জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব এবং আমাদের দেশেই ঘটে যাওয়া একটি সন্ত্রাসী হামলা - এগুলোই হচ্ছে 'দ্য সোশ্যাল স্কিজম' বা সামাজিক বিভাজন নিয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু। ফিচারটি এসবিএস এক্সামিনস এবং এসবিএস ইনসাইটের যৌথ উদ্যোগ।
এর আগের একটি পর্বে, আমাদের “এই সমাজের অংশ” হওয়ার অনুভূতি কমে যাওয়া এবং বিভাজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম: আমরা এখানে কীভাবে পৌঁছলাম?
এই পর্বে আমরা আরও সামনে তাকাতে চাই এবং প্রশ্ন করছি: এখন আমাদের পথ কোনদিকে?
২০২০ সালের শুরুর দিকে আমাদের ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি ছিল ৬৪ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা ৪৬ শতাংশে নেমে এলেও, আমাদের কমিউনিটিগুলোর মধ্যে এখনও আশার আলো রয়েছে।
স্ক্যানলনের সামাজিক সংহতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আমাদের অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি কমেছে। কিন্তু স্থানীয় কমিউনিটি, যেমন পাড়া-প্রতিবেশ ও তাদের স্থানীয় উদ্যোগগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের উৎস।
২০২৫ সালে, ৮২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন যে তাদের এলাকায় মানুষ প্রতিবেশীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকে, যা গত ১৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
এবং ৮০ শতাংশ বলেছেন, ভিন্ন জাতীয় বা জাতিগত পটভূমির প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে সিডনিভিত্তিক কমিউনিটি নেতা ওম ধুঙ্গেলের।
ওম ভুটান রাজ্য থেকে পালিয়ে ১৯৯৮ সালে শরণার্থী ও ছাত্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন।
বর্তমানে ওয়েস্টার্ন সিডনির ব্ল্যাকটাউনে বসবাসরত ওম বলেন, সেখানকার বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের মানুষরা সবার আগে ব্ল্যাকটাউনের বাসিন্দা।
তিনি এসবিএস এক্সামিনস এবং এসবিএস ইনসাইট-এর যৌথ উদ্যোগ The Social Schism অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জ্যানিস পেটারসনকে বলেন, “আমাদের দেখতে হবে কোন বিষয়গুলোতে সবার মধ্যে মিল আছে, তারপর সেই সাধারণ ভিত্তির মধ্য দিয়ে আমরা এগোতে পারি। এর পাশাপাশি আমরা আমাদের বৈচিত্র্য ও ভিন্নতাগুলোও নিয়ে অগ্রসর হই।”
পাকিস্তান থেকে ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আসা লেখক ও কৌতুকাভিনেতা সামি শাহ বলেন, ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ থাকতে আমাদের শিখতে হবে।
আমি এমন একটি সমাজ থেকে এসেছি, যেখানে আপনার পরিবারের প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাস ছিল ভিন্ন , কিছু ক্ষেত্রে বেশ চরমও। তবুও সবাই একসঙ্গে বসে রাতের খাবার খেতাম।সামি শাহ
মুসলিম কমিউনিটি নেত্রী হানা আসাফিরি বলেন, কঠিন আলাপের জন্য আরও বেশি প্ল্যাটফর্ম দরকার।
হানা বলেন, “আমরা সবাই এই বিভাজনমূলক, বিষাক্ত মাধ্যমে ডুবে আছি।
"আমাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি, এবং এটি হয়ে উঠেছে এখন অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য অন্যতম প্রধান সংবাদ উৎস।"
ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার আরও মেরুকরণের দিকে ধাবিত করে বা চরমপন্থী মতামতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করতে পারে।
চিক নামের একটি মিডিয়া কোম্পানি পরিচালনাকারী হান্নাহ ফার্গুসন বলেন, সরকারের উচিৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর “ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার” আইন প্রয়োগ করা, যাতে চরমপন্থী ও ঘৃণামূলক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা বাধ্যতামূলক করা হয়।
তিনি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও আরও কঠোর আইন দেখতে চান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়তে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
বি: দ্রঃ আপনি “দ্য সোশ্যাল স্কিজম”-এর পূর্ণ পর্ব দেখতে পারবেন, যা এসবিএস এক্সামিনস এবং এসবিএস ইনসাইটের যৌথ প্রযোজনা, এসবিএস অন ডিমান্ডে। এতে আরবি, ম্যান্ডারিন, ক্যান্টনিজ, কোরিয়ান ও ভিয়েতনামি ভাষায় সাবটাইটেল রয়েছে। আরও জানতে ভিজিট করুন: https://www.sbs.com.au/language/english/en/sbs-examines
নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে দেখুন এ নিয়ে নির্মিত ভিডিও তথ্যচিত্র
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
এই লিঙ্কে ক্লিক করে নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
Read more about SBS’s use of AI




