এই গবেষণা দলে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ড. আরিফ মাসরুর, অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির ড. আশরাফ দেওয়ান, মি. ডার্ক বুটজে ও গ্রিগোরি কিসলেভ এবং চিটাগাং ইউনিভার্সিটির ড. মাহবুব মোর্শেদ।
এই গবেষক দল বন্যার ঝুঁকি পরিমাপের যে গবেষণা করেছেন তাতে দেখা যায় দেশের নদী অববাহিকাগুলোর এবং প্লাবনভূমিতে মানুষের কর্মকাণ্ড মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় আগের চেয়ে আরো অনেক মানুষ বেশি বন্যার ঝুঁকিতে আছে - বিষয়টি এসবিএস বাংলাকে ব্যাখ্যা করেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. আশরাফ দেওয়ান।
তিনি বলেন, 'আমরা যে স্যাটেলাইট ব্যবহার করি সেখান থেকে দিনে এবং রাত দুসময়েরই উপাত্ত পাওয়া যায়। এখানে দিনের বেলার তথ্যেপ্রাকৃতিক পরিবেশের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়, অন্যদিকে রাতের বেলায় মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ডের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।'

'কোথায় আলোর উজ্জ্বলতা বেশি, কোথায় কম - তার উপর ভিত্তি করে একটা ইউনিক পিকচার পাওয়া যায়, সুতরাং কোথায় মানুষের কর্মকান্ড বেশি হচ্ছে - সেই ধারণা থেকে আমরা এই গবেষণার যোগসূত্র পাই', বলেন ড. আশরাফ দেওয়ান।
পেনসিলভেনিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আরিফ মাসরুর বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম বন্যা আক্রান্ত, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং নগরায়নের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের নদীর নিকটবর্তী প্লাবনভূমিতে স্থাপনা এবং মানুষের বসবাসের চিত্র আমাদের কাছে এখনও অতটা পরিষ্কার নয়। অথচ সেই চিত্রের সঠিক ম্যাপিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামগ্রিকভাবে কার্যকর বন্যা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য।'
'স্যাটেলাইট হতে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের মিশ্রণ - বিশেষকরে রাত্রিকালীন আলোর উজ্জ্বলতা এবং বর্ষায় বন্যার পানির স্থানিক ব্যাপ্তি ব্যবহার করে আমাদের গবেষণা সর্বপ্রথম দেশে এই বিষয়ের উপর আলোকপাত করে। আমরা আশা করি আমাদের গবেষণা পন্থা এবং উদ্ভুত দেশব্যাপী ও নদীর কাছাকাছি প্লাবনভূমিতে মনুষ্য কর্মকান্ডের চিত্র সঠিকভাবে বন্যার ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করতে সাহায্য করবে, এবং একই সাথে এই বিষয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য দিকনির্দেশনামূলক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে’, বলেন ড. মাসরুর।
স্যাটেলাইটের রাতের উপাত্তে আলোর উজ্জ্বলতা বেশি থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের কর্মকান্ডের ব্যাপকতাকেই চিহ্নিত করে - কিন্তু এটি কেন বন্যার ঝুঁকির কারণ? এ প্রসঙ্গে ড. দেওয়ান বলেন, আমরা যখন প্লাবনভূমিতে (নদী অববাহিকা বা জলাধারের নিকটবর্তী সমতল জায়গা) অবকাঠামো গড়ে তুলি তখন সেখানে ওয়াটার লগিং বা জলাবদ্ধতা দেখা যায়।

'আমরা লক্ষ্য করেছি নদীর অববাহিকার দুই কিলোমিটারের আশেপাশের এলাকাগুলোতে উন্নয়ন কর্মকান্ডে তীব্রতর হয়েছে - কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মত দেশে এর সীমা নির্ধারণ করা আছে, এখানে নদীর তীরবর্তী ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার জায়গায় অবকাঠামো নির্মাণ করা যায় না - এই (সীমা নির্ধারণের) বিষয়টি বাংলাদেশে নেই বা থাকলেও জনবহুল দেশ হওয়াতে মানুষ নিয়মনীতি মানে কম।'
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৮০ ভাগ ভূমি সমতল তাই অবকাঠামো নির্মাণ সহজ এবং আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী। যেহেতু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই তাই সেই এলাকাগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন বা উন্নয়ন হচ্ছে এবং এতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আমাদের এই গবেষণা দেশে ভবিষ্যতের বন্যা মোকাবেলায় পথ দেখাবে বলেন ড. দেওয়ান।
পুরো সাক্ষাৎকারটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: https://www.sbs.com.au/language/bangla/program
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।
আরও দেখুন:










