হাইলাইটস
- বসন্তকে সামনে রেখেই মেলবোর্নের পশ্চিমে থাকা কিছু সমমনা নারী গত ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতে আয়োজন করেছিল অনলাইন বসন্তবরণের।
- আড্ডা জমে উঠেছিল গল্পে, গানে, কবিতায় আর নৃত্যে। বড়দের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশী ক্ষুদে শিল্পীরাও অংশ নেয় এই বসন্তবরণে।
- এই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বিগত বছরগুলোতে প্রবাসী নারীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।
আজ পৃথিবীর নানা প্রান্তেই বাঙ্গালীদের বসবাস, কিন্তু তারা যেখানেই থাকুক না কেন এই বসন্ত বাঙালীকে করে তোলে ব্যাকুল। ঋতুর পরিক্রমায় পৃথিবীর উত্তর গুলার্ধে তাই এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত, যদিও এই দক্ষিণে আসি আসি করছে শরৎ। দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎ আসি আসি করলেও, এখানের বাঙালীর হৃদয়ে ঠিকই উপস্থিত হয়েছে বসন্ত।
এই বসন্তকে সামনে রেখেই মেলবোর্নের পশ্চিমে থাকা কিছু সমমনা নারী গত ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতে তাই আয়োজন করেছিল অনলাইন বসন্তবরণের, যার নির্ধারিত দিন ছিল ১ ফাল্গুন বা ১৪ ফেব্রুয়ারী যা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও। সম্প্রতি মেলবোর্নে আবার কোভিড ১৯-শনাক্তের খবর আসে, আর তাই মেলবোর্নসহ পুরো ভিক্টোরিয়ায় ৫ দিনের কঠোর লকডাউন দেয়া হয়।
কিন্তু জীবন থেমে থাকে না, তাই এই বসন্তকে বরণ করতে অনলাইন আড্ডা জমিয়ে তোলেন মেলবোর্নের গুণী শিল্পীরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মিতা চৌধুরী এসবিএস বাংলাকে জানান, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য রাজ্য থেকেও বিশিষ্ট শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। মেলবোর্নের পরিচিত মুখ সাংস্কৃতি কর্মী সেজুঁতি জামানের মূল সঞ্চালনায় এই আড্ডা জমে উঠেছিল গল্পে, গানে, কবিতায় আর নৃত্যে। বড়দের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশী ক্ষুদে শিল্পীরাও অংশ নেয় এই বসন্তবরণে।

এই অনলাইন আড্ডার শুরুতেই উদ্যোক্তাদের অন্যতম সমন্বয়ক মিতা চৌধুরী ও সেজুঁতি জামান সকলকে ধন্যবাদ জানান তাদের এই অতি স্বল্প সময়ের নোটিসে সকলের সাড়া দেয়ার জন্য।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মী ও চিত্রশিল্পী মিতা চৌধুরী বলেন, আমরা জানি যে আমাদের সবার মনেই হতাশা কাজ করছে আমাদের নির্ধারিত দিনে বহু প্রতীক্ষিত বসন্তবরণটি আপাততঃ না করতে পারার কারণে। তবে এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ ও দায়িত্ব সুস্থ থাকা, নিজ কমিউনিটিকে সুস্থ রাখা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আরোপিত বিধি নিষেধ গুলো মেনে চলা।
আড্ডায় প্রথমেই গান পরিবেশণ করেন সংস্কৃতি কর্মী ও লেখক ফারিনা মাহমুদ যিনি নিজেও এই উদ্যোগের একজন নিবেদিত কর্মী। ব্রিসবেন থেকে গান পরিবেশন করেন স্বনামধন্য শিল্পী অবনী মাহবুব। উল্লেখ্য, আজই ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই গুণী শিল্পীর একটি নতুন গান।
আড্ডায় নাচ পরিবেশন করেন অস্ট্রেলিয়ার সবার পরিচিত গুণী নৃত্যশিল্পী সৈয়াদা সায়রা, উদ্যোক্তারা এই গুণী শিল্পীর কাজে অত্যন্ত মুগ্ধ যে মাত্র ৩ঘন্টার নোটিসে সায়েরা সবাইকে একটি মনোমুগ্ধকর নৃত্য উপহার দেন।

এই অনলাইন ইভেন্টে আরো অংশ নিয়েছেন কবি ও শিল্পী ওয়াজিহ রাজীব এবং তার ছেলে অরিত্র, তারা অঞ্জন দত্তের গান পরিবেশন করেন। আয়োজকরা জনাব ওয়াজিহ রাজীবের নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এত স্বল্প সময়ের নোটিসে এই আড্ডায় যোগ দেয়ার জন্য।
আড্ডায় আবৃত্তি করেন অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা রওনাক রাব্বানী সুবর্ণা। এছাড়া গান পরিবেশন আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সদস্য নুসরাত ফারাহ খান তৃনা, রানী ব্যানার্জি, তাসমি ও শারমিন কামাল।
নুসরাত ফারাহ খান তৃনা তার সন্তানদের নিয়ে বাড়ির আঙিনায় বসন্ত উপলক্ষে একটু স্ট্রিট আর্ট প্রদর্শন করেন। তৃনা বলেন, আমার এই কাজটির মূল লক্ষ্য ছিল আমাদের সন্তানরা যারা প্রবাসে বড় হচ্ছে তাদের কাছে নিজ সংস্কৃতিকে ছবির মাধ্যমে উপস্থাপন করা।
বসন্ত বরণের এই আড্ডায় আরো অংশ গ্রহণ করেন, জীনাতুর রেজা খান, লিন্ডা গোমেজ, লাবণ্য, নাহারুমা কামাল সাদিয়া, ইসরাত জাহান, আসমা সিদ্দিকা নিপা, ব্যারিস্টার নুরুল ইসলাম খান, ফারহানা, নাসরিন আক্তার, ড. মারজিয়া রহমান নিশু। অনুষ্ঠানে প্রবাসী ক্ষুদে বাংলাদেশী শিল্পী মানহা, ফাতিন, রাহিল, নূর, এশাল ও সায়ান গান কবিতা ও নাচ পরিবেশন করে।
প্রায় টানা দুই ঘন্টার জমজমাট আড্ডায় চলে এই বসন্তবরণ। সব শেষে এই উদ্যোগের আয়োজকরা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির নারীদের নিয়ে ভবিষ্যতে আরো এই ধরণের আড্ডার আয়োজন করবো যেখানে সাংস্কৃতিক আড্ডার পাশাপাশি প্রবাসী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য, নারী উদ্যোগ, সাধারণ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাবে।
উল্লেখ্য এই আয়োজকরা বিগত বছরগুলোতে প্রবাসী মহিলাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন ।
আরো দেখুন:
