অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের একটি বড় অংশ বসবাস করেন সিডনির লাকেম্বায়। লাকেম্বা নাইটস ডিউরিং রমাদান উপলক্ষে সম্প্রতি সেখানে গিয়েছিলাম। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন।
[নির্দিষ্ট সঙ্গীত] গত বছরের মতো এবারও লাকেম্বা নাইটস ডিউরিং রমাদান অনুষ্ঠিত হচ্ছে সপ্তাহে চার দিন। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, শনি ও রবিবার। বিকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত সিডনির লাকেম্বা সরগরম থাকে। হ্যালডন স্ট্রিট জুড়ে বিভিন্ন স্টলে বিক্রি হয় সুস্বাদু খাবার। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ও তাদের বংশোদ্ভূত মুসলমানরাই শুধু নয়, তাদের পাশাপাশি অমুসলিম জনগোষ্ঠীর লোকেরাও এখানে আসেন রসনা বিলাস এর জন্য। রমজানের কোনো এক শনিবার সেখানে গিয়েছিলাম। কার পার্কিং এর সুবিধার জন্য বিকেলের দিকে ইফতারের একটু আগেভাগেই। লোকজনের আনাগোনা তখনও শুরু হয়নি। এদিকে হ্যালডন স্ট্রিটের স্টলগুলোতে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। কয়লায় আগুন ধরানো হচ্ছে। কেউ কেউ রান্না ও ভাজাভাজিও শুরু করে দিয়েছেন। ক্যামেল বার্গারের একটি স্টল দেখে এগিয়ে গেলাম। স্টল কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। নাম ওমর। আচ্ছা, আপনি বাংলাদেশ থেকে কবে আসছেন?
আমি আসছি দুই হাজার তেইশে।
আচ্ছা, আপনি এখানে ক্যামেল বার্গার শপে কাজ করতেছেন। তাই আপনি এই সম্পর্কে একটু বলবেন।
এটা হচ্ছে ক্যামেল বার্গার শপ। এটা লাস্ট আঠারো বছর ধরে এটা অপারেট করতেছে অস্ট্রেলিয়াতে। এটা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বিগেস্ট ইভেন্ট যেটা বলা হয়। আর হচ্ছে যে এটা খুব খুব পপুলার সব। এই লেকেম্বা রমাদান নাইটে সবচেয়ে পপুলার শপ। আমরা লাইক ফ্রাইডে স্যাটারডে নাইটে খুবই বিজি থাকি। লাইক ইচ ডে সিক্সটি সেভেন্টি বক্স বার্গার মানে ক্যামেল পেটি সেলো আরকি। খুবই খুবই বিজি, খুবই বিজি প্লেস এটা।
আপনি কি এবারই এদের সঙ্গে কাজ করছেন?
আমি গত বছর ওদের সাথে কাজ করছি।
গত বছর আর এ বছরের মধ্যে কোন তুলনা।
গত বছরের সাথে এ বছরের পার্থক্য হচ্ছে যে, গত বছরে একটু বেশি বিজি ছিল। এ বছর একটু আমার মনে হচ্ছে যে একটু কম বিজি। আর গত বছর হচ্ছে যে ওরা এই নাইট চারটা থেকে শুরু হতো। এ বছর ছয়টা থেকে শুরু হচ্ছে, রাত দুইটা পর্যন্ত। সো এটাই হচ্ছে বেসিক পার্থক্য।
বাংলাদেশিরা লাকেম্বায় কেন আসে? এ সম্পর্কে ওমর বলেন।
এখানে ম্যাক্সিমামই হচ্ছে যে আমাদের বাংলাদেশি মানুষজন বেশি থাকি। কারণ হচ্ছে যে এটা খুব প্রথম কথা হচ্ছে এখানে আসার কারণ হচ্ছে এখানে খাবার বাংলাদেশি খাবার খুব অ্যাভেইলেবল পাওয়া যায়। আর হচ্ছে অনেকের পরিচিত থাকে যার কারণে যখন কেউ বাংলাদেশ থেকে নতুন আসে, দেখা যায় বাসা খুঁজতে গেলে বা কিছু খুঁজতে গেলে তখন তার ফ্রেন্ডের থ্রুতে খোঁজে। সো ম্যাক্সিমাম বাঙালিরা এখানে থাকে। সো দ্যাটস হোয়াই আমি মনে করি যে সবাই বাঙালিরা এখানে ওঠে এবং এটা খুব একটা বাঙালিদের জন্য খুব পরিচিত প্লেস। আমরা যদি অস্ট্রেলিয়ার কথা বলি যে বৃহৎ গ্রেডার সিডনির খুব একটা নাম হচ্ছে যে লেকেম্বা। লেকেম্বা মানে হচ্ছে বাঙালিদের জায়গা যেখানে বাঙালিরা একসাথে থাকে, যেখানে বাঙালিরা তাদের আনন্দ উৎসব সবকিছু একসাথে শেয়ার করে। সো আমি মনে করি যে এজন্যই সবাই এখানে আসে আরকি।
বাংলাদেশের সঙ্গে লাকেম্বা নাইটস এর তুলনা করতে গিয়ে ওমর বলেন, এখানে একটা আরবীয় আমেজ রয়েছে।
বাংলাদেশের সাথে এটা তুলনা বলতে আমি বাংলাদেশের এটা একটা ডিফরেন্ট কালচার। এটা একটা ডিফরেন্ট। এটা একটা অনেকটা অ্যারাবিক ভাইব আছে। বাংলাদেশের তো আমাদের একদম খুব আমাদের খুব আমাদের খুব ব্যক্তিগত। আমাদের নিজেদের যেমন আমরা ছোলা, মুড়ি এগুলা।
শুধু বাঙালিরা না, বাট এখানে মিডিল ইস্টার্ন ফুড গুলা বেশি সার্ভ হয় আরকি।
এবং বিভিন্ন দেশের লোক আসে।
হ্যাঁ, বিভিন্ন দেশের লোক আসে।
রাধনি রেস্টুরেন্টের নিউটন বড়ুয়া বলেন, সেহেরির সময় পর্যন্ত তাদের রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে।
একচুয়ালি ক্লোজিং আর ওপেনিং বলতে সকালবেলা তো তেমন একটা লোক থাকে না। ভোর সকাল অব্দি সেহেরি পর্যন্ত আমাদের দোকান খোলা থাকে। সব সময় সেহেরি খেতেও আসে। বিকেল টাইমও আমাদের অনেক কিছু।
লাকেম্বা নাইটস ডিউরিং রমাদান সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রচুর লোক সমাগম হয়। বিভিন্ন দেশের মানুষ আসেন।
ওটা শুধু চার দিনই চলে। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, শনিবার, রবিবার।
অসংখ্য প্রচুর পরিমাণে বাঙালি বলতে বিদেশিরা অনেক আগ্রহী। এখানে অনেক লোক আসে। লেবানিজ বলেন, ওজিরা বলেন, অস্ট্রেলিয়ান পিপল সবাই আসে।
কী ধরনের মানে খাবার তারা বেশি অর্ডার করে?
একজ্যাক্টলি। তারা আমাদের ওই বাঙালি ফুড দেখে তারা অনেক আকর্ষণীয় এবং আমাদের বিরিয়ানি। তারপরে বলুন এই ফুচকা। তারপরে আমাদের পেঁয়াজু। এই নানা ধরনের আমাদের আইটেম আছে। চিকেন কাবাব এগুলো দেখে উনারা মুখরিত রুচি অনেক সুস্বাদু খাবার টেস্ট পায় উনারা।
বিদেশে দেশি খাবারের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। সত্যিই কি তাই? কেন? এ সম্পর্কে নিউটন বড়ুয়া বলেন।
একজ্যাক্টলি সেটা বলতে গেলে আমাদের দেশে মনে করেন পর্যাপ্ত পরিমাণে মসলা দিয়ে সবকিছুই বানানো হয়। আর আমরা সেই রকমভাবে এখানে জেনুইন মসলাটা আমরা একজ্যাক্টলি পাচ্ছি না। সেইজন্য আর কি। মানে একটু তো ডিফারেন্ট বল থাকবেই।
মানে মসলার পার্থক্যের জন্য এটা হয় বলছেন।
হয়তো। আমি তো আশা করি এটাই। কারণ অনেক কিছু হয়তো পাওয়া যায় না সেই বিধায় আরকি।
লাকেম্বা নাইটসে অংশ নিতে লেনকোভ থেকে এসেছেন জয়শ্রী। হ্যালডন স্ট্রিটে একটি স্টলের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি অপেক্ষা করছিলেন চিকেন ইন রুমালি রুটির জন্য। ইওর নেম প্লিজ।
হাউ ইজ দিস লাকেম্বা নাইটস?
ভেরি ভেরি গুড। ওয়েল অর্গানাইজড, ইজি টু নেভিগেট। উই বিন কামিং ফর এ ফিউ ইয়ার্স নাউ।
সো আই ক্যান সি ইউ, ইউ আর অন দ্য কিউ। সো হোয়াই আর ইউ ওয়েটিং ফর?
ওয়ে ওয়েটিং ফর দ্য চিকেন ইন দ্য রুমালি রুটি। ভেরি গুড।
আরেকটি স্টলের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ান শ্রিয়। তিনি জানালেন, তিনি রোজা আছেন আর এখানে অনেক হালাল ফুড পাওয়া যায়। সেজন্য এখানে আসেন তিনি।
ফর দ্য রমাদান ফেস্টিভ্যাল হিয়ার, বিকজ দেয়ার আর আ লট অফ হালাল ফুডস হিয়ার। সো আই এম ফাসটিং, আই এম ট্রাইং টু ব্রেক মাই ফাসটিং আফটার দিস। অ্যান্ড দেয়ার ইজ আ লট অফ ফুড অপশনস।
সিয়েরা লিওনের নিকোলাস দাঁড়িয়ে ছিলেন মরক্কান খাবারের একটি স্টলের সামনে। গত চার বছর ধরে ল্যাকেমবা নাইটস এ আসছেন সুহা ইসলাম শায়া।
ইয়া ইটস বিন লাইক ফোর ইয়ার্স উই আর কামিং।
ইট জাস্ট লাইক রিয়েলি প্রিটি অ্যান্ড লাইক দের ইজ লাইক আ ফেমাস কোনাফা। সো উই জাস্ট লাইক টু উইদাউট দ্যাট ইট ডাজন্ট ফিল লাইক রমজান।
আপনি তো বাংলাদেশি পরিবার না?
এখানে খাবার অনেক ভালো। লাইক অনেক খাবার পাওয়া যায় অ্যান্ড ইটস রিয়েলি গুড লাইক।
মানে আপনি স্টলের যে স্ট্রিট ফুড এটার কথা বলছেন, হেলন স্ট্রিটে।
সব স্ট্রিট ফুড অ্যান্ড অল দ্যাট, ইয়া। লাইক ইয়া ইটস মাই বার্থডে। আজকে আমার জন্মদিন, সো উই কেম।
এখানে যে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টগুলো আছে সেখানে কখনো গিয়েছেন?
সমটাইম আসা হয়, হ্যাঁ। এখানে আসা হয় সমটাইম।
তো আমাদের যে বাংলাদেশি কালচার আর অস্ট্রেলিয়ান মেইনস্ট্রিম কালচার এই দুটো কম্পেয়ার করতে বললে কিভাবে করবেন? বা আপনি কিভাবে এটাকে আপনে মেইনটেইন করে চলেন?
ওয়েল, লাইক দুইটাই আমার কালচার। সো ইটস নট লাইক আমি জাস্ট একটা ফলো করি। আমি দুইটাই ফলো করতে অনেক পছন্দ করি অ্যান্ড লাইক দে বোথ আর রিয়েলি ক্লোজ টু মি। কজ আই এম লিভিং হিয়ার। সো লাইক আই শুড মেইনটেইন লাইক আমার এখানে কালচার মেইনটেইন করা দরকার। এন্ড অলসো লাইক আই ডিড নট, আমি বাংলাদেশের কালচার ভুলে যাই না। আমি স্টিল এটা কন্টিনিউ করি। যখন ঈদ আসে অথবা কারো বাসায় দাওয়াত খাইতে হয়, লাইক যাইতে হয়। সো ইয়া, আই রিয়েলি এনজয় বাংলাদেশি কালচার।
আপনি খুব সুন্দর বাংলা বলেন। তো এটা চ্যালেঞ্জিং লাগে না? কখনো মনে হয় না যে বাবা মা অনেক বেশি কন্ট্রোল করতে চায়?
না, না। লাইক আমার বাংলা বলতে অনেক ভালো লাগে। আমি এখানে আসছি। সো ইটস লাইক আমার একটু বাংলা এখন আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছি। বাট বাসায় বলা হয়, এর জন্য ভুলি নাই এখনো। বাট ইয়া, অ্যান্ড ইংলিশে তো ডেইলি কথা হয়। সো আই এম রিয়েলি গ্ল্যাড দ্যাট লাইক আই ক্যান টক লাইক ইন বাংলা অ্যাট হোম। সো ইয়া।
রমজান মাসে ল্যাকেম্বাকে এখানকার মুসলমানদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করেন লেখক আরিпециаুর রহমান।
এই মাসের জন্য সারা সিডনির মুসলিমদের জন্য এটা একটা প্রাণকেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়াইছে। তার কারণ হলো সন্ধ্যা হওয়ার পরেই অসংখ্য অসংখ্য মানুষ, প্রায় হাজার হাজার জনতা ভিড় করে আমাদের এই হেলন স্ট্রিটে। যেটা অসংখ্য খাবার থাকে। অসংখ্য ধরনের বিভিন্ন দেশের সুস্বাদু খাবারে ভরপুর থাকে সেখানে। সবাই আসে সেখানে ইফতার করতে, আড্ডা দিতে, মজা করতে। এখন সেইজন্যই আমি বললাম যে এটা এক ধরনের ঈদের আমেজ তৈরি হয়ে গেছে।
এটা রাত দুইটা তিনটা পর্যন্ত আমি দেখি, যে এরকম মানুষের আনাগোনা থাকেই।
আরিফুর রহমান ল্যাকেম্বাতেই বসবাস করেন।
আমার ল্যাকেম্বাতে আমি বসবাস করি প্রায় নয় বছর যাবত। আমি এখানেই থাকি। এখানেই আমার বাসা। এখানে মানুষের আনাগোনা তো এমনি থাকেই। আপনি জানেন। এখানে বাঙালিরা সপ্তাহে একদিনের যারা দূরে থাকে তারাও কিন্তু একদিনের জন্য এখানে এসে উকি মারে। এখানে এসে আড্ডা মারে। এখানে এসে হয়তো এক কাপ চা খেয়ে যায়। এটাই হলো ল্যাকেম্বার প্রাণ। আমরা একটু বাংলাদেশের ভাইবটা এখানে বসে এখানে মানুষের সাথে কথা বলে অনায়াসে নিতে পারি, বাংলাদেশের সেই কালচারটা।
ল্যাকেম্বা নাইটস উপলক্ষে রমজান মাসে ব্যাপক জনসমাগমের ফলে নাগরিক জীবনে কিরকম অসুবিধা হয় সে সম্পর্কে তিনি বলেন।
এটা এটা একটা বিশাল অসুবিধার জায়গা হয়ে দাঁড়ায়ছে এবং অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় দাঁড়াইছে। আমরা যারা আশেপাশের মানুষ বসবাস করি, এটা আমাদের জন্য এক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হইতে হয়। কারণ আমরা পার্কিং পাই না। দেখা যায় যে সন্ধ্যার পরে যখন এটা তো চারটা থেকে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তাঘাট। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে আমরা গাড়ি আমাদের নিজস্ব বাড়িতে ঢুকাতে পারি না। দেখা যায় যে আফটার অ্যাট নাইট থ্রি ও ক্লক তখন আমাদের গাড়ি ঢুকাইতে হয়। তো এই সমস্ত প্রবলেম তো আমাদের এখানে আছেই। আর যারা দূরদূরান্ত থেকে আসে এবং যারা এখানে ঘুরতে আসে অথবা এমনি প্রয়োজনে আসে যারা তারাও কিন্তু এখানে পার্কিংয়ের অভাবে তারা ফিরে যায়। এটা একটা বিশাল সমস্যা মনে করি।
আরিফুর রহমান মনে করেন ল্যাকেম্বা নাইটস এর সময় আরও কমানো উচিত।
তবে আমি মনে করি এটা আসলে চারদিন না হয়ে এটা আরও দিনটা আরও কমে আনা উচিত। আমাদের যারা আমরা এখানে বসবাস করি তাদের জন্য, তাদের সুবিধার জন্য।
আর একটা বিষয় হচ্ছে যে এখানে যে শোরগোল হয়, নয়েজ হয়, রোগী থাকতে পারে বা এমনি সাধারণ জীবনেও এর কিরকম প্রভাব?
