অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ

Richard Marles delivers his speech in Singapore

Richard Marles delivers his speech in Singapore Source: AAP

ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন চুক্তি বাতিলের জন্য প্রদেয় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। এটি বাতিলের জন্য অস্ট্রেলিয়া খেসারত দিতে হবে ৮৩০ মিলিয়ন ডলার। তবে ফেডারাল সরকার আশা করছে এর ফলে ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে। অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের সম্পর্কোন্নয়ন নিয়ে একটি প্রতিবেদন।


গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো

  • স্কট মরিসন সরকার ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন চুক্তিটি বাতিল করেছিল, যার ফলে দেশ দু’টির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে চিড় ধরে
  • ৮৩০ মিলিয়ন ডলার পে-আউট মিলিয়ে এই চুক্তি বাতিলের ক্ষতিপূরণের মোট পরিমাণ দাঁড়ালো ৩.৪ বিলিয়ন ডলার
  • সিঙ্গাপুরে মিস্টার মার্লস চীনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মিলেমিশে চলার নীতিতে জোর দিয়েছেন

প্যারিস ও ক্যানবেরার মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব থাকলেও, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর অস্ট্রেলিয়ার নতুন সরকারের শাসনামলের প্রারম্ভেই ভূমিকা রাখছে ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন চুক্তি বাতিলের বিষয়টি।

এর আগে স্কট মরিসন সরকার এই চুক্তিটি বাতিল করেছিল, যার ফলে দেশ দু’টির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে চিড় ধরে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিস্টার মরিসনের উত্তরসূরী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থোনি অ্যালবানিজি এখন প্রকাশ করেছেন এর জন্য ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক খেসারত দিতে হবে।

ন্যাভাল গ্রুপের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে সরকার। সাবমেরিনগুলো সরবরাহ করার কথা ছিল এই গ্রুপটির, যা মরিসন সরকার বাতিল করেছে।

৮৩০ মিলিয়ন ডলার পে-আউট মিলিয়ে এই চুক্তি বাতিলের ক্ষতিপূরণের মোট পরিমাণ দাঁড়ালো ৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

মিস্টার অ্যালবানিজি বলেন, প্রথমে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে কম অর্থ লাগছে। তবে, এ সুযোগে পূর্বসূরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে এক হাত নেওয়ার সুযোগ ছাড়েন নি মিস্টার অ্যালবানিজি।

তবে, আগের সরকারের যারা অংশ ছিলেন, তারা এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। বিরোধী দলীয় ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র অ্যান্ড্রু হ্যাস্টি বলেন, মিস্টার অ্যালবানিজি যে পরিমাণ অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটা পুরোপুরি সঠিক নয়।

ন্যাভাল গ্রুপ একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে তারা একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছে, যা ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত।

ফরাসীদের সঙ্গে এই চুক্তি স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে অকাস পার্টনারশিপের মাধ্যমে। যার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়াকে সহায়তা করবে পারমাণবিক শক্তি-চালিত সাবমেরিন শিপ সংগ্রহে।

বিরোধী দলীয় নেতা পিটার ডাটন দাবি করেন যে, নতুন সরকার এই চুক্তি বাতিল করার পরিকল্পনা করছে।

নিরাপত্তা-বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা, সিঙ্গাপুরের শাংগ্রিলা ডায়ালগে ডিফেন্স মিনিস্টার রিচার্ড মার্লস বলেন, এটা সত্য নয়।

সাবমেরিন চুক্তি ইস্যুতে ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নের বিষয়ে মিস্টার অ্যালবানিজি বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখোর আমন্ত্রণে প্যারিস সফরে গিয়ে ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত উৎসুক।

আর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের উত্থানের পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব অঞ্চলে আগের যে-কোনো সময়ের তুলনায়, ফ্রান্স এখন অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।

আর-এম-আই-টি ইউনিভার্সিটির ড. অ্যালেক্সিস বারগাঞ্জ একজন ইতিহাসবেত্তা। ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েনের, প্যাসিফিক অঞ্চলে, বিশেষত, নিউ কেলেডোনিয়া অঞ্চলে ফ্রান্সের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী আসার বিষয়টি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি শুভ সূচনা। তবে, এটাই কিন্তু একমাত্র উপায় নয়।

সিঙ্গাপুরে মিস্টার মার্লস জোর দিচ্ছেন, চীনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মিলেমিশে চলার প্রতি।

তবে, এক্ষেত্রে তিনি পুরোপুরি আপোসমূলক নন। তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধিতা করা উচিত চীনের এবং এই বিরোধিতার বিষয়টি আরো ভালো ভাবে প্রকাশিত হতে হবে।


প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।

এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা

আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে। 

আরও দেখুন:


Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now