সিকদার তাহের আহমদ: সিডনির ওয়াইলি পার্কে গত ১১ই এপ্রিল, ২০২৬, শনিবার অনুষ্ঠিত হলো গাঙচিল মিউজিক বৈশাখী মেলা। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন।
সিকদার তাহের আহমদ: সিডনির ওয়াইলি পার্কে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলায় ছিল ব্যাপক জনসমাগম। পার্কিংয়ের জন্য হিমশিম খাচ্ছিলেন মেলায় আগত পরিবারগুলো। এগারই এপ্রিল, দুই হাজার ছাব্বিশ, শনিবার বিকাল থেকে রাত অবধি এতে যোগ দেন ছোটবড় সকলেই। এই মেলায় ছিল দেশীয় পোশাক, শাড়ি, চুরি, কসমেটিকস সহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল। আরও ছিল চটপটি, ফুচকা, পিঠা ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিভিন্ন স্টল। আর শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইড। সাংস্কৃতিক পর্বে এতে অংশ নেন বিভিন্ন শিল্পী ও পরিবেশক। মেলায় আগত কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়।
সিকদার তাহের আহমদ: এসবিএস বাংলায় আপনাকে স্বাগত মামুন ভাই। কেমন লাগছে এই মেলা?
অনেক ভালো লাগছে। একটা দেশি ফ্লেভার পাচ্ছি এখানে। আমি আগেরবারও এখানে এসেছি। এখানে আসলেই মনে হয় যে আসলে বাংলাদেশে আবার ফেরত গেলাম। তবে বাংলাদেশে থাকতেও বৈশাখী মেলা অনেক গিয়েছি। বাট বাংলাদেশের ফ্লেভার তো অন্যরকম। ওটার সাথে কম্পেয়ার করা যাবে না। বাট তারপরও সিডনির এই পরিবেশ, এই ওয়ালি পার্কের এই মেলাটা আমি সবসময় চাই অ্যাটেন্ড করতে। এটা আমার খুব ভালো লাগে।
সিকদার তাহের আহমদ: এখানে তা দেখছি যে আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে এসেছেন। ছোট বাচ্চাও আছে। তো বাচ্চাদের রাইড বা এমনি যে খাবারের স্টল বা অন্যান্য যে দোকানগুলো এই বিষয়ে কিছু বলবেন?
হ্যাঁ, এখানে খাবারের স্টলগুলো অনেক সুন্দর। আমরা চটপটি তারপরে স্যুপ খেয়েছি। বাট তারপরে আরও যে চিপসের দোকান এবং দেশীয় যে খাবারগুলো এখানে ভেলপুরি তারপরে হচ্ছে আপনার পুরি, সমোচা এগুলো যে দেশীয় খাবারগুলো এগুলো সব এখানে আছে। তো এখানে আসলেই এই খাবারগুলো খুব এনজয় করি সত্যিকার অর্থে।
সিকদার তাহের আহমদ: আর কিছু বলবেন?
এতটুকুই বলব যে সবাইকে আমি চাই সবাই এখানে আসুক। এখানে আসলে আমরা যারা বাংলাদেশি আছি এটা আসলে আমার কাছে মনে হয় যে বাংলাদেশের একটা মিলনমেলা। একটা ছোট্ট বাংলাদেশ। তো আমি চাই বারবার এখানে ফিরে আসতে এন্ড লাভ ইট ভেরি মাচ।
সিকদার তাহের আহমদ: প্রবাসী সাংবাদিক নাঈম আব্দুল্লাহ বলেন:
আসলে আমরা আজকে আসছি গাঙচিল মিউজিকের জমকালো বৃহৎ বৈশাখী মেলায়। এই বৈশাখী মেলা অত্যন্ত আপনার জনপ্রিয় এবং এই বৈশাখী মেলায় আপনি দেখেন যে অনেক ধরনের মানুষ আসে আমাদের কৃষ্টি এবং কালচারকে সমৃদ্ধ করার জন্য, তাদের বাচ্চাদেরকে কৃষ্টি এবং কালচার শেখানোর জন্য, বোঝানোর জন্য। আমাদের এই আয়োজনে আমরা গর্বিত যে আমরা সিডনিবাসীরা এই প্রতি এক বছর এই আয়োজনের জন্য আমরা বসে থাকি আমাদের বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে আসার জন্য। যাতে করে আমরা বাংলাদেশি কমিউনিটিকে বাংলার ঐতিহ্য, পহেলা বৈশাখের যে আমাদের ঐতিহ্য আছে এগুলা বোঝানোর জন্য।
সিকদার তাহের আহমদ: ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন:
আমি জাহাঙ্গীর, ফটোগ্রাফার। আমিও আসলে আসছি এই মেলা কাভার করার জন্যে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। ফটোগ্রাফি হচ্ছে তো আলোর খেলা। সো আমি আমার বেস্ট ট্রাইটা করব।
সিকদার তাহের আহমদ: সবসময় আসেন?
আমি মূলত কমিউনিটি প্রোগ্রামগুলিতে আসি। যখন যে ডাকে তার সাথেই সাড়া দেই।
সিকদার তাহের আহমদ: এখানে কি এবারই প্রথম না আগেও আসতেন?
না, আমি মেলা আগেও কাভার করছি। এখন তো অনেক সংগঠন মেলা করে। এই সংগঠনের মেলাও আমি আগে করছি, অন্য অন্য সংগঠনগুলিও করছি।
সিকদার তাহের আহমদ: প্রায় সাতাশ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন জনাব শাহীন। এই মেলায় এসবিএস এর ফটো বুথ না থাকায় অনুযোগ প্রকাশ করেন তিনি।
আমার নাম শাহীন ভাই। আমি সিডনিতে থাকি। তো সাধারণত সব মেলায় আমি যাই। তো মোটামুটি ভালোই লাগতেছে। আজকে মেলায় আসছি আমরা বাঙালি যারা বন্ধু মন্ডলী অনেকদিন দেখা হয় না। মোটামুটি ভালোই লাগতেছে। কিন্তু তারপরও দেখা গেছে এসবিএস এর যে আপনারা একটু ছবি উঠাইছেন, বুথও এটা করেন নাই। এজন্য একটু স্যাড। আদারওয়াইজ মোটামুটি ভালোই লাগতেছে আরকি।
সিকদার তাহের আহমদ: মেলায় আগত জাহিন বলেন, বিদেশে এসে যদি বাংলাদেশি কালচারের সঙ্গে থাকা যায় এটা ভালো।
সিকদার তাহের আহমদ: আচ্ছা, এসবিএস বাংলায় আপনাকে স্বাগত।
সিকদার তাহের আহমদ: কেমন লাগছে মেলা?
ভালো। এই বিদেশে এসে যদি বাংলাদেশি কালচারের সাথে একটু থাকা যায়, ইটস গুড। এটা ভালো।
সিকদার তাহের আহমদ: সবসময় আসেন?
সিকদার তাহের আহমদ: বাংলাদেশে যে মেলা হয় আর এই অস্ট্রেলিয়ায় মেলা কিরকম মিল অমিল?
আমার মনে হয় বাংলাদেশের মেলা থেকে মানুষজন অস্ট্রেলিয়ার মেলা নিয়ে বেশি এক্সসাইটেড থাকে। কারণ এখানে তো অকেশন অনেক কম থাকে। সেজন্য সবাই চায় একটু আসতে। এই আমাদের কালচারটাকে দেখতে, বাচ্চাদেরকে দেখাইতে যে এটা আমাদের একটা ঐতিহ্য, কালচারের একটা পার্ট।
সিকদার তাহের আহমদ: বৈশাখি মেলা হলেও এতে অবাঙালিদের স্টলও ছিল। পাকিস্তানি অস্ট্রেলিয়ান ওকাস নাঈম বলেন:
সিকদার তাহের আহমদ: উইমেন কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়া এবং গাঙচিল মিউজিকের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই মেলার সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন টাবু সঞ্জয়। এসবিএস বাংলাকে তিনি বলেন:
ধন্যবাদ আপনাকে এসবিএসকে আজকে আসার জন্য আমাদের মেলায়। আপনারা আসছেন আমরা খুব আনন্দিত।
সিকদার তাহের আহমদ: তো আপনি এবারের মেলার আয়োজন সম্পর্কে আমাদেরকে আর একটু বলবেন?
এই মেলার আয়োজন গত এটা আমরা তৃতীয় বছর যাচ্ছে। গত দুই বছর আমরা খুব সাড়া পেয়েছি এখানে। আমাদের বাঙালি এবং সবাই এখানে আসলে যারা আছে সারা সিডনির মানুষ, কমিউনিটি এবং আমাদের মেলাটার প্রধান, প্রধান এই কি বলব, প্রধান হচ্ছে থিম হচ্ছে আমরা ঘাসে বসে চটপটি খেয়ে আকাশ দেখব। আমরা কোন কংক্রিট বা টিনের ছানিতে আমরা বৈশাখী মেলা করব না। বৈশাখী মেলা আমরা কি আউটডোর।
আমরা ঘাসে করব, বাইরে করব।
সিকদার তাহের আহমদ: এইজন্যেই ওয়াইলি পার্কে।
ও এইজন্য ওয়াইলি পার্কে। আমরা দীর্ঘদিন, আপনি জানেন কোভিডের পর কোনো বৈশাখী মেলা আউটডোর হচ্ছে না। আমরা এটা পদ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা বাইরে করব। আমরা ঘাসে করব।
সিকদার তাহের আহমদ: এখন পর্যন্ত আবহাওয়া নিয়ে আর কোনো সমস্যা হয় নি?
আমাদের এই তিন বছর আজকে পর্যন্ত কোনো আবহাওয়ার সমস্যা হয় নি।
সিকদার তাহের আহমদ: তো, আগামী বছরও এখানেই?
