Australia Explained: ব্যাগ গোছানোর আগে জেনে নিন অস্ট্রেলিয়ার বায়োসিকিউরিটি নিয়মগুলো কী কী

Woman and suitcase for travel summertime vacation packing clothing. relax and getaway preparation

You should always pack your own bags when preparing to travel. Source: iStockphoto / Natee Meepian/Getty Images

অস্ট্রেলিয়ায় আসার জন্য ব্যাগ গোছানোর আগে জেনে নিন—কোন জিনিসগুলো নিয়ে আসা যাবে, কোনগুলো যাবে না, এবং বায়োসিকিউরিটি নিয়ম অমান্য করলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


মূল বিষয়:
  • সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু রয়েছে আমাদের অনন্য পরিবেশ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য।
  • প্রত্যেক আগমনকারীকেই একটি ‘ইনকামিং প্যাসেঞ্জার কার্ড’ পূরণ করতে হবে। এটি একটি আইনি নথি।
  • খাদ্যসামগ্রী ও উদ্ভিদ থেকে তৈরি পণ্যসামগ্রী উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো অবশ্যই ঘোষণা করতে হবে।
  • কোনো কিছু গোপন করলে জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে।
  • কোনো কিছু নিয়ে নিশ্চিত না হলে সেটি ঘোষণা করুন।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশকারী মানুষের জন্য সাধারণত প্রথম যোগাযোগের স্থান হলো কাস্টমস বিভাগ। এয়ারপোর্টে কাস্টমস-এর গেটেই প্রস্তুত থাকেন অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তারা, যাদের লক্ষ্য হলো নিষিদ্ধ পণ্য যেন এদেশে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা আমাদের অনন্য পরিবেশ, অর্থনীতি এবং সমাজকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কার্যকর রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বায়োসিকিউরিটি আইন বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচিত—এবং তার যথেষ্ট কারণও রয়েছে।

একটি দ্বীপ রাষ্ট্র হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া অনেক ধরনের পোকামাকড় ও রোগব্যাধিকে দূরে রাখতে পেরেছে—কিন্তু এই সুরক্ষা নির্ভর করে সতর্কতার ওপর। এমন অনেক খাদ্য ও উদ্ভিজ্জ সামগ্রীর দীর্ঘ তালিকা রয়েছে যেগুলো অস্ট্রেলিয়ায় আনা অনুমোদিত নয়, কারণ সেগুলোর সাথে এমন সব পোকামাকড় বা রোগ চলে আসতে পারে যা আমরা এতদিন বাইরে রাখতে সমর্থ হয়েছি।

কৃষি, মৎস্য ও বন বিভাগে ট্রাভেলার পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস শাখার সহকারী সচিব হিসেবে কাজ করছেন ভিকি ফিশার। তিনি বলেন, “এই বিশাল দ্বীপে আমাদের বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা আমাদের বাণিজ্যের জন্য, আমাদের সমাজের স্বাচ্ছন্দ্যের ও কৃষি উৎপাদনের জন্য এবং আমাদের সুন্দর পরিবেশ ও অসাধারণ দেশীয় প্রজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আসলে যা রক্ষা করার চেষ্টা করছি—তা হলো আমাদের অর্থনীতি, সমাজ, জীবনযাপন পদ্ধতি এবং আমাদের পরিবেশ।”

Australian Border Force Officer_ABF.jpg
Australian Border Force Officers will be one of your first points of contact when entering the country. Credit: ABF

দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষের জীবিকার ভিত্তি হলো আমাদের কৃষি খাত। কঠোর বায়োসিকিউরিটি আইন এটাও নিশ্চিত করে যে অস্ট্রেলিয়া পোকামাকড় ও রোগমুক্ত অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে।

এই কারণেই যখন বিমান বা ক্রুজ জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করা হয়, তখন যাত্রীদের একটি ‘ইনকামিং প্যাসেঞ্জার কার্ড’ পূরণ করতে হয়। এই কার্ডটি সাধারণত বিমানে অথবা বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় দেওয়া হয়ে থাকে।

কার্ডের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের সঙ্গে এমন কোনো সম্ভাব্য নিষিদ্ধ সামগ্রী আছে কি না তা অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্স (ABF) কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিই —যদিও অনেকসময় আমাদের অজান্তেই তা বহন করে থাকি।

Australia Explained—Border Control
It’s vital that you know exactly what’s packed in your own luggage. Source: Moment RF / d3sign/Getty Images

অন্য অনেক প্রশ্নও আমাদের মনে আসে, যেমন, সঙ্গে খাদ্যসামগ্রী কি আনা যাবে? অথবা যদি জুতোয় কাদা লেগে থাকে, বা পরিবারের সদস্যদের জন্য যদি অনেক উপহার সঙ্গে করে নিয়ে আসেন, তাহলে কী হবে?

