অস্ট্রেলিয়ান আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশন উন্নয়ন নীতিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসাবে ফেডারেল সরকারের ন্যাশনাল আর্লি ইয়ারস সামিটের জন্য প্রায় ১০০ জন বিশেষজ্ঞ ক্যানবেরায় মিলিত হয়েছিলেন। এই শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য ছিল একটি নতুন জাতীয় কৌশল তৈরি, যাতে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের শিক্ষার ফলাফল উন্নত করতে নতুন ধারণা তৈরি করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- গবেষণায় দেখা গেছে যে একটি শিশুর জীবনের প্রাথমিক বছরগুলি তাদের বিকাশের জন্য এবং তাদের জীবনভর অব্যাহত সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
- সামিটে নতুন কৌশলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বিশেষভাবে ফোকাস করা হচ্ছে ফার্স্ট নেশনস, বহুসাংস্কৃতিক এবং বৈচিত্র্যময় পটভূমি এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের উপর
- "পরিবারগুলি যাতে সেবা গ্রহণ থেকে কম বিচ্ছিন্ন বোধ করে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ"
ফেডারেল সরকার পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য আরও ভাল কিছু করতে চাইছে।
সরকার শিশুদের শিক্ষা, সুস্থতা এবং উন্নয়নে আরও ভালভাবে সহায়তা করতে চায় এবং কমনওয়েলথ প্রোগ্রাম, তহবিল এবং প্রাথমিক শৈশব অবস্থার বিকাশকে সাহায্য করে এমন কাঠামোর মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় নিশ্চিত করতে চায়।
এই সেক্টরের বিশেষজ্ঞ এবং মূল স্টেকহোল্ডারদের একটি নতুন জাতীয় কৌশল তৈরি করতে সাহায্য করার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে নবজাতক থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের বিকাশ উন্নত করা যায়।
সমাজসেবা মন্ত্রী আমান্ডা রিশওয়ার্থ বলেছেন যে সরকারের ন্যাশনাল আর্লি ইয়ারস সামিট থেকেই সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে একটি শিশুর জীবনের প্রাথমিক বছরগুলি তাদের বিকাশের জন্য এবং তাদের জীবনভর অব্যাহত সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২১-এর অস্ট্রেলিয়ান আর্লি ডেভেলপমেন্ট সেনসাস থেকে দেখা যায় যে ২০০৯ সাল থেকে প্রথমবারের মতো, শারীরিক স্বাস্থ্য, সামাজিক সক্ষমতা, মানসিক পরিপক্কতা, ভাষা এবং জ্ঞান এবং বয়স-উপযুক্ত সাধারণ জ্ঞান সহ পাঁচটি ক্ষেত্রে শিশুদের উন্নতি হ্রাস পেয়েছে।
এর মধ্যে অন্তত একটি ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ শতাংশ শিশুই বিকাশে দুর্বল।
চিফ অ্যাডভোকেট ফর চিলড্রেন এবং ইউনিসেফের অস্ট্রেলিয়ান প্রোগ্রামের ডিরেক্টর নিকোল ব্রিজ বলেছেন, পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক।
মিজ ব্রিজ বলছেন, "একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দেশ হওয়া উচিত। কিন্তু, আমরা এটাও জানি যে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন শিশু বিকাশের দিক থেকে দুর্বল অবস্থাতেই স্কুল শুরু করে।"
আর্লি চাইল্ডহুড এন্ড ইয়ুথ মিনিস্টার, ডঃ অ্যান আলি বলেছেন যে প্রত্যেকের জীবনের সর্বোত্তম সূচনা নিশ্চিত করার দিকে সরকার মনোযোগী।
একই কথা প্লেগ্রুপ অস্ট্রেলিয়ার সিইও আমান্ডা ওয়ালশের।
মিজ ওয়ালশ বলেন, কোন শিশুর জীবনের সেই প্রথম পাঁচ বছরের গুরুত্বকে খাটো করে দেখতে পারি না। এসময়েরই তাদের সাফল্যের জন্য আমরা বীজ রোপণ করি যার ফসল একজন ব্যক্তি সারাজীবন পাবে।
সামিটে নতুন কৌশলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বিশেষভাবে ফোকাস করা হচ্ছে ফার্স্ট নেশনস, বহুসাংস্কৃতিক এবং বৈচিত্র্যময় পটভূমি এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের উপর।
তবে মিজ রিশওয়ার্থ বলেন যে এই গ্রুপের শিশুরা পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা একটি সংকট তৈরী করতে পারে।

প্রাক্তন ইয়েলো উইগল এবং চিলড্রেন্স এন্টারটেইনার এমা ওয়াটকিনসকে ১৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা প্যানেলে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যার লক্ষ্য ছিল আর্লি ইয়ার্স স্ট্রাটেজি সম্পর্কে অবহিত করা।
স্বাস্থ্য পেশাদার এবং চাইল্ড কেয়ার এবং ফার্স্ট নেশনস অ্যাডভোকেট সহ গ্রুপটি কৌশলটি তৈরী করবে এবং এই বছরের শেষের দিকে ফেডারেল সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে।
সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাডভোকেট মিজ ওয়াটকিনস বলছেন এটি অবশ্যই জাতীয়করণ এবং কেন্দ্রীভূত করা উচিত।
মেলানি স্মিথ তিন ছেলের মা, যিনি ডে-কেয়ার, প্রি-প্রি-স্কুল প্রোগ্রাম এবং প্লেগ্রুপ সহ অসংখ্য আর্লি চাইল্ডহুড সার্ভিস ব্যবহার করেছেন।
তিনি বলছেন যে সিস্টেমটির সুবিধাগুলো কারো কারো জন্য খুঁজে পেতে কঠিন মনে হতে পারে।
মিজ স্মিথ বলছেন, অনেকেই দারুন সব সুবিধা অফার করে, এমনকি বিনামূল্যে। কিন্তু আপনি যদি না জানেন সেগুলো কিভাবে পেতে হয়, তাহলে বিচ্ছিন্ন বোধ করবেন।
অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ অ্যালায়েন্স ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পেনি ডাকিন বলেন যে পরিবারগুলি যাতে কম বিচ্ছিন্ন বোধ করে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সামিটের ছাড়াও মিজ স্মিথ এই উদ্যোগের সত্যিকারের বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করেন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।





