আগামী ৪ থেকে ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘সাবা’র অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। এটি নির্মাণ করেছেন মাকসুদ হোসেন এবং এটি তার নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
এখানে প্রকাশিত হলো তার সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব।
ছবির পরিচালক মাকসুদ হোসেন জানান, এর গল্পটি যেমন ব্যক্তিগত, তেমনি সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক।
“গল্পটি বাস্তব জীবনের একটি কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। আমি চেয়েছি সাবার জীবনের চাপ, আবদ্ধতা ও অন্তর্দ্বন্দ্বকে আন্তরিকভাবে তুলে ধরতে।”
চলচ্চিত্রটিতে হ্যান্ডহেল্ড ক্যামেরা, ঘন ঘন ক্লোজ শট, এবং কেবলমাত্র প্রধান চরিত্রকে ফোকাসে রাখার পেছনে রয়েছে ভিন্ন এক চিন্তা। “সাবার মানসিক অবস্থা ও তার বন্দীত্বের অনুভব দর্শকের মধ্যে পৌঁছে দিতে এই ভাষা ব্যবহার করেছি,” বলেন মাকসুদ।

বাংলাদেশের রক্ষণশীল বৈশিষ্টের সমাজের প্রেক্ষিত বিবেচনা করলে ছবির কিছু উপাদান হয়ত দর্শকদের ধাক্কা দেবে কিংবা 'আরোপিত' মনে হবে - যেমন হুকাহ লাউঞ্জের মতো একটি পুরুষ অধ্যুষিত কর্মস্থল কিংবা সহকর্মীর সাথে এলকোহল সেবন।
তবে এটি আরোপিত নয় বলে মনে করেন নির্মাতা, বরং আপাত দৃষ্টিতে এটিকে ট্যাবু বা সমাজ বিরুদ্ধ মনে হলেও বাস্তবে মধ্যবিত্ত তরুণদের অনেকের কাছেই এটি স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে হবে।
বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী সেবাব্যবস্থা নিয়ে অসহায়ত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে ছবিতে।
তবে এসব সত্ত্বেও মাকসুদ নিজেকে রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে ভাবেন না। বরং তিনি বলেন, “আমি সচেতনভাবে কোনো রাজনৈটিক বার্তা দিতে চাইনি, বরং সাবার বাস্তবতাই ছিল আমার ফোকাস।”
‘সাবা’ শুধু এক তরুণীর গল্প নয়—এটি একজন নির্মাতার প্রথম ফিচার ফিল্মের মধ্য দিয়ে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর নির্ভীক প্রয়াস।
এর আগে মাকসুদ হোসেন বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, “এটা শুধু সময়সাপেক্ষ নয়, মানসিকভাবেও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এর মধ্যে প্রাপ্তিও আছে।”
ছবিটির প্রিমিয়ার হয়েছে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (TIFF), এছাড়া বুসান, রেড সী, গোটেবার্গ, বেঙ্গালুরু, ডালাস, রেইনডান্স সহ বেশ কিছু সুপরিচিত উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়া ওসাকা এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গ্র্যান্ড প্রি’র জন্য মনোনীত হয়েছে।
ফিউশন পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন নির্মাতা মাকসুদ ও ত্রিলোরা খান।
ছবিতে সাবা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবিন চৌধুরী, এছাড়া আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন মোস্তফা মনোয়ার এবং রোকেয়া প্রাচী।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য সুখবর হলো, মাকসুদ তার পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘বেবি মুন’-এর কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন শিগগিরই।
সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বটি শুনতে ক্লিক করুন উপরের অডিও প্লেয়ারে।
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস








