ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ত্রিপুরার গোমতী নদীর উপরে তৈরি ডুম্বুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার কারণে বন্যা হয়েছে, এই তথ্য সঠিক নয়। ভারতের বক্তব্য, সম্প্রতিই বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির জেরে একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর-সহ পূর্ব সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলি প্লাবিত হয়েছে। ওই বন্যা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ভারতের ডুম্বুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার কারণেই এই বন্যা হয়েছে। এই তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছে ভারত সরকার।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত গোমতী নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে বিগত কয়েকদিন ধরেই ভারী বৃষ্টি হয়েছে। মূলত বাঁধের নিচের দিকে জলের প্রবাহের কারণেই বাংলাদেশে এই বন্যা হয়েছে। কেন্দ্রের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যে ডুম্বুর ব্যারেজ-কে বন্যার কারণ বলে দোষারোপ করা হচ্ছে, তা বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই ৩০ মিটার উচ্চতা-সম্পন্ন বাঁধ থেকে জলবিদ্যুৎ উত্পাদন করা হয়। বাংলাদেশও ত্রিপুরার এই বাঁধ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পায়।
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত হয়েছে ৫৪টি নদী। এই নদীগুলিতে বন্যা দুই দেশেরই সমস্যা এবং দুই দেশের মিলিত সহযোগিতাতেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

এর আগে বাংলাদেশের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে ত্রিপুরা রাজ্যে ডম্বুর বাঁধ খুলে দেওয়ায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী বন্যা প্লাবিত। ডম্বুর ও গজলডোবা বাঁধ খুলে দিয়ে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সব সদস্য এবং জাতীয় সংসদের প্রাক্তন সাংসদদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে নয়াদিল্লি-ঢাকা সমঝোতা অনুযায়ী হাসিনা এবং দেশত্যাগী অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জনবিক্ষোভের জেরে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বোন রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে আকাশপথে ঢাকা থেকে উত্তরপ্রদেশের হিন্দন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে চলে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। সেই থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। ঠিক কোন ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে তিনি ভারতে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদী সরকার কিছু জানায় নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল।
ভারত-বাংলাদেশ সমঝোতা অনুযায়ী কূটনৈতিক, ডিপ্লোম্যাটিক বা সরকারি অফিশিয়াল পাসপোর্ট থাকলে বাংলাদেশের কোনও নাগরিক অন্তত ৪৫ দিন কোনও ভিসা ছাড়াই ভারতে অবস্থান করতে পারেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করায় তাঁর ভারতে অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনার বোন রেহানার ক্ষেত্রে অবশ্য কোনও কূটনৈতিক জটিলতা নেই। কারণ, তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। এর ফলে সাধারণ ভিসা অন অ্যারাইভাল, অর্থাৎ, ভারতের মাটিতে পা রাখার পর ব্রিটিশ নাগরিকদের যে ভিসা মঞ্জুর করা হয়, সে অনুযায়ী কার্যত যত দিন খুশি, ভারতে থাকতে পারেন শেখ রেহানা।
