গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- প্রবীণ সেবা গ্রহীতাদের মর্যাদা, সম্মানজনক আচরণ, নিরাপদ ও উচ্চমানের সার্ভিস পাওয়ার অধিকার আছে
- এজড কেয়ার সার্ভিসের গ্রাহকরা সাধারণত সমস্যা হতে পারে এই ভয়ে অভিযোগ করতে দ্বিধা করেন
- কোন অভিযোগ পাওয়ার পর এজড কেয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড সেফটি কমিশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং অভিযোগকারী উভয়ের বক্তব্য গ্রহণ করে
সরকারী ভর্তুকি দিয়ে এজড কেয়ার গ্রাহকদের সুরক্ষা দেয়া হয়। এ বিষয়ে আইনী অধিকারগুলি ১৯৯৭ সালের এজড কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে এজড কেয়ার অধিকারের চার্টারে বর্ণিত আছে।
এই এজড কেয়ার সনদের যে মৌলিক ১৪টি অধিকার আছে তার মধ্যে প্রথম দুটির মধ্যে আছে মর্যাদা ও সম্মানজনক আচরণ এবং নিরাপদ ও উচ্চমানের পরিষেবা ভোগ করার অধিকার।
আরেকটি সুরক্ষা হল প্রতিশোধবিহীন অভিযোগ করার অধিকার এবং আপনার অভিযোগকে ন্যায্যভাবে এবং বিলম্ব না করে মোকাবেলা করা।
কমিশনার জ্যানেট অ্যান্ডারসন এজড কেয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড সেফটি কমিশনের নেতৃত্ব দেন, এটি সরকারী অর্থায়নে এজড কেয়ার পরিষেবাগুলির জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
তিনি বলেন যে এই কমিশন এজড কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ তদারকি করতে এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আবাসিক সুবিধাগুলি পরিদর্শন করে।

মিজ অ্যান্ডারসন ব্যাখ্যা করেন যদি কোনো সমস্যা অমীমাংসিত থেকে যায়, কমিশনের কাজ হচ্ছে এজড কেয়ার পরিষেবার গ্রাহকদের বা তাদের পক্ষ থেকে করা অফিসিয়াল অভিযোগগুলি পরিচালনা করা।
দ্য ওল্ডার পার্সনস এডভোকেসি নেটওয়ার্ক বা ওপান (The Older Persons Advocacy Network - OPAN) পুরো অস্ট্রেলিয়ায় বয়স্ক ব্যক্তিদের বিনামূল্যে তথ্য এবং অ্যাডভোকেসি সেবা দিয়ে থাকে।
ওপান-এর সিইও ক্রেগ গিয়ার ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ান সরকার থেকে অনুদান পেলেও আমরা একটি স্বাধীন সংস্থা। আমরা বৃদ্ধ পরিচর্যা ব্যবস্থায় সমস্যা থাকলে সেটি সমাধান করার জন্য বয়স্ক ব্যক্তির নির্দেশে এজড কেয়ার প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলি।
সারা দেশে আনুমানিক ২০০ ওপান এজড কেয়ার অ্যাডভোকেট রয়েছে।

অধ্যাপক জোসেফ ইব্রাহিম একজন বার্ধক্য বিশেষজ্ঞ (জেরিয়াট্রিশিয়ান) এবং মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ ল অ্যান্ড এজিং রিসার্চ ইউনিটের প্রধান।
তিনি বলেন যে এজড কেয়ার পরিষেবার গ্রাহকরা সাধারণত সমস্যা হতে পারে এই ভয়ে অভিযোগ করতে দ্বিধা করেন। আত্মীয়রা প্রায়ই কর্মীদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেতে পারেন বলে ভয় পান।
প্রফেসর ইব্রাহিম বলেন, যাদের ভাষা ইংরেজি নয় তাদের অতিরিক্ত বাধা রয়েছে। মি. গিয়ার বলেন যে চার্টারটি বয়স্ক ব্যক্তিদের তাদের যত্ন সম্পর্কে জানার অধিকারকেও রক্ষা করে যাতে তারা বুঝতে পারেন।

এই অধিকার সমস্ত ধরনের সরকারী-অর্থায়িত এজড কেয়ার পরিষেবাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তিনি বলছেন এই সার্ভিসগুলোর মধ্যে আছে, কমনওয়েলথ হোম সাপোর্ট প্রোগ্রাম, হোম কেয়ার প্যাকেজ, ফ্লেক্সিবল এজড কেয়ারসহ বেশ কয়েকটি সার্ভিস।
এগুলো সম্পর্কে সেবাগ্রহীতাদের তথ্য পাওয়ার অধিকার আছে যা তারা বুঝতে পারে, এবং প্রয়োজনে সেবা দাতাদের এসব তথ্য অর্থ অনুবাদ করতে, বা দোভাষী ব্যবহার করতে হবে, যদি বিষয়গুলো তাদের বুঝতে সমস্যা হয়। এটি সেবা প্রদানকারীর দায়িত্ব, সে হোম কেয়ারেরই হোক বা রেসিডেন্সিয়াল এজড কেয়াররই হোক।
কমিশনার অ্যান্ডারসন বলেন যে কোন ভর্তুকি পাওয়া এজড কেয়ার সার্ভিস সম্পর্কিত কোন অফিসিয়াল অভিযোগ দিতে কাউকে সেবা গ্রহীতা হতে হবে এমন নয়।
কোন অভিযোগ পাওয়ার পর এজড কেয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড সেফটি কমিশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং অভিযোগকারী উভয়ের বক্তব্য গ্রহণ করে - যদি না অভিযোগটি বেনামে দায়ের করা হয়।

মিজ অ্যান্ডারসন বলেছেন, যখন কোনো সমস্যা অমীমাংসিত থেকে যায় তখন প্রয়োজন হলে কমিশন তার নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা (রেগুলেটরি পাওয়ার) প্রয়োগ করে।
তবে কিছু কাজ কমিশনের সুযোগের বাইরে।
যেমন কমিশন আইনী পরামর্শ, স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ দেয় না কিংবা সেবা গ্রহীতার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করে না। তাছাড়া এজড কেয়ার কর্মীদের মজুরি, শর্ত এবং কাজের শর্তের বিষয়ে কমিশন জড়িত হয় না।
প্রফেসর ইব্রাহিম যেকোনো উদ্বেগ থাকলে তা দ্রুত উত্থাপন করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন যে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার আগে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারলে সমাধান সহজ হয়।
প্রফেসর ইব্রাহিম বলেন যদি আপনার চাহিদা পূরণ না হয়, তবে উন্মুক্ত যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং রেকর্ড রাখতে পারেন যা একটি কার্যকর অভিযোগ দায়েরের মূল চাবিকাঠি।
একজন এজড কেয়ার অ্যাডভোকেটের সাথে কথা বলতে ন্যাশনাল এজড কেয়ার অ্যাডভোকেসি লাইনে ফ্রি কল করুন ১৮০০ ৭০০ ৬০০ (1800 700 600) নম্বরে।
এজড কেয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড সেফটি কমিশনের সাথে যোগাযোগ করতে কল করুন ১৮০০ ৯৫১ ৮২২ (1800 951 822) নম্বরে।
প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার
সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে











