সুজন চক্রবর্তী: SBS বাংলা। আজকের এই বিশেষ আয়োজনে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি সুজন চক্রবর্তী। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউস বিশ্বের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে নানা সংস্কৃতি তাদের পরিচয় তুলে ধরেছে। প্রথমবারের মতো এই অপেরা হাউসে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বপ্ন, আবেগ এবং সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। আজকের এই পর্বে আমরা কথা বলব এই আয়োজনের অন্যতম আয়োজক এবং বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়া এর প্রেসিডেন্ট রাহেলা আরেফিনের সঙ্গে।
[ইন্ট্রো মিউজিক] সুজন চক্রবর্তী: মিজ রাহেলা, আপনাকে SBS বাংলায় স্বাগত।
সুজন চক্রবর্তী: প্রথমবারের মতো অপেরা হাউসে বাংলা নববর্ষ আয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে এই কমিউনিটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই অর্জনকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
রাহেলা আরেফিন: আমি মনে করছি এটা আমাদের প্রথমবারের মতো আমরা এইটা পালন করেছি পয়লা বৈশাখ অপেরা হাউসে। সো আমাদের সবাই যত আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেল সবাই যারা ডিগনিটারিজ ওখানে উপস্থিত হয়েছিলেন ওরা সব বাংলাদেশীরা এককথায় বললেন যে এটা আমাদের জন্য একটা বড় পাওয়া ছিল। অনেক খুশি হয়েছে সবাই, আনন্দ-- অনেক আনন্দ করেছে সবাই মিলে এবং আমাদের অনুষ্ঠানটা আসলে অনেক ভালো হয়েছে আমি মনে করি।
সুজন চক্রবর্তী: এত বড় একটি আয়োজন বাস্তবায়নের পেছনে নিশ্চয়ই দীর্ঘ পরিকল্পনা ছিল। আসলে শুরুটা কিভাবে হয়েছিল বিষয়টা একটু জানতে চাই।
রাহেলা আরেফিন: জন্মভূমি টেলিভিশনের আমাদের এটা 10 বছর পূর্তি হলো। তো আমরা একটু চাচ্ছিলাম একটু ভিন্ন করে করতে। আম বৈশাখ নিয়ে আমরা ওইভাবেই চিন্তাভাবনা করছিলাম যে আচ্ছা বৈশাখ তো কেউ কখনো করেনি অপেরা হাউসে। এটা আইকনিক জায়গায় আছে। ঠিক আছে আমরা এবার চিন্তা করছিলাম যে ওইটাই আমরা করব ওখানে। সো ওইভাবেই হয়ে গেল। আসলে তেমন কোন ইয়ে ছিল না। মানে আমরা ভাবছিলাম যে করব, করে ফেললাম আর কি।
সুজন চক্রবর্তী: এত বড় আয়োজনে এবার বাস্তবায়ন কি কি হয়েছে? অর্থাৎ আ যে কন্টেন্টগুলো ছিল সেগুলো কি কি ছিল? গান, শোভাযাত্রা আমরা বিভিন্নভাবে পোস্টার দেখেছি। তো সেই আলোকে জিজ্ঞেস করছি যে কি কি বাস্তবায়ন করা হয়েছে?
রাহেলা আরেফিন: আমাদের আম নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস এসেছিল। উনার বক্তব্য ছিল। তারপর হেলথ মিনিস্টার সোফি কোস্টি ছিলেন। উনার বক্তব্য ছিল। আমাদের ক্যাম্বেলটাউন কাউন্সিলর ছিল। তারপর ক্যান্টারবেরি কাউন্সিলর ছিল। আমি লেডিস ক্লাব থেকে, আমি লেডিস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। সো আমার বক্তব্য ছিল। বক্তব্য শেষ হওয়ার পরে আমাদের গান, কালচারাল পার্টটা ছিল যেমন আমাদের গান ছিল বিশিষ্ট কয়েকজন এখানকারই শিল্পী এবং আ আমাদের কিছু শিল্পী ছিল এখানের প্রফেশনালি ড্যান্স করে নটরডেম থেকে। সো ওদের ড্যান্স ছিল। তারপর আরও আরেকটা গ্রুপের ড্যান্স ছিল। মানে ওরা সবসময়ই কালচারাল অনুষ্ঠানগুলোতে ওরা নাচ গান করে। সো আমাদের কালচারাল প্রোগ্রামটা মোটামুটি ছিল একদম শেষ পর্যন্ত।
সুজন চক্রবর্তী: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এই আয়োজনের জন্য এটা কত গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?
