প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে সতর্কতা: এখানে যৌন সহিংসতার দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা কিছু পাঠক-শ্রোতাদের জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিদিন গড়ে ৮৫টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের বেশি তরুণ বয়সী তাদের জীবনে অবাঞ্ছিত যৌন অভিজ্ঞতা লাভ করেছে।
কেউ যদি ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকেন, অথবা সম্মতিবিহীন যৌনতার শিকার হন, তাহলে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা রিপোর্ট করার কথা বিবেচনা করতে পারেন এবং অপরাধীকে বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করতে পারেন। কিন্তু প্রায়ই এই সিদ্ধান্ত অপরিমেয় মানসিক অশান্তি নিয়ে আসে।
পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা
ভিক্টোরিয়া পুলিশের সিনিয়র সার্জেন্ট মনিক কেলি একটি বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্ব দেন, যারা যৌন অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করে। তাদের প্রধান দায়িত্বগুলির একটি অংশ হল ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা করা, যারা অভিযোগকারী হিসাবে পরিচিত। তারা তাদের বিবৃতি তৈরি করে এবং প্রমাণ সরবরাহ করে।
সার্জেন্ট মনিক কেলি বলছেন, "আমাদের চারটি লক্ষ্য আছে, প্রথমটি হল ভিকটিমকে রক্ষা করা এবং তাদের সহায়তা করা। আমরা আমাদের কাছে আসা সমস্ত প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে বাধ্য এবং এর অংশ হিসাবে, আমরা প্রমাণ সংগ্রহ করি এবং বোঝার চেষ্টা করি যে এখানে অপরাধ হয়েছে কিনা। তারপর আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করি এবং তাদের আদালতে হাজির করি।"
ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের সাথে একজন বিশ্বস্ত সহায়তাকারী ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়। কারণ প্রমাণ সংগ্রহ এবং পুলিশের বিবৃতির খসড়া তৈরির প্রক্রিয়াটি ঘটনার শিকার ব্যক্তির কষ্ট আবার নতুন করে জাগতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তি যদি হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ উপস্থাপন করে, তাহলে তাদের চিকিৎসা সহায়তা, আইনি এবং মানসিক পরামর্শ দেওয়া হয়। ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তাদের ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হয়। একে বলা হয় রেপ কিট।
যেহেতু ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী, তারা প্রায়ই মহিলা ডাক্তার বা অফিসারদের সাথে দেখা করতে চান। কিন্তু এই ব্যবস্থা সবসময় থাকে না।
তারপরে, অভিযোগকারীকে বিস্তারিত পুলিশ স্টেটমেন্ট দিতে হবে। এটি একই দিনে হয়তো সম্ভব হয় না।
আইনজীবী মাইকেল ব্র্যাডলির যৌন অপরাধ সংশ্লিষ্ট হাই-প্রোফাইল মামলায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের আরও ভালভাবে সমর্থন করার জন্য আইন সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জেস হিল তার তিন পর্বের ডকুমেন্টারি সিরিজ, ‘আসকিং ফর ইট’-এর অংশ হিসেবে আইনী ব্যবস্থায় সম্মতিবিহীন যৌন অভিজ্ঞতার মামলাগুলি কীভাবে পরিচালনা করা হয় তা অনুসন্ধান করেছেন।
তিনি বলেছেন যে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের জন্য তাদের বক্তব্য সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক আগের ঘটনার খবরও পাওয়া যায়।
কোন ভুক্তভোগী ব্যক্তি রিপোর্ট করলে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ হাতে নেয়। অভিযোগকারী তখন তাদের নিজের মামলার মূল সাক্ষী হয়ে ওঠে।
যদি পুলিশ মামলাটি চালানোর জন্য যথেষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে সংক্ষিপ্ত বিবরণটি ডিরেক্টর অব পাবলিক প্রসিকিউশন বা ডিপিপি দ্বারা পর্যালোচনা করা হয়। যদি এটি কার্যধারার জন্য ডিপিপি পর্বটি অতিক্রম করে, তখন চার্জ গঠন করা হয়, এবং পুলিশ অভিযুক্ত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে।
কোর্টে যাওয়া
মামলাটি একবার আদালতে গেলে, ভিকটিম এবং অন্যান্য সাক্ষীদের (যদি থাকে) অবশ্যই অবস্থান নিতে হবে। তাদের ডিফেন্স এবং প্রসিকিউশন দ্বারা ক্রস-এক্সামিন বা জেরা করা হয়। বিপরীতে, অভিযুক্ত অপরাধীর নীরব থাকার অধিকার রয়েছে। আসামী নিজেকে নির্দোষ দাবী করতে পারে, অথবা শুধুমাত্র ছোট যৌন অপরাধের কথা স্বীকার করতে পারে।
আইনজীবী মাইকেল ব্র্যাডলি বলেছেন যে আইনি ব্যবস্থার এই বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে অনেক ভুক্তভোগী বিচ্ছিন্ন বোধ করে, যেন তারা নিজেরাই বিচারের সম্মুখীন।

তিনি যোগ করেছেন যে বেশিরভাগ অভিযুক্ত যৌন অপরাধীরা তাদের নীরবতার অধিকার বজায় রাখে এবং সাক্ষ্য দেওয়া থেকে অব্যাহতি পায়, বিচারটি ভিকটিমদের সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে, যা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভুক্তভোগী সত্য বলছে কিনা তা নিয়ে এক ধরণের প্রতিযোগিতা হয়।
অনুমান করা হয় প্রায় ৯০ শতাংশ ভিকটিম পুলিশকে তাদের ধর্ষণের অভিযোগ করেন না। এক সমীক্ষা থেকে দেখা যায় যে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়ান মনে করেন যে মহিলারা প্রায়শই ধর্ষণের শিকার দাবি করে বা অতিরঞ্জিত করে আইনের অপব্যবহার করে। এই হার যে কোন পশ্চিমা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে, সিনিয়র সার্জেন্ট কেলি বলেছেন যে তিনি খুব কমই অভিযোগকারী পেয়েছেন, যাদের বক্তব্য তিনি মিথ্যা বলে সন্দেহ করেন।
যদি আসামী কোনো অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে পরবর্তী ধাপে শাস্তি দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে জেস হিল বলেন, রায়ের মধ্যে 'নির্দোষ সাব্যস্ত হওয়া' থেকে শুরু করে কমিউনিটি সার্ভিস পর্যন্ত হতে পারে। অভিযুক্তরা শুধু জরিমানা বা জেলদণ্ড পেতে পারে, যা ভিক্টিমদের জন্য হতাশাজনকও হতে পারে। যদি তারা মনে করেন যে শাস্তি যথেষ্ট না, সেক্ষেত্রে তারা সাধারণত একটি ভিকটিম ইমপ্যাক্ট স্টেটমেন্ট দিতে পারেন। এখানে তারা বলতে পারেন কিভাবে সেই অপরাধ আদালতে তাদের প্রভাবিত করেছে, বিশেষ করে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, কিছু অস্ট্রেলিয়ান জুরিসডিকশন তাদের আইন পরিবর্তন করছে যেখানে যৌন অপরাধের আসামীদের বাধ্যতামূলকভাবে আদালতে প্রমাণ করতে হয় যে তারা যৌন কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার আগে ইতিবাচক সম্মতি পেয়েছে।
ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে না গিয়ে যারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অভিজ্ঞতা রিপোর্ট করতে চান তাদের জন্য কিছু জুরিসডিকশন অভিনব যৌন নিপীড়ন প্রতিবেদনের ব্যবস্থাও চালু করছে।

মাইকেল ব্র্যাডলি বিশ্বাস করেন যে এটি ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য একটি দরকারী বিকল্প যারা অন্যান্য সম্ভাব্য ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের রক্ষা করার বিষয়ে উদ্বিগ্ন।
পুলিশে রিপোর্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়া বা না নেয়া ছাড়াও বেশ কিছু সাপোর্ট সার্ভিস আছে। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি যৌন নিপীড়নের দ্বারা প্রভাবিত হন, তাহলে 1800RESPECT-এ কল করুন। এছাড়া লাইফলাইন-এর 13 11 14 নম্বরে বা বিয়ন্ড ব্লু -এর 1800 22 46 36 নম্বরে ফোন করতে পারেন।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ার বাটনে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা অডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
Whether or not you decide to report to the police, there are a range of support services you can access.
If you or someone you know is impacted by sexual assault, call 1800RESPECT. You can also contact Lifeline, on 13 11 14 or Beyond Blue on 1800 22 46 36.