নয়েজের প্রভাব প্রভাবটা হয়তো আমরা উপলব্ধি করি না। আপনি জানেন আমরা বাংলাদেশি। আমরা এই সবের সাথে আমরা ভীষণভাবে ইউজড টু, অভ্যস্ত। এটা অবশ্যই নয়েজ হয়। অসংখ্য মানুষের কথাবার্তা যখন একসাথে হয় তখন তো নয়েজ হবেই। এটা অন্যান্য দেশের যারা এখানে বসবাস করে তাদের জন্য এটা ভাবার বিষয়। তাদের জন্য বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এটা আমাদের অনেক ফ্রেন্ড যারা অন্যান্য দেশের আছেন তারা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন যে তারা এটা একটা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
ল্যাকেম্বায় একটি তৈরি পোশাকের দোকান পরিচালনা করেন মাসুদ পারভেজ ও তাম্মী পারভেজ দম্পতি।লাকেমবা নাইটস ইন রমাদানে লোকজনের বেশি আনাগোনা হয় বলেন ফ্যাশন ডিজাইনার তাম্মী পারভেজ।
এবং এই সময়ে প্রচুর লোক সমাগম হয় এখানে। এবং এটা আমাদের বিজনেসে অনেক প্রভাব পড়ছে। শুধু আমাদের বিজনেস না, আশেপাশে যেগুলো দোকান আছে। কারণ আমার মনে হয় সিডনি শুধু সিডনি না, সিডনির বাহিরের সিটিগুলো থেকেও লোকজন আসে। স্পেশালি লাকেমবা নাইটসটা দেখার জন্য এবং এখানে যে স্পেশাল ফুডগুলো থাকে সেগুলো এনজয় করার জন্য এবং তার সাথে সাথে তারা আমাদের শপেও আসে। তো আমরা নরমালি যে আমাদের ট্রেডিং আওয়ার যেটা সেটা আমরা
দশটা বা এগারোটা পর্যন্ত থাকে। কিন্তু এখন এত লোকজনের যেহেতু আসছে তো আমরা রাত দুইটা তিনটা পর্যন্ত খোলা রাখছি। দেখা যায় যে মনে হয় এত রাত পর্যন্ত লোকজন আসবে কিনা। কিন্তু আপনারা অবাক হবেন যে এত লোকজনের ভিড় থাকে। তো এই কারণে আমরা চাইলেও আমাদের শপটা বন্ধ করতে পারি না। কারণ প্রচুর লোকজন, বিভিন্ন কমিটির লোকজন। এটা এমন না যে শুধু বাংলাদেশীরাই আসে। বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকজন এখানে শুধু এই লাকেমবা নাইটসটা দেখতে আসে এবং যেহেতু আমার শপটা খুবই কাছাকাছি লাকেম্বার মাঝেই, তো এই কারণে আমাদের শপেও অনেক অনেক ভিড় থাকে।
তো আপনার এখানে কিরকম পণ্যের কিরকম প্রোডাক্টসের চাহিদা বেশি? মানে বাংলাদেশি বলেন বা অবাঙালি যারা তাদের কথাই বলেন। তো বিশেষত ঈদ উপলক্ষে সামনে ঈদ কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা বেশি?
আমাদের এখানে আসলে সব ধরনের পণ্যের চাহিদাই বেশি ঈদের সময়। যেহেতু আমরা বাঙালি, সালোয়ার কামিজ, শাড়িটাই বেশি আমরা প্রেফার করি। কিন্তু আমার এই শপে শুধুমাত্র মেয়েদের না ছেলেদের কালেকশন, পাঞ্জাবির অনেক রকমের কালেকশন রয়েছে। বাচ্চাদের কালেকশন রয়েছে মেয়ে বাচ্চা, ছেলে বাচ্চা এবং জুয়েলারি আমার পুরো দুটা সেকশন রয়েছে। অনেক রকমের জুয়েলারি যারা পুরা এখানে আসেন যাতে সালোয়ার কামিজ বা শাড়ির সাথে তারা ম্যাচ করে জুয়েলারিটাও নিতে পারেন। তো এই কারণে আমাদের সেটাও রয়েছে এবং শুধু বাঙালি না আমাদের এখানে কাফতানের কালেকশন রয়েছে, লং ড্রেস রয়েছে। যেহেতু আমরা এখানে মাল্টিকালচারাল একটা কমিটি মেইনটেইন করি, সো এখানে হচ্ছে লেবানিজ।
তারপর বাংলাদেশিরাও এখন কাফতান পড়ছে। কিন্তু মেইনলি এখানে অন্য ব্যাকগ্রাউন্ডের যারা তারাও এখানে আসেন লং ড্রেসটা এবং কাফতানের জন্য এজ এ ঈদ আউটফিট তারা এটাও নিচ্ছে। তো আমার মনে হয় যে এটা শুধু বাঙালি শপ না, এটা আপনি বলতে পারেন মাল্টিকালচারাল একটা স্টোর যেখানে সবকিছুই পাবেন আপনারা।
END OF TRANSCRIPT