মূল বিষয়গুলো:
- ২০২১ সালে ৬০ শতাংশ নারী গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যে প্রসবকালীন সেবা গ্রহণ করেছিলেন
- সাধারণত বিদেশে জন্মগ্রহণকারী নারী এবং কম বয়সী নারীদের মধ্যে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে সেবা নেওয়ার হার অনেক কম দেখা যায়
- নিয়মিত স্বাস্থ্য-পরীক্ষার সাহায্যে উচ্চ রক্তচাপ ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের মতো প্রাথমিক জটিলতাগুলি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে
ড: অ্যাডেল মারডোলো মেলবোর্নের মাল্টিকালচারাল সেন্টার ফর উইমেন্স হেলথ-এর নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, গর্ভকালীন সেবার মূল লক্ষ্য হল গর্ভবতী নারী এবং তার শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং রোগ প্রতিরোধ করা।
২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার (AIHW) এর প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ৬০ শতাংশ নারী গর্ভাবস্থার প্রথম ১০ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভকালীন সেবা গ্রহণ করেছিলেন।
ড: মারডোলো বলেন, যে চারটি গ্রুপের নারীদের মধ্যে প্রথম ট্রাইমেস্টারে গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের জন্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে, তাদের মধ্যে একটি গ্রুপ হচ্ছে অভিবাসী নারীরা।

কিন্তু নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক জটিলতাগুলি সনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে, বলেন তিনি।
অ্যামান্ডা হেনরি UNSW-এর অবসটেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সেন্ট জর্জ পাবলিক হসপিটাল ও সিডনির রয়্যাল হসপিটাল ফর উইমেন-এর অবসটেট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি বলেন, ১৪ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বরং প্রথম ১০ সপ্তাহের ভেতরেই গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের জন্যে নারীদের উদ্যোগী হওয়া দরকার।
অধ্যাপক হেনরি আরও বলেন, প্রথমবার সাধারণত একজন জিপি বা জেনারেল প্র্যাকটিশনার এর সাথে দেখা করে পরামর্শ নেয়া উচিৎ।
জিপি তখন গর্ভবতী নারীর সঙ্গে পাবলিক এবং প্রাইভেট কেয়ারের বিস্তারিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করে থাকেন।
আল্ট্রাসাউন্ডের ব্যাপারে অধ্যাপক হেনরি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় একমাত্র ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহে করা আল্ট্রাসাউন্ডটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।

যদিও অনেক নারীই একদম শুরুর দিকে ডেটিং স্ক্যান করিয়ে থাকেন।
পরবর্তী যে স্ক্যান অনেকেই করে থাকেন, সেটি হচ্ছে গর্ভাবস্থার ১১ থেকে ১৩ সপ্তাহের স্ক্যানিং।
অধ্যাপক হেনরি বলেছেন যে এই স্ক্যানটি বিভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন: ‘নিউট্রাল ট্রান্সলুসেন্সি স্ক্যান', ‘ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার স্ক্রিনিং স্ক্যান' বা 'প্রাথমিক অ্যানাটমি স্ক্যান'।

মরফোলজি স্ক্যানের মাধ্যমে গর্ভধারণের ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে শিশুর সামগ্রিক গঠন পরীক্ষা করা হয়, জানান অধ্যাপক হেনরি।
তিনি আরও বলেন, শিশুর কাঠামোগত কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে তার মাত্র ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ ২০ সপ্তাহের পরে করা স্ক্যানের মাধ্যমে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাঁর মতে, এমন কোনও পরীক্ষা নেই যার মাধ্যমে একশত ভাগ নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে যে গর্ভের শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।

তবে ড: মারডোলো বলেন, সঠিক সময়ে গর্ভকালীন স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করে প্রাথমিক জটিলতাগুলি সনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্মের সময়ে শিশুর মৃত্যুও ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
তিনি বলেন, গর্ভধারণের লক্ষণ জানতে পারার সাথে সাথেই নারীদের উচিৎ জিপি-র সাথে দেখা করার জন্যে যোগাযোগ করা, কারণ মাঝে মাঝে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইংরেজিতে কথা বলতে অপারগ নারীদের অনেকেই জানেন না যে গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের জন্যে তাঁরা প্রয়োজনে একজন দোভাষীর সাহায্য নিতে পারেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-পেয়ার বাটনে ক্লিক করুন।



