ক্রাউডস্ট্রাইক বিভ্রাট: কম্পিউটার বিপর্যয় কি এড়ানো সম্ভব?

Mass IT outage hits companies and infrastructure around the world

Jetstar passengers in Melbourne face crashed check-in computers Source: AAP / JAMES ROSS/EPA

সফটওয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ক্রাউডস্ট্রাইকের আপডেটের জেরে বিশ্বজুড়ে সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৫ লক্ষ উইন্ডোজ ডিভাইস সিস্টেম। হঠাৎ করে কম্পিউটারের পর্দা নীল হয়ে যাওয়া, যেটিকে বলা হচ্ছে, ‘ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ’, এর পরিপূর্ণ সমাধানে দু’সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলা হচ্ছে।


গত ১৯ জুলাই, শুক্রবার বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ডিভাইসগুলোতে বিপর্যয় দেখা দেয়। এসবিএস ওয়ার্ল্ড নিউজে সেদিন সন্ধ্যায় সংবাদ পরিবেশন করেছিলেন অ্যান্টোন এনাস। তিনি বলেন, গত চার দশক ধরে তিনি সংবাদ পাঠ করেন। কিন্তু, কম্পিউটারে বিভ্রাট দেখা দেওয়ায়, এ রকম সমস্যায় তিনি আগে কখনও পড়েন নি।

শুধু এসবিএস-ই নয়, বিশ্বজুড়ে আরও অনেক সম্প্রচারমাধ্যম এজন্য বিপাকে পড়ে।

আসলে কী ঘটেছিল সেদিন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়ার প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইক এর একটি অটোম্যাটিক আপডেটে ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার অচল হয়ে যায়। ফলে বিপর্যয় দেখা যায় ট্রান্সপোর্ট, রিটেইল, মিডিয়া এবং আরও বহু খাতে।

মাইক্রোসফট বলছে, উইন্ডোজ সফটওয়ার ব্যবহারকারী কম্পিউটারগুলোর মধ্যে শতকরা দুই ভাগেরও কম কম্পিউটার এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহলে এই বিপর্যয় এতটা ছড়ালো কেন?

আর-এম-আই-টি ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মার্ক গ্রেগরি বলেন, এই ১.৮ শতাংশ কম্পিউটার হলো এন্টারপ্রাইজ কাস্টোমার কম্পিউটার। সেজন্য জনজীবনে এত প্রভাব পড়েছে।

ম্যালওয়ার এবং সাইবার হামলা ঠেকানোর জন্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ক্রাউডস্ট্রাইক টুল ব্যবহার করেন। একটি অটোমেটিক আপডেটের কারণে এতে বিপর্যয় দেখা দেয়।

কম্পিউটারের পর্দা নীল হয়ে যাওয়া, যেটিকে বলা হচ্ছে ‘ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ’, এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি ‘রিকভারি বুট লুপ’।

ক্লাউড কম্পিউটিং-এর বড় যোগানদাতা, মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড-ও এতে আক্রান্ত হয়।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনির সেন্টার ফর সফটওয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটি প্র্যাকটিস-এর ডাইরেক্টর, ড. ডেভিড গ্লান্স এসবিএস নিউজকে বলেন, ব্যবহারকারীরা কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই, তাদের ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য ক্রাউডস্ট্রাইকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব কম্পিউটিং-এর অনারারি লেকচারার টম ওয়ার্থিংটন বলেন, তিনি আশ্চর্য যে, সিকিউরিটি আপডেট করার আগে ক্রাউডস্ট্রাইক কেন সমস্যাটি চিহ্নিত করতে পারলো না।

মিস্টার ওয়ার্থিংটন আরও বলেন, কোনো বিশেষ সফটওয়ারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়; বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত।

অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর গ্রেগরি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফলতির ফলে এ রকম পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

ড. গ্লান্স বলেন, সফটওয়ারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই কোনো একটি সরবরাহকারীর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকে। তাই, কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প কোনো উপায় আর থাকে না।

তিনি বলেন, সফটওয়ার প্রডাক্টটির ব্যবহার যতো বেশি ব্যাপক হবে, এতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তার কুফলও ততোটাই ব্যাপক হবে।

বেশ কিছু সুবিধার কারণে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রাউডস্ট্রাইক ব্যবহার করে থাকে। এটি ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে ব্যবহারোপযোগী, এটি বেশ কার্যকরী এবং বৃহৎ সংখ্যক কর্মীরা জানে এটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।

কিন্তু, ১৯ জুলাই, শুক্রবারের সফটওয়ার বিভ্রাটের ঘটনায় এটা পরিষ্কার যে, ছোট্ট একটি সমস্যার কারণে কয়েক মিনিটেই বিশ্ব জুড়ে দ্রুত বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

টম ওয়ার্থিংটনও মনে করেন, একটি মাত্র যোগানদাতার ওপর নির্ভর করাটা সুবিবেচনার কাজ নয়। তা সেই যোগানদাতা প্রতিষ্ঠান যতো সুখ্যাতই হোক না কেন।

টম ওয়ার্থিংটন আরও বলেন, বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সর্বদাই বিকল্প ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা। তার মতে, প্রস্তুত থাকাটাই এক্ষেত্রে মূল কথা।

২০২৩ সালে ইউ-এস ফেডারাল ট্রেড কমিশন ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে মানুষের কাছে মতামত জানতে চায়।

মাইক্রোসফট বলে যে, প্রতিযোগিতামূলক বাজার রয়েছে। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বি কোম্পানি গুগল বলে যে, মাইক্রোসফটের লাইসেন্স ব্যবস্থা এ রকম যে, তাদের গ্রাহকগণ মাইক্রোসফট ছাড়া অন্য কোনো ক্লাউড প্রভাইডারের কাছে যেতে পারে না।

মার্ক গ্রেগরি বলেন, অস্ট্রেলিয়ান গভার্নমেন্টের প্রতি তিনি আহ্বান জানাচ্ছেন যে, টেক কর্পোরেশনগুলো যেন মিনিমাম পারফর্মেন্স স্ট্যান্ডার্ড-এর বাস্তবায়ন করে।

আর, সবাইকে সতর্ক করে ড. গ্লান্স বলেন, তিনি এটিকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করেন না।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।

আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ, আমরা আমাদের প্লাটফর্ম বিস্তৃত করছি। এসবিএস সাউথ এশিয়ান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য।

এসবিএস বাংলা টিউন করুন এসবিএস অন ডিমান্ডে সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায়। দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য ভাষায় সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি শুনতেও অন ডিমান্ডে টিউন করুন।

এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুনএসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.

আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।


Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now