সিকদার তাহের আহমদ: পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারগণ কিভাবে সুস্থ থাকবেন, এ নিয়ে এখন আমরা কথা বলছি জিপি ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবার সঙ্গে। [মিউজিক] ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা, এসবিএস বাংলায় আপনাকে স্বাগত!
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: জি, আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা। আসসালামু আলাইকুম সবাইকে।
সিকদার তাহের আহমদ: ওয়ালাইকুম আসসালাম। শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। শরীর সুস্থ রাখার জন্য রোজাদারদের কিরকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে?
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: হ্যা, এটা আসলেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। আপনারা সবাই জানেন যে, পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে, আর সবাইকে রমজান মাসের শুভেচ্ছা। আর রমজান মাস সংযমের মাস। এখানে আমাদের খাওয়া দাওয়ায় একটা সংযম হয় এবং আমরা যেটা উপবাস করি ভোর থেকে আপনার সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এখন যেহেতু অস্ট্রেলিয়ায় গ্রীষ্মকাল, দিন বড়, এখানে আমরা কিছু বিধি মেনে চলব অবশ্যই, খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে। যেমন, আমরা যখন আমাদের ফাসটিংটা ব্রেক করব, তখন অবশ্যই আমরা পানি খাব এবং পানির পরিমাণটা একটু বেশি রাখব। আপনি মনে হচ্ছে যে এটা অনেক বেশি কিন্তু একটু যদি ভাগ করে আমি দেখাই, যেমন, আমরা যখন ইফতার করছি, ওই সময় যদি দুই গ্লাস পানি খেয়ে নেই, এরপরে ইফতার শেষে দুই গ্লাস খেয়ে নিলাম। তারপরে আমরা একটু পরে একটু রাত করে আবার দু গ্লাস পানি খেলাম এবং শোয়ার সময় দুই গ্লাস পানি খেলাম। সেহরিতে যখন উঠব, উঠে আমরা দুই গ্লাস পানি খেতে পারি এবং সেহরি খেয়ে দুই গ্লাস পানি খাব। আমরা যদি এটা মেইনটেন করি, একটু এদিক ওদিক হলে সমস্যা নাই, কিন্তু চেষ্টা করা উচিত। তাহলে আমরা ডিহাইড্রেটেড হব না, আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিবে না। এটা যেমন গেল পানির কথা, আরেকটা কথা হচ্ছে খাওয়া দাওয়া। আমরা কি এটা একটা নিশ্চয়ই আপনার পরবর্তী প্রশ্ন হবে যে, খাওয়া দাওয়াটা আমরা-
সিকদার তাহের আহমদ: হ্যা, ভাজা পোড়া খাবার তো আমাদের বেশি খাওয়া হয়।
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: ভাজা পোড়া খাওয়া অবশ্যই খুবই মুখোরোচক এবং আমাদের খুবই ভালো লাগে খেতে। কিন্তু এটা খেলে কি হবে? ফার্স্ট অফ অল, আমাদের গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি বেড়ে যেতে পারে, ফাস্টিং এর পরে যদি ভাজা পোড়াটা খাই। আরেকটা জিনিস হবে যে, এই ভাজা পোড়া খাওয়াতে ক্যালরি অনেক বেশি থাকে। একটা বেগুনি বা একটা পেয়াজু বা একটা আলুর চপ যেগুলো ডুবো তেলে ভাজা হয়, এগুলোতে ক্যালরি অনেক বেশি থাকে, প্রায় একশ ক্যালরি থাকে। এবং এভাবে করে একটা একটা একটা করে যদি আমরা খেতে থাকি, একটা পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায় যে, প্রায় এক হাজার ক্যালরি