মূল বিষয়গুলো:
- জুয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতি থেকে শুরু করে মানসিক-স্বাস্থ্য সমস্যাও হতে পারে
- পরিবার ও বন্ধুরাও প্রিয়জনদের জুয়ার আসক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে সাহায্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে
- সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে
- প্রিয়জনকে কার্যকরভাবে সাহায্য করার জন্য পরিবার এবং বন্ধুদেরও নিজেদের সমর্থন পাওয়া জরুরী
অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার এর মাধ্যমে ২০২১ সালের সংগৃহীত তথ্য থেকে জানা যায়, প্রায় প্রতি তিনজন অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে একজন জুয়া সম্পর্কিত পণ্যের পেছনে অর্থ ব্যয় করে এবং অস্ট্রেলিয়ান প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শতকরা ৭.২ ভাগের জুয়ার আসক্তির কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জুয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি নানারকমের হতে পারে। যেমন: আর্থিক, আইনগত জটিলতা ও মানসিক ক্ষতি।
এগুলি কেবল আসক্ত ব্যক্তিকেই প্রভাবিত করে না, বরং তাদের পরিবার এবং সামাজিক পরিমন্ডলকেও প্রভাবিত করে।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্যালি গেইনসবারি বলেন, এই আসক্তির ধরণ মদ্যপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের মত দৃশ্যমান নয় বলে এটিকে মোকাবেলা করা আরও কঠিন হতে পারে।
সাংস্কৃতিক ও ভাষাগতভাবে বৈচিত্র্যময় (CALD) পটভূমি থেকে আসা মানুষদের মধ্যে জুয়াখেলার প্রবণতা বেশি নয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে জুয়া সম্পর্কিত ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি তাদের বেশি, এবং সাধারণ সম্প্রদায়ের মানুষদের তুলনায় এরকম সমস্যার সামনে পড়ার হারও তাদের ভেতরে অনেক বেশি।
নিউ সাউথ ওয়েলসের অফিস অব রেসপনসিবল গ্যাম্বলিং এর পরিচালক নাটালি রাইট বলেন, কারও কারও সংস্কৃতি জুয়া খেলার প্রতি তাদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

আরব বংশোদ্ভূত অ্যাডাম * ওয়েস্টার্ন সিডনির একজন বাসিন্দা। ২০১৪ সাল থেকে তিনি জুয়ার আসক্তি থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
প্রফেসর গেইনসবারি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাম্বলিং ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, এই চিকিৎসার জন্যে কেবল আসক্ত ব্যক্তিই নয়, বরং সেই সাথে তার পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপটের প্রতিও মনোযোগ দেয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক গেইনসবারি বলেন, অনেকেই আনুষ্ঠানিক সহায়তা লাভের পদ্ধতিগুলো ব্যবহারে সংকোচ বোধ করে থাকেন।
জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তি যে সমস্যার সম্মুখীন হন, তাঁর আত্মীয় বা বন্ধুরাও এগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন এবং তাঁদেরও সমর্থনের প্রয়োজন হয়।
অ্যাডামের ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের একজন সদস্য কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেটি বাকি সবার উপকারে আসে।

অ্যাডাম মনে করেন, গ্যাম্বলার্স অ্যানোনিমাসের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়াটা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
তবে একই সাথে তিনি বলেন, সবার জন্যে একই ব্যাপার ঘটবে এমনটা নয় কারণ প্রত্যেকেই আলাদা।
স্টেট-ভিত্তিক পরিষেবাগুলি ফোন, অনলাইন বা ব্যক্তিগতভাবে কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকে।
নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের পরিচালিত উদ্যোগ ‘দ্য নাম্বার দ্যাট চেঞ্জড আওয়ার লাইফ’ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের সাহায্য করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত তারাই সাহায্য পেতে পারে যারা জুয়ায় আসক্তির কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে তারা অনিশ্চিত।
নাটালি রাইট বলেন, নিউ সাউথ ওয়েলসে যদি কারও সাহায্যের প্রয়োজন হয় তবে শুরুতেই যোগাযোগ করা উচিৎ গ্যাম্বল অ্যাওয়ার হটলাইনে।
গ্যাম্বল অ্যাওয়ারের 1800 - 858 - 858 হেল্পলাইনে কল করে দোভাষীর সাহায্য চাওয়া যায় এবং তাঁদের সাহায্যে পরবর্তীতে নিজ নিজ ভাষার কাউন্সেলরদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে।

গ্যাম্বল অ্যাওয়ার ওয়েবসাইটটিতে আরবি, চাইনিজ, হিন্দি, কোরিয়ান ও ভিয়েতনামিজসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদিত তথ্য-সাহায্যও পাওয়া যায়।
জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তির মানসিক এবং আর্থিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে কাউন্সেলররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
সবশেষে অধ্যাপক গেইনসবারির মতে, জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তির প্রিয়জনদের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে এটি বিশ্বাস করা যে তাঁরা একা নয় ও তাঁদের জন্যে পর্যাপ্ত সহায়তা রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করা তাঁদের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* পরিবর্তিত নাম।
সাহায্য পেতে কল করুন:
· National Gambling Helpline on 1800 858 858
· National Debt Helpline on 1800 007 007, or
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: আমাদের ওয়েবসাইট।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।