এখানে করব আমরা। আমরা সবসময় ঘাসে বা ওপেন করব। বৈশাখী মেলা হচ্ছে বাইরে। বৈশাখী মেলা ইনডোরে না। বৈশাখী মেলা হচ্ছে সব সময় ঘাসে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, চটপটি, ফুচকা খাওয়া, সবার সাথে কথা বলে দেখা করা। এইটাই বৈশাখ।
সিকদার তাহের আহমদ: আপনাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একটু বলেন।
আমরা গাঙচিল মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন। এটা গাঙচিল মিউজিক আমরা অনেক দিন থেকে আমরা এখানে সিডনিতে করে আসতেছি। আমরা বেসিক্যালি মিউজিক ব্যাকগ্রাউন্ডেড। আমরা বিভিন্ন বাংলাদেশি শিল্পী আনি। আমরা লোকাল অনুষ্ঠানও করে থাকি। বাট আমরা বৈশাখী মেলাকে গত তিন বছর ধরে ইনক্লুড করেছি আমাদের সাথে, বৈশাখী মেলা। আমাদের বাংলা কালচার হচ্ছে আমাদের মেইন, আমাদের শিকড়, আমাদের কৃষ্টি। এটা আমরা সব সময় পালিত করব।
সিকদার তাহের আহমদ: এবারের মেলা উপলক্ষে কি কাউকে এনেছেন? নাকি স্থানীয়রা গান করবেন?
আমরা প্রথম যখন মেলাটা শুরু করি তখন আমাদের একটা সবাই একটা মিলিত একটা সম্মতির সবার থেকে আমরা সব সময় লোকাল আর্টিস্টদেরকে নিয়ে আসব। আমরা বাইরে থেকে আনব না। কারণ আমরা লোকাল আর্টিস্ট আমরা মনে করি অনেক ভালো ভালো আর্টিস্ট এখানে আছে। তাদেরকে সুযোগ দেওয়া উচিত। সব লোকাল আর্টিস্ট সব সময়। আমরা এই মেলায় বাইরের শিল্পী আমরা আনব না। ওভারসিজ। শুধু লোকাল যারা শিল্পী, শিশু অবশ্যই বেশি আমাদের এখানে। আর লোকাল যারা মিউজিক করে আসছে অনেকদিন থেকে, কালচারের সাথে জড়িত, বাংলাদেশ কালচারের সাথে, তাদের সাথে আমরা তাদেরকে সবসময় ইনভাইট করব এখানে। এটা আমাদের প্রথম।
সিকদার তাহের আহমদ: শেষ প্রশ্ন, যে এগুলো করতে তো টাকা পয়সা লাগে। তো এটা তো ফ্রি এন্ট্রি, তাই না? তো আপনারা কিভাবে এগুলো ব্যবস্থা করেন?
এটা যখন আমরা মেলাটা করার প্রথমে প্রস্তুতি নিই তখন আমাদের সবার কন্ডিশন হচ্ছে, না ফ্রি এন্ট্রি করব। কারণ বৈশাখী, এখানে আমরা কোনো টাকা নেব না। কারণ আমাদের এটা বৈশাখ আসলে সবাই এনজয় করে। সবাই এখানে আসতে চায়। এটা আমাদের মানে আমাদের সাথে, রক্তের সাথে জড়িত বৈশাখ। এখন এটা আমরা নববর্ষ আমাদের প্রধান একটা উৎসব। আমরা এজন্য এটা কোন এন্ট্রি ফি নেব না। এটা তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই। এবং এটার যে আপনি বললেন ভালো একটা, কিভাবে আমরা করি? এত অর্থ যোগান করি, মাঠে করি এত। এখানে আমাদের অনেক বিজনেসম্যান বাংলাদেশি যারা তারা আমাদেরকে হেল্প করে। এবং তারা এটা শোনার পরে তারা খুবই আনন্দে ও খুশি। আমরা কোনো পাস রাখি না, এন্ট্রি ফি রাখি না এবং আমরা লোকাল শিল্পী দিয়ে করব। সব লোকাল ফুড এবং সব লোকাল কালচারের জিনিস থাকবে। তখন তারা বলে, ইয়েস আমরা অবশ্যই সাহায্য করব। তারা আমাদের এখানে সবাই আমাকে স্পন্সর করেছে এখানে বিজনেসম্যান। আমাদের মোটামুটি এখানে ভালো ভালো প্রতিষ্ঠান যারা সিডনিতে আছেন তারা আমাদের স্পন্সর করে।
সিকদার তাহের আহমদ: এসবিএস বাংলাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এসবিএস বাংলাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আজকে আসার জন্য, আমার ইন্টারভিউর জন্য। ধন্যবাদ।
সিকদার তাহের আহমদ: সিডনির ওয়াইলি পার্কে অনুষ্ঠিত গাঙচিল মিউজিক বৈশাখী মেলা নিয়ে প্রতিবেদনটি শুনলেন। সঙ্গে ছিলাম আমি সিকদার তাহের আহমদ।
END OF TRANSCRIPT