god! আজকের আবহাওয়াটা এত সুন্দর। ভালো লাগারই কথা। প্রচণ্ড মানুষজন এবং নিজের যখন perform করি তখন তো আলাদা একটা অনুভূতি থাকে। এ-এটা মনে হয় কি এই দিনটার জন্য প্রত্যেকদিন আসে।
সিকদার তাহের আহমদ: তার মেয়ে নতুন প্রজন্মের নাবিলা আফ্রিদা স্রোতোস্বিনী বলেন,
সিকদার তাহের আহমদ: আচ্ছা কেমন লাগছে মেলা?
খুবই ভালো। Actually সারা বছর এই মেলার জন্য আমি অপেক্ষা করি। অন্য আরেক রকমের মেলা হয় কিন্তু বৈশাখের মেলার আমেজটাই ভিন্ন। আমি বাংলাদেশ থেকে খুব ছোটবেলায় এসেছি। আমি মনে হয় যখন ছয় বছর ছিলাম তখন। কিন্তু এরকম মেলা হয়, তারপর বিভিন্ন বাংলা school থাকে। তো এইসবের কারণে আসলে বাংলাটা ভুলতে পারিনি।
সিকদার তাহের আহমদ: এবার কি গান করেছিলেন?
এবার আমি গান করিনি। আমার মা আবৃত্তি করেছেন। তো মাকে support করার জন্য এবার এসেছি।
সিকদার তাহের আহমদ: মেলা সম্পর্কে সৈয়দ আকরামুল্লাহ বলেন, পরিবার নিয়ে আসার মতো পরিবেশ এখানে।
আসসালামু আলাইকুম। আমি সৈয়দ আকরামুল্লাহ। সুন্দর মেলা এখানে, সুন্দর পরিবেশ। অনেক দোকান আসছে। অনেক stall আছে। কাপড়ের দোকান, খাবারের দোকান, performance হচ্ছে, live performance. খুব ভালো লাগছে। খুব একটা মানে পরিবার নিয়ে আসার মতো enjoy করার মতো একটা পরিবেশ এখানে।
সিকদার তাহের আহমদ: সন্ধ্যার দিকে ছিল আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তৃতাপর্ব। এতে অংশ নেন New South Wales এর Deputy Premier Prue Car MP সহ আরও কয়েকজন MP, বাংলাভাষী local councillor এবং রাজনীতিবিদ। আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার আগেই কথা হয় New South Wales এর Deputy Premier Prue Car এর সঙ্গে।
সিকদার তাহের আহমদ: Honourable David Moncrieff MP বলেন,
সিকদার তাহের আহমদ: Honourable Mark Coure MP বলেন,
সিকদার তাহের আহমদ: Doctor David Saliba MP বলেন,
সিকদার তাহের আহমদ: Campbelltown City Council এর Councillor আশিকুর রহমান Ash বলেন,
সিকদার তাহের আহমদ: ক্যান্টারবেরি ব্যাংকসটাউনের কাউন্সিলর শিরিন আক্তার বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে শেকড়ের কথা মনে করিয়া দেয়।
আজ Fairfield Showground এ একত্রিশ তম বাংলা নববর্ষ উদযাপনে আপনাদের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি সত্যিই সম্মানিত এবং আনন্দিত। পহেলা বৈশাখ শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিচয়ের এক অনন্য উদযাপন। এটি আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং আমাদেরকে আশা, ঐক্য, গর্ব নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
সিকদার তাহের আহমদ: ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর এলিজা রহমান বলেন,
সিকদার তাহের আহমদ: Campbelltown City Council এর Councillor মাসুদ চৌধুরী বলেন,
সিকদার তাহের আহমদ: বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার একত্রিশ তম এই বৈশাখে মেলা নিয়ে প্রতিবেদনটি শুনলেন। সঙ্গে ছিলাম আমি সিকদার তাহের আহমদ।
END OF TRANSCRIPT