আমরা কনজিউম করে ফেলি ইফতারের সময়। এটা যাতে আমরা এই সংযম করতে পারি-- আসলে সংযমের মাস, সবকিছুতেই সংযম। তো এটাতে আমরা কি করতে পারি? রিপ্লেস করতে পারি অন্য খাবার দিয়ে। যেমন, আমরা খেজুর রাখতে পারি। খেজুরে ক্যালরি অনেক কম, একটা খেজুরে আপনার টুয়েন্টি ক্যালরি থাকে। তারপরে আমরা কি খেতে পারি? যেমন, চিরা দিয়ে আমরা কিছু খাবার তৈরি করতে পারি, চিরা, কলা এসব দিয়ে। তো ওটা আমাদের পেটও ভরাবে, ক্যালরিও কম এবং পেট ঠান্ডা রাখবে, গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি হবার সম্ভাবনা কম থাকে। এরপরে আমরা অন্য কিছু খেতে পারি, যেমন খিচুড়ি বা ভাতে চলে যাওয়া যায়। আমি বলছি যে, ভাজা পোড়াটা একদম না রাখাই ভালো হবে। এরপরে আমি বলতে চাচ্ছি যে, আমাদের এই অভ্যাসের মধ্যে কি থাকে? দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যে আমরা এক্সারসাইজ করি। দিনের বেলা যখন আপনারা ফাস্টিং করেন, ওই সময়টায় এক্সারসাইজ বলতে শুধু হাঁটা, হাঁটতে পারেন, নরমাল হাঁটা বা একটু জোরে হাঁটা। কিন্তু আমি বলব, বিগোরাস এক্সারসাইজ যেটা করা, ট্রেডমিল বা ওই ধরনের বা ওয়েটলিফ্টিং, এগুলো না করাই ভালো। দৌড়ানো, হালকা জগিং করতে পারেন। তবে জোরে দৌড়ানো যেটা আপনার
শরীরের উপরে কোন রকমের বেশি এফেক্ট করবে। যেহেতু আপনি খাচ্ছেন না, আমরা খাচ্ছি না, আমরা পানি খাচ্ছি না, আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব, ডিহাইড্রেটেড হয়ে যাব। ওই ধরনের এক্সারসাইজ না করাই ভালো।
সিকদার তাহের আহমদ: আমরা চিনির শরবত খাই বা কেউ কেউ হয়তো কোল্ড ড্রিংকস বা এই ধরনের যে পানীয় পান করেন। তো এ বিষয়ে কি বলবেন?
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: হ্যা, এটা আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। শরবত যেটা আমরা খাচ্ছি বা কোল্ড ড্রিংকস যেটা বলেন, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সুগার থাকে। তো আমরা যদি এটা দিয়ে আমাদের ইফতারটা শুরু করি, তখন দেখা যাবে কি সুগারের পরিমাণটা অনেক বেশি বেড়ে যাবে আমাদের শরীরে। সুগারের পরিমাণ যখন বেড়ে যাবে, আমাদের সেলগুলো, শরীরের সেলগুলো তখন কাজ করা শুরু করবে ওকে বার্ন করার জন্য। তখন কি হবে? আরও বেশি চাবে ক্যালরি আমরা খাই, ক্যালরি কনজিউম করি। তো অটোমেটিক্যালি আমাদের সেলগুলো টায়ার্ড হয়ে যাবে। তো এখান থেকে আমরা, আমি বলছি যে, সুগার যতটুকু পারা যায় বর্জন করাই ভালো। যেমন শরবত খেতে চাইলে একটু হালকা সল্ট দিয়ে আমরা কিছু পানি ইয়ে করতে পারি, যেটা স্যালাইনের মতো কাজ করবে। ওটা আমরা খেতে পারি। সুগারটা কম খাওয়া ভালো, অল্প পরিমাণ সুগার দেওয়া যায়। আর হচ্ছে, আমরা ন্যাচারালি কোন ন্যাচারালি আমরা কোন শরবত তৈরি করতে পারি, ন্যাচারাল প্রোডাক্ট দিয়ে। যেমন আমাদের এখানে অস্ট্রেলিয়াতে অনেক কিছু পাওয়া যায়, অ্যাপল, ম্যান্ডারিন, অরেঞ্জ যেগুলো জুসি, ওয়াটারমেলন, এগুলো দিয়ে আমরা জুস বানাতে পারি, শরবত বানাতে পারি। এগুলো খুবই হেলদি ফুড এবং এটা ন্যাচারাল সুগার কন্টেইন করে, এটা স্বাস্থ্যকর।
সিকদার তাহের আহমদ: তাহলে কি মিষ্টির বিষয়টি ও চলে আসে, যেমন জিলাপি বা মিষ্টি?
