গত শুক্রবার বিকেল তিনটায়, দক্ষিণ ওয়ারওইকের চ্যারি গুলির নিজ বাসা থেকে জঙ্গলে হারিয়ে যায় তিন বছর বয়সী অরোরা। শুরু থেকেই তাকে অনুসরণ করে ১৭ বছর বয়সী কুকুর ম্যাক্স। অরোরাদের সাথেই থাকে ম্যাক্স, যে কানে শোনে না এবং ভালোভাবে দেখতেও পায় না।
অরোরাকে উদ্ধারে যখন পুলিশ এবং জরুরী সংস্থাগুলো ব্যস্ত, তখন ঘুমন্ত অরোরাকে রাতভর পাহারা দিয়েছে ম্যাক্স। রাতে যখন তাপমাত্রা কমে ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামে, ম্যাক্স তখন নিজের শরীরের উঞ্চতা দিয়ে অরোরাকে আগলে রাখে।
নিখোঁজ হবার প্রায় ১৬ ঘন্টা পর, শনিবার সকালে শিশুটিকে যখন জঙ্গলে পাহাড়ের ধারে খুঁজে পাওয়া যায় তখন তার সাথে ছিল ম্যাক্স। শিশু অরোরার দাদি লেইসা ম্যারি বেনেট জানিয়েছেন, তিনি তার নাতনির শব্দ দূর থেকে শুনেছিলেন। যে জায়গায় অরোরাকে পাওয়া গিয়েছে তা তাদের বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে।
“আমি যখন অরোরাকে খুঁজতে খুঁজতে পাহাড়ের উপর উঠলাম, কুকুরটাও আমার কাছে আসলো এবং আমাকে টেনে আমার নাতনির কাছে নিয়ে গেল,” বলেছেন লেইসা। তিনি আরো জানিয়েছেন, অরোরা সুস্থ আছে, তার শরীরে ছোটখাট কিছু আঁচড়ের দাগ আছে, তবে তা দ্রুত নিরাময়যোগ্য।

“মাত্র তিন বছর বয়সের একটা শিশু, আমি কল্পনা করতে পারছি যে রাতে সে নিশ্চয়ই ভয় পেয়েছিল এবং তার শীতও লেগেছিল,” বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ক্রেইগ ব্যারি।
“কুকুরটি এই শিশুটির ভালো সঙ্গী ছিল। তিন বছর বয়সী এই শিশুটিকে কিছুটা আরাম দিতে পেরেছিল ম্যাক্স, তাকে আগলে রেখে উষ্ণতা দিয়েছিল যেন ঠান্ডা না লাগে। এটা আসলেই খুব অদ্ভুত ও দারুণ বিষয়,” বলছিলেন তিনি।
ব্লু হিলার প্রজাতির কুকুর ম্যাক্সের এই কৃতিত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে প্রশংসা। কুইন্সল্যান্ডের পুলিশ বিভাগও আছে এ তালিকায়। টুইটারে ম্যাক্সকে ‘অনারারি পুলিশ ডগ’ উপাধি দিয়েছে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ।
