একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যের প্রভাব সম্পর্কে সাবধান করে দিতে ডাক্তারদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসে জুড়ে ব্যাপক দাবানল সিডনিতে বিপজ্জনক বায়ু দূষণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিডনিবাসি আজ আকাশে ঘন ধোঁয়া প্রত্যক্ষ করেছে। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে তীব্র আগুনের ঝুঁকি এবং উত্তপ্ত, ঝড়ো বাতাসের সম্ভাবনা আছে এবং এজন্য নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসিন্দাদের "সতর্ক থাকতে" অনুরোধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আগুনের ধোঁয়ায় শহরের কিছু অংশের বায়ু দূষণ অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে, উত্তর-পশ্চিম সিডনির কিছু জায়গায় বায়ু দূষণের মাত্রার সাথে নয়াদিল্লির মিল আছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের পূর্ব উপকূলের বেশির ভাগ স্থানেই 'সিভিয়ার' বা 'ভেরি হাই ফায়ার ডেঞ্জার' রেটিং দেয়া হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০টির মতো জ্বলতে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক অঞ্চল অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে।
আর্মিডেলের পূর্বে এবরের গাইরা রোডে ১১,০০০ হেক্টর এলাকা পুড়ছে এবং এজন্য মঙ্গলবার সকালে "ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাক্ট" সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগুনে জ্বলতে থাকা দক্ষিণ প্রান্তে তীব্রতা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রুরাল ফায়ার সার্ভিস, এনএসডব্লিউর চিফ কমিশনার শেন ফিৎসিম্মন্স মঙ্গলবার বলেছেন, "এ কথা বলা ঠিক যে এই আগুন আজ আমাদের কাছে সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।"
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ কেট চার্লসওয়ার্থ বলেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্বল স্বাস্থ্যের মধ্যে যে যোগসূত্র আছে তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য চিকিৎসা পেশার একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তিনি এএপিকে বলেন, "জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই বুশফায়ার সম্পর্কে কথা বলতে অস্বীকার করা ধূমপান এবং ফুসফুসের ক্যান্সার সম্পর্কে কথা বলতে অস্বীকার করার মতোই।"
"স্বাস্থ্য পেশার মানুষদের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলার গর্বিত ইতিহাস রয়েছে - যেমন অ্যাসবেস্টস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে চিকিৎসকদের ভূমিকা।"
ডাঃ চার্লসওয়ার্থ বলেছেন, চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে দেখছেন এবং এ বিষয়ে তাদের কথা বলা 'ডিউটি অফ কেয়ার '-এর অংশ।
ডক্টরস ফর এনভায়রনমেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরা বলেন যে ধোঁয়া বা বায়ুদূষণের কারণে হার্ট এবং ফুসফুসের রোগীদের পাশাপাশি বৃদ্ধ, শিশু এবং ছোট বাচ্চারাও অসুস্থ হয়ে পড়বে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের এই মৌসুমের দাবানলে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১.৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি পুড়ে গেছে - যা ১৯৯৩ এবং ১৯৯৪ সালের পুরো মৌসুমের চেয়েও বেশি।
এমার্জেন্সি সার্ভিসেস মিনিস্টার ডেভিড এলিয়ট সোমবার বলেছেন, এই সপ্তাহের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হল ফায়ার ফাইটারদের ক্লান্ত হয়ে পড়া।