মিজ ফিশার বলেন,

কার্ডে তালিকাভুক্ত রয়েছে এমন যে-কোনো কিছু সঙ্গে থাকলে তা অবশ্যই ডিক্লেয়ার বা ঘোষণা করতে হবে।
ABF badge_Credit ABF.jpg
Australian Border Control Officers are available to help you complete you Incoming Passenger Card. Credit: ABF

কোনো কিছু ডিক্লেয়ার বা ঘোষণা করলেই যে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জব্দ করা হবে—তা কিন্তু নয়। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা শুধু সেটির ঝুঁকি মূল্যায়ন করেন এবং নিরাপদ জিনিসগুলো নিয়ে যেতে দেন।

কার্ডটি বুঝতে অসুবিধা হলেও যেন সবাই সবকিছু ঘোষণা করতে পারে—তার জন্য সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট নিল সিং বলেন, বায়োসিকিউরিটি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সাহায্য করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

আপনার লাগেজে ঠিক কী কী জিনিস আছে তা ভালোভাবে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই সতর্ক করে দেন অভিজ্ঞ ভ্রমণকারী এলেনি মুটসেলু।

কাস্টমস পার হওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তারা তার ব্যাগে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য খুঁজে পান।

মিজ মুটসেলু ভাগ্যবান ছিলেন—এটাই ছিল তার জন্য প্রথম এবং শেষ ওয়ার্নিং বা সতর্কবার্তা।

নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা বেশ দীর্ঘ, তাই অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সময় কোন জিনিস আনা অনুমোদিত এবং কোনটি ঘোষণা করতে হবে—তা সবাই পরিষ্কারভাবে না-ও জানতে পারেন।

মি. সিং বলেন,

আপনি যদি দ্রব্যটি নিয়ে নিশ্চিত না হন, তাহলে অবশ্যই সেটির উপস্থিতি ঘোষণা করুন।

কারণ কখনও কখনও আপনি যেটাকে নিরাপদ মনে করছেন, সেটিই সবচেয়ে বড় জরিমানার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন জিনিস—যেমন অস্ত্র, অবৈধ মাদক, বিপজ্জনক উপাদান, এমনকি ধারালো বস্তু—এসব নিয়ে আসার ওপর কঠোর নিয়ম রয়েছে। এধরনের সবকিছুই ঘোষণা করতে হবে।

Bird Flu Quarantine Prevention Measures
Quarantine detection dog Willa inspects passenger's baggage at Sydney International Airport. Australia currently has one of the strictest quarantine policies in the world. (Photo by Ian Waldie/Getty Images) Credit: Ian Waldie/Getty Images

আপনি যেসব জিনিস সম্পর্কে নিশ্চিত নন সেগুলো ঘোষণা করলে বায়োসিকিউরিটি কর্মকর্তারা ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারেন এবং আগ্রাসী প্রজাতি নিয়ে আসে এরকম সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধ করতে পারেন।

মিজ ফিশার সতর্ক করে বলেন,

জরিমানা সাধারণত তখনই হয় যখন কেউ ইনকামিং প্যাসেঞ্জার কার্ড-এ সত্য তথ্য ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়।

অন্য কথায় বলা যায়, এসব ক্ষেত্রে শাস্তি হয় সাধারণত কোনো জিনিস বহন করার জন্য নয়—বরং তা সঠিকভাবে ঘোষণা না করার জন্য।

সাধারণ ওষুধ যেমন অ্যাসপিরিন এবং প্যারাসিটামল আনা অনুমোদিত, তবে বেশিরভাগ অন্যান্য ওষুধ—এমনকি যেগুলো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যায়—সেগুলোও ঘোষণা করা উচিত।

মিজ মুটসেলু বলেন,

আমি সবসময় আমার সব ওষুধ ঘোষণা করি—সবকিছু।

"আমার জিপি লিখিতভাবে দিয়েছেন কেন আমার এই ওষুধগুলো দরকার, যাতে প্রয়োজন হলে আমি তা দেখাতে পারি। কিন্তু আমি যখন সব ওষুধ দেখাই, তখন তারা খুবই সহানুভূতিশীল থাকেন।”

আর যদি আপনার কাছে ডাক্তারের একটি সনদ থাকে, তাহলে বিষয়টি সহজ হয়—যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়, যোগ করেন মি. সিং

ABF signage_Credit ABF.JPG
Airport customs is your chance to declare any goods that you're unsure about. Credit: ABF

আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—কত পরিমাণ নগদ অর্থ আইনত অস্ট্রেলিয়ায় আনা যায়।

আসলে এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে দশ হাজার ডলারের বেশি অর্থ থাকলে তা অবশ্যই ঘোষণা করতে হবে। এরপর একটি সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

মদ এবং তামাকের ক্ষেত্রেও সীমা রয়েছে—প্রতি ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ২.২৫ লিটার অ্যালকোহল এবং ২৫টি সিগারেট বা ২৫ গ্রাম তামাক আনা অনুমোদিত। এতে আগমনের সময় কেনা ডিউটি-ফ্রি পণ্যও অন্তর্ভুক্ত।

মি. সিং আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আনা উপহারের মূল্য নিয়েও কিছু নিয়ম রয়েছে।

নিষিদ্ধ পণ্যের একটি বিস্তারিত তালিকা অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।

আপনি যদি অনিশ্চিত হন, তবে তা ঘোষণা করুন। বিমানবন্দরে ইনকামিং প্যাসেঞ্জার কার্ড পূরণ ও বর্ডার ফোর্সের অফিসারদের সঙ্গে কয়েক মিনিট অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা জরিমানা এড়াতে এবং অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ, অর্থনীতি ও জীবনধারা রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।

আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ?  australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।


Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now