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: অবশ্যই, অবশ্যই। হ্যাঁ, মিষ্টির ব্যাপারটাও চলে আসে। আমরা যতটুকু পারব মিষ্টি পরিহার করারই চেষ্টা করব।... আমরা মিষ্টি খাবো, হচ্ছে মিষ্টি হচ্ছে ঐ যে ন্যাচারাল যেটা প্রোডাক্ট সুগারই। যেমন আমরা খেজুর খেতে পারি মিষ্টির পরিবর্তে, ওইটা আমাদের মিষ্টির যেটা ক্র্যাভিং থাকে, ওইটাও আমাদের ফুলফিল করবে প্লাস আমরা ঐ বেশি ক্যালোরিও কনজিউম করব না এবং এটা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটও। তো সবদিকেই এটা কাজে দিবে। এটা আমরা খেতে পারি মিষ্টির পরিবর্তে।
সিকদার তাহের আহমদ: মানে, বিষয়টি এরকম তো নয় যে, সারাদিন যেহেতু রোজা ছিলাম, উপবাস ছিলাম, তা এখন সেটা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমি দু চামচ চিনি দিয়ে শরবত খেলাম বা দুটো মিষ্টি খেয়ে ফেললাম, এরকম না?
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: না, এরকম না। আসলে এটা আবার বলছি যে, সুগার প্রথমে যদি আমরা খেয়ে ফেলি তখন আমাদের সেলগুলো কাজ শুরু করে দিবে, ক্যালোরি আমরা বেশি খাওয়ার চেষ্টা করব।
সিকদার তাহের আহমদ: মানে, এর বিপরীত হলে আমাদের শরীরের ক্ষতি হবে না, বরং আপনার আপনি যেটা বলছেন যে সেটাই স্বাস্থ্যকর। যে এর বিপরীত, আপনি যেটা বললেন যে চিনি কমিয়ে দিলে।
এটা আমরা সাধারণ মানুষের কথা বলছিলাম যে, পূর্ণবয়স্ক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যারা মোটামুটিভাবে সুস্থ, তাদের বিষয়ে এ আলাপটা এতক্ষণ ছিল। এখন আসি একটু মানে অন্যদের বিষয়ে যারা একটু কম বয়সী তারাও অনেক সময় শখের বসে বা ধর্মীয় কারণে কিশোর-কিশোরীরাও রোজা রাখেন এবং অতিবৃদ্ধ
যে তারাও উৎসাহে রোজা রেখে ফেলেন। তো অনেক সময়, তো আপনি একজন চিকিৎসক হিসেবে কি বলবেন যে,
এরকম ক্ষেত্রে যে তাদের কোন বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখা উচিত?
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: এটা আসলে বয়সের সময় সীমিতভাবে পার্টিকুলারলি নেইও। তা কিশোর-কিশোরী বলতে আমি একদম ছোট বাচ্চাদের রোজা রাখার ব্যাপারে আমি বলব যে, না রাখাই ভালো। গার্জিয়ানরা যাতে এই ব্যাপারটা সচেষ্ট থাকেন। কারণ বাচ্চারা হয়তো ওভাবে খায় না। ওরা সময়মতো খাচ্ছে না বা সময়মতো পানিও খায় না, সেহরি করতে পারে না। তো ওদের আমি বলব গার্জিয়ানরা এই ব্যাপারটায় সচেষ্ট থাকবেন। আর কিশোর-কিশোরী যারা রাখতে পারে তাদের ক্ষেত্রে আমি বলব যে, ফিজিক্যাল ফিটনেস একটা বড় জিনিস। তারা যদি ফিজিক্যালি ফিট থাকে, কোন রকমের আদার অসুখ বিসুখ না থাকে এবং কন্ট্রোল থাকে সবকিছু, তখন তারা রোজা রাখতে পারে। অবশ্যই গার্জিয়ান এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন তাদের যেন পানির ব্যাপারটা, তারা যেন পানিশূন্য না হয়ে পড়ে। রোজা রাখার সময় তাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, ওদের পানিশূন্যতা কিভাবে ওনারা বুঝবেন? যেমন জিহ্বাটা ড্রাই হয়ে আসবে, কথা একটু জড়ালো হয়ে যাবে, তারপরে চোখের চোখ পটোরে ঢুকে যাবে, স্কিন ড্রাই হয়ে যাবে। ওই সময়টায় রোজা ওনারা ব্রেক করতে পারেন, করে পানি খাওয়াবেন বাচ্চাদেরকে। এবং যদি রোজা রাখে তখন ওটাই ইফতারের পর থেকে যথেষ্ট পরিমাণ পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করা এবং পুষ্টিকর খাবার দাবার, ফ্রুটস এগুলো যেন ওদের খাদ্য তালিকায় থাকে। এবং আরেকটা জিনিস আমি অ্যাড করতে চাই, খাদ্য তালিকায় যদি একটি ডিম সিদ্ধ দিতে পারেন ইফতারের সময়, তাহলে কিন্তু পেটটাও ভরবে, ওর ক্যালোরিও বেশি না, সুগারও নেই এবং সবদিকে স্বাস্থ্যকর। তো এটাই বলব। আর বৃদ্ধদের ব্যাপারে আমি বলব, এটাও আসলে কোন বয়স সময় সীমা নেই। তারপরও ওনাদের অবশ্যই ফিজিক্যাল ফিটনেসটা দেখতে হবে। ওনারা যেন ফিজিক্যালি ফিট থাকেন এবং কোন অসুখ বিসুখ থাকলে অবশ্যই ওটা কন্ট্রোল থাকতে হবে, ঔষধের কন্ট্রোল থাকতে হবে। এবং আরেকটি বিষয়, ওনারা যদি ওনাদের যে যিনি জিপি আছেন বা চিকিৎসক আছেন, ওনার সাথে পরামর্শ করে ওনাদের ঔষধগুলোর টাইমিংটা ঠিক করে নিতে পারেন। এবং ঔষধের যদি ওনাদের ক্রনিক ডিজিজগুলো কন্ট্রোল থাকে তখন ওনারা রোজা রাখতে পারেন। কিন্তু ওটাই খাওয়া-দাওয়া এবং ওনাদের হাইড্রেশনের ব্যাপারটাও খেয়াল রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাবার যাতে খান এবং যাতে ডিহাইড্রেটেড না হয়ে পড়েন, রোজা রাখার সময়টিতে।
সিকদার তাহের আহমদ: এই যে নিয়মিত ঔষধ সেবনের বিষয়টি বললেন, এটা বৃদ্ধ ছাড়াও অন্য সব বয়সীদের জন্যই তো এটা প্রযোজ্য, তাই না? যে যাদের নিয়মিত কোন ঔষধ খেতে হয়।
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: হ্যাঁ, অবশ্যই। যাদের ক্রনিক ডিজিজ আছে, যেমন হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ বা অ্যাজমা, এই ধরনের যাদের ক্রনিক কন্ডিশন আছে এবং রেগুলার ঔষধ নিচ্ছেন, তো ওনাদের ঔষধগুলো ওনারা ঠিক করে নেবেন। খাওয়া যেগুলো খাওয়ার ঔষধ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওটা যাতে ইফতারের সময় এবং সেহরির সময় ওভাবে কিভাবে এটা ডোজটা মেইনটেইন করা যায়, যাতে ওভারডোজ বা লো ডোজ না হয়ে যায়, এটা চিকিৎসকরা ঠিক করে দেবেন। আর একটা হচ্ছে, যেমন অ্যাজমা পেশেন্ট, ওনারা কিন্তু অ্যাজমা পাম্প নিতে পারেন যেকোনো সময়ে। যা আমরা আসলে বলতে পারি না কখন অ্যাজমা অ্যাটাক হবে, কখন কাফ বা চেস্ট টাইটনেস বা হুইজ যেকোনো সময়ে হতে পারে কোন অ্যালার্জিতে। তো তখন ওনারা পাম্পটা ইউজ করতে পারেন এবং এতে কোন রকমের এই রোজার কোন ক্ষতি হবে না।
সিকদার তাহের আহমদ: এসবিএস বাংলা শ্রোতাদের উদ্দেশে আর কিছু বলবেন?
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: রমজান মাস সংযমের মাস, আর আমরা শুধু খাওয়া-দাওয়ায় সংযম করব না। আমরা দেখব আমাদের শরীর, আমাদের স্বাস্থ্যকে। আর আমরা সংযম করব আমাদের কথাবার্তা, আমাদের পোশাক-আশাকেও এবং এর মাধ্যমে আমরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার চেষ্টা করব।
সিকদার তাহের আহমদ: ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা, এসবিএস বাংলাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ডাক্তার শাহরিয়া সুলতানা জবা: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
END OF TRANSCRIPT