রাহেলা আরেফিন: আমরা অনেক প্রাউড যে উনি আমাদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে উনি আমাদেরকে একনলেজ করেছেন এবং উনার মেসেজটা দিয়েছিলেন এত ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও। সো এটা আমাদের জন্য একটা বড় পাওয়া।
সুজন চক্রবর্তী: অপেরা হাউস প্রাঙ্গণে এসো হে বৈশাখ গানের যে শোভাযাত্রা, সেই মুহূর্তটা কেমন ছিল আপনার মুখ থেকে শুনতে চাই।
রাহেলা আরেফিন: অনেক রঙিন ছিল এবং অনেক আনন্দময় ছিল। আমাদের সাথে হেলথ মিনিস্টারও ছিল আমাদের প্যারেডে। সো এইটাতে আসলে আমরা সবাই বিদেশিরাও মানে ওরা না বুঝতে পেরেও কিন্তু ওরা মানে আমাদের সঙ্গীতে তালি দিয়েছিল এবং ওরা চিন্তা করছিল যে আমরা আমাদের নিউ ইয়ার্স এত সুন্দর করে এই জায়গাতে করছি। ওরা মানে একটু মানে সারপ্রাইজডই হইল। [হাসি] যাইহোক, মানে আমরা নববর্ষের পোস্টার নিয়ে আমরা যে আম প্যারেডটা করেছি ওটাতে কিন্তু আসলে আমাদের মানে মনের আনন্দে আর ধরা ছিল না। [হাসি] এত আমরা খুশি হয়ে গেছিলাম সবাই ছবি তোলা নিয়ে এবং প্যারেড করার জন্য।
সুজন চক্রবর্তী: আচ্ছা, আপনি প্রতিক্রিয়ার কথা বলছিলেন উনাদের। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন স্থানীয় অস্ট্রেলিয়ান বা বাঙালি কমিউনিটি ছাড়া অন্যদের উপস্থিতি কেমন ছিল এবং ওদের প্রতিক্রিয়াটা কেমন ছিল?
রাহেলা আরেফিন: ওদের প্রতিক্রিয়াটাও ভালো ছিল। অন্যান্য কমিটির মধ্যে ইন্ডিয়ান কমিটি ছিল, ফিজিয়ান ইন্ডিয়ান ছিল, লেবানিজ ছিল, অস্ট্রেলিয়ান ছিল। মোটামুটি ওদের প্রতিক্রিয়াটা অনেক ভালো ছিল। মিক্সড কালচার ছিল।
সুজন চক্রবর্তী: আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের আয়োজন অস্ট্রেলিয়ার মাল্টি কালচারাল সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবস্থানকে কিভাবে তুলে ধরে?
রাহেলা আরেফিন: আমি মনে করি অনেক উঁচু পর্যায়ে আছে আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটি কালচারাল দিক থেকে এবং আম ক্রিস মিনস এটা ওর বক্তব্যে এই কথাটা উল্লেখ করল যে আমাদের বাংলাদেশিরা আসলে অনেক বড় একটা জায়গায় ওরা হল করছে এবং শিক্ষা, সোশ্যাল ওয়ার্ক, কালচারাল সবকিছুতেই আমরা হাইয়েস্টে আছি। এই কথাটা কিন্তু সে মেনশন করেছে উনার বক্তব্যে। সো আমরা আসলে প্রাউড আমাদের আম এই কালচারটা ধরে রাখতে পারছি আমরা এবং নিউ জেনারেশনদেরকে আমরা এই কালচারটা শিখাচ্ছি, দেখাচ্ছি যে এটা আমাদের কালচার, এটা আমাদের হেরিটেজ। সো ওইটা আমরা অনেক প্রাউড ফিল করছি যে আমরা কিছু একটা করছি আমাদের ইয়াং জেনারেশনদের জন্য।
সুজন চক্রবর্তী: আয়োজনটা করতে গিয়ে নিশ্চয়ই চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জগুলো কি কি ছিল বলে আপনি মনে করেন এবং আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে উত্রে যাওয়ার উপায় কি?
রাহেলা আরেফিন: আমরা আসলে এত এটা একটা বড় একটা আইকনিক জায়গায় অনুষ্ঠান করা আমাদের জন্য একটু টাফি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমাদের মানে ইকোনমিক দিকটা একটু আমরা প্রবলেমে পড়ছিলাম। তারপরে আমরা চেষ্টা করছি আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী যারা আমাদেরকে সাপোর্ট করে ওদের কিছুটা সাপোর্ট আমাদেরকে দিয়েছে। প্লাস আমরা আম চেষ্টা করছি যে যতটুকু আমরা করতে পারব কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পুরোটাই সার্থকভাবেই করতে পেরেছি এবং আমরা আগামীতে চিন্তাভাবনা করব যে আর একটু যদি আমরা বৃহত্তরভাবে সমাজের সাপোর্ট পাই, সরকারেরও কিছু সাপোর্ট পাই তাহলে আমাদের জন্য আরও ভালো হবে। আরও বৃহত্তর আকারে আমরা আমাদের অনুষ্ঠানগুলো করতে পারব।
সুজন চক্রবর্তী: অফসেটে জানতে চাই যদি আমাদের SBS বাংলা শ্রোতাদের জন্য যদি আপনার কিছু বলার থাকে।
রাহেলা আরেফিন: সবাইকে আমার শুভেচ্ছা। আমাদের নববর্ষ গেল। নববর্ষের শুভেচ্ছা দিলাম। আর আমি চাই যে আমাদের আ এরপরে আমাদের অনুষ্ঠানে এই SBS এর দর্শকরাও যদি আমাদের অনুষ্ঠানের আ আয়োজনে যদি থাকে আমাদের সাথে, ওইটা আমাদের অনেক বড় একটা সাপোর্ট হবে। SBS কে আমি অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের এই আমার এই সাক্ষাৎকারটা নেওয়ার জন্য, সকলের কাছে আমার বাণী তুলে দেওয়ার জন্য।
সুজন চক্রবর্তী: অসংখ ধন্যবাদ রাহেলা আরেফিন SBS বাংলাকে সময় দেওয়ার জন্য।
রাহেলা আরেফিন: ধন্যবাদ আপনাকেও।
END OF TRANSCRIPT