এ বছরের মে মাসে সিরিয়া থেকে ১১ জন নারী এবং ২১ জন শিশু অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসে। ২০১৯ সালে আইএস গোষ্ঠীর পতনের পর থেকে এসব নারী ও শিশু উত্তর সিরিয়ার আল-রোজ আটকশিবিরে অবস্থান করছিলেন। রাজনীতিবিদ এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ফিরে আসা নারীদের সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে, অর্থাৎ ‘কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম’ বা সিভিই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে না।
পেটা লোয়ি ফ্রেনেসিস কনসালটিং অ্যান্ড ট্রেনিং-এর প্রধান পরামর্শক। প্রতিষ্ঠানটি সহিংস উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে কাজ করে।
তিনি আন্তর্জাতিক বিচার ও আইনের শাসনবিষয়ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবেও কাজ করেন।
এর আগে তিনি উত্তর সিরিয়ার আল-রোজ ও আল-হোল শিবির থেকে ফিরে আসা জনগোষ্ঠী নিয়ে ইরাকে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যে, কেউ শিবিরে কোন মতাদর্শ নিয়ে প্রবেশ করেছিল, সেটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সে কোন মতাদর্শ নিয়ে শিবির থেকে বের হয়েছে।
কারণ মতাদর্শ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
"কেউ কেউ আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে শিবিরে গিয়েছিল, কিন্তু পরে সম্পৃক্ত হয়েছে। আবার কেউ সম্পৃক্ত অবস্থায় গিয়ে পরে তা থেকে সরে এসেছে। তাই এক দশক আগে যা ঘটেছিল, সেটাই আজও তাদের বিশ্বদৃষ্টিকে নির্ধারণ করে— এমন ধারণাকে আমাদের চ্যালেঞ্জ করা দরকার।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম বিভাগের সহকারী সচিব অ্যালেক্সান্ডার গোল্ডি বলেন,
কারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবে এবং কারা সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন, তা মূল্যায়নের দায়িত্ব রাজ্য ও টেরিটরিগুলোর বিশেষজ্ঞ ও কেস ম্যানেজারদের।
তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম মূলত বিচ্ছিন্নকরণ বা ‘ডিসএনগেজমেন্ট’-এর ওপর গুরুত্ব দেয়।
আমরা মানুষের সমস্যাজনক আচরণ ও কার্যকলাপ থেকে তাদের দূরে সরিয়ে স্বাস্থ্যকর আচরণের দিকে নিয়ে যেতে চাই।
এসবিএস এক্সামিনস-এর এই পর্বে আমরা জানতে চেয়েছি— কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম’ বা সিভিই আসলে কী, এবং অস্ট্রেলিয়ায় এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়?
আমাদের অন্যান্য পর্ব শুনতে ভিজিট করুন sbs.com.au/sbsexamines





