অস্ট্রেলিয়ায় বসন্তকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞরা মানুষকে ঋতুভিত্তিক অসুস্থতার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। দেখা যাচ্ছে যে, জনগোষ্ঠীর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এখন ছড়িয়ে পড়ছে; পাশাপাশি বসন্তকালে বাতাসে পরাগরেণু বা পোলেনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হাঁপানি ও অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। - এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন।
বসন্তকাল মানেই উষ্ণ আবহাওয়া ও ফুটন্ত ফুলের সমাহার, তবে এর সাথে আসে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথিও, দীর্ঘস্থায়ী সব ভাইরাস।
কথাটি বলেছেন ডা. মাইকেল রাইট; তাঁর মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো কেবল শীতকালেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
তিনি 'রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অফ জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স'-এর প্রেসিডেন্ট এবং জানান যে, রেকর্ড অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফ্লু মৌসুমটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ।
গত বছর বসন্তকালে অস্ট্রেলিয়ায় ইনফ্লুয়েঞ্জার একটি দ্রুত-বিস্তারকারী ও পরিবর্তিত রূপ বা স্ট্রেইন (mutated strain) দেখা দেয়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'সুপার-কে' (Super-K) ।
তিনি বলছেন, "আমার মনে হয় গত বছর যা ঘটেছিল তা হলো একটি নতুন স্ট্রেইনের আবির্ভাব, যাকে একরকম 'সুপার-কে' বলা হচ্ছিল, এবং সে সময়কার টিকাগুলো এর বিরুদ্ধে কার্যকর ছিল না। তবে আশার কথা হলো, এ বছরের টিকাগুলো ভাইরাসের ওই স্ট্রেইনটির বিরুদ্ধেও কাজ করে।"
গত বছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন এবং এই ভাইরাসের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় অন্তত ১,৭৯২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্স-এর প্রকাশিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এই মৃত্যুর হার ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
ডা. রাইট বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে নতুন কোনো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটবে কি না, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন।
'অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল'-এর শ্বাসতন্ত্রের রোগ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় গত দুই সপ্তাহে আরএসভি (RSV বা রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস)-এ আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে।
তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়া তাদের সর্বজনীন কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি সীমিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে; এখন থেকে গুরুতর অসুস্থতার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্যই কেবল বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে।
অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োস্ট্যাটিসটিক্স ও এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান অ্যাড্রিয়ান এস্টারম্যান বলেন, যোগ্যতার নতুন নিয়মগুলোর কারণে কিছু মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
১ অক্টোবর থেকে, ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি ছয় মাস অন্তর বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টিকা নিতে পারবেন।
৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রতি ১২ মাস।
৫০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী আদিবাসী এবং টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগোষ্ঠী, এবং সেই সাথে গুরুতরভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া (immunocompromised) প্রাপ্তবয়স্করাও বার্ষিক একটি ডোজ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ডিকিন ইউনিভার্সিটির এপিডেমিওলজির প্রধান ক্যাথরিন বেনেট বলেন, জনস্বাস্থ্যের আলোচনায় কোভিড-১৯ বিষয়টি যেন হারিয়ে না যায়।
তবে তিনি মনে করেন, এখন কার্যকর যোগাযোগের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এসবিএস নিউজ মন্তব্যের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছে।
বিভাগটি এর আগে আরএসিজিপি (RACGP)-কে জানিয়েছিল যে, অস্ট্রেলিয়ায় কোভিড-১৯ এখন একটি স্থানীয় বা এন্ডেমিক (endemic) রোগে পরিণত হয়েছে এবং টিকাদান নীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা বজায় রাখা।
তবে সমস্যাটি কেবল শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
অ্যাজমা অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) কেট মিরান্ডা বলেন, বসন্তকালে বাতাসে পরাগরেণুর (pollen) মাত্রা বেড়ে যায়, যা 'হে ফিভার' (hay fever) বা অ্যালার্জি এবং হাঁপানির প্রকোপ বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রায় ২৮ লাখ অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ হাঁপানি বা অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন।
বিশ্বের মধ্যে এই হার অন্যতম সর্বোচ্চ।
মিজ মিরান্ডা জানান, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত এই রোগের প্রভাব বয়স ও লিঙ্গভেদে ভিন্ন হতে পারে।
বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা, পেরিমেনোপজ এবং মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন শ্বাসনালীর প্রদাহ এবং হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রকোপ বা ভারও তুলনামূলকভাবে বেশি; ২০২৪ সালে হাঁপানিজনিত কারণে ৩২২ জন নারী ও ১৫৬ জন পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।
অ্যাজমা অস্ট্রেলিয়া এই দীর্ঘস্থায়ী রোগটি সম্পর্কে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছে।
তিনি বলছেন, আমরা সরকারের কাছে যে বিষয়গুলোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘নারী স্বাস্থ্য নীতিমালার’ (Women's Health Policy Agenda) অন্তর্ভুক্তিতে হাঁপানিকে যুক্ত করা; কারণ নারীরা অন্যান্য বিভিন্ন প্রয়োজনে চিকিৎসকের (জিপি) কাছে গেলেও, সেই সময়গুলোতে তারা তাদের হাঁপানির সমস্যার কথা উল্লেখ করছেন না।
ঋতু বা মৌসুম যা-ই হোক না কেন, মিজ মিরান্ডা এই বার্তাটিই সবার কাছে পৌঁছে দিতে চান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়তে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
এই লিঙ্কে ক্লিক করে নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
Read more about SBS’s use of AI





