২০১৯ সালের ১৫ মার্চ, শুক্রবার নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচ জন বাংলাদেশীসহ ৫১ জন নিহত হন এবং ৪৯ জন আহত হন।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এই ঘটনার ছাঁপ এখনও রয়েছে। নিউ জিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বাংলাদেশ কনসুলেটের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া (অনু) এসবিএস বাংলাকে বলেন,
“গত বছর ১৫ মার্চ শুক্রবার নিউ জিল্যান্ডে যে ঘটনা ঘটেছে দুটি মসজিদে, এটা নিউ জিল্যান্ডবাসীর চিন্তা ও কল্পনার বাইরে ছিল।”
নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জসিন্ডা আর্ডেনের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন,
“আমি ঘটনার পরের দিন সকালে যখন যাই, তখনও ক্রাইস্টচার্চ টাউন ছিল কিছুটা শঙ্কিত, কিছুটা ভীত-সন্ত্রস্ত। তবে দুপুরের দিকে নিউ জিল্যান্ডের প্রাইম মিনিস্টার যখন গেলেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে যখন মিশলেন এবং সবচেয়ে যে জিনিসটা ভাল লেগেছে এবং সেটা মুসলমানদের মধ্যে একটা অনুপ্রেরণা (যুগিয়েছে), ভীতি দূরিকরণে কাজ করেছে, সেটা হচ্ছে, আমাদের প্রাইম মিনিস্টার যে হিজাব পরে গেলেন এবং সবার সঙ্গে কথা বললেন।”
“তারপরই ঘটনাটা আমার চোখের সামনে আমূল পরিবর্তন হয়ে গেল। মুসলমানরা ঘর থেকে বের হলো, সাধারণ মানুষেরা বের হলো।”

সাধারণ মানুষ আগেও বের হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“সাধারণ মানুষ আগেও বের হয়েছিল। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে, ফুল দিয়ে ভরে দিল পুরো মসজিদ। আমি দেখে খুব অবাক হয়েছি।”
তবে, মুসলমানদের উপস্থিতি কম ছিল বলে তিনি জানান।
“মুসলমানদের উপস্থিতি এবং বিশেষ করে দাঁড়িওয়ালা ভদ্রলোক কিংবা হিজাব-পরা মহিলাদের সংখ্যা অনেক কম ছিল। আমার পরিচিত কয়েকজনকে যখন বললাম, তারা ইতস্তত করছিল বাইরে আসার ব্যাপারে।”
অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া (অনু) আরও বলেন, এর ফলে “তাৎক্ষণিকভাবে শোক কিংবা শক (Shock), দুটোই একদিন পর কেটে গেল। তারপর সেই ভয়াবহ স্মৃতি যেটা, সেটা তো অনেক দিন বয়ে যাচ্ছে।”
“বাংলাদেশের পাঁচ জন তো মারা গেছেন। একজন ভাবী এখনও অসুস্থ্য এবং উনার কিছুটা আংশিক পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হয়েছে। উনি প্রায় তিন মাস হাসপাতালে ছিলেন।”
নিউ জিল্যান্ড সরকারের নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন,
“নিউ জিল্যান্ড সরকার ভুক্তভোগীদের শোক কাটিয়ে ওঠার জন্য যত ধরনের সাহায্য করার, আর্থিক, মানবিক এবং প্রশাসনিক (সবই করেছে)। এমন কি অনেকে যারা মারা গেছেন, তাদের ওয়াইফ, ভাই, শ্বাশুড়িকেও নিউ জিল্যান্ডে নাগরিকত্ব পর্যন্ত দিয়েছে। এবং প্রতিটা ফ্যামিলিকে যথেষ্ট পরিমাণে আর্থিক সহযোগিতা এখনও করে যাচ্ছে। তাদের, যাদের প্রিয়জন গেছে, তাদের তো শোক ভোলা যায় না।”

সরকারের এ রকম কার্যক্রমে মুসলমান কমিউনিটিসহ অন্যরাও খুশি বলে জানান অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া (অনু)।
“তবে আমরা মুসলমানরা তো অবশ্যই এবং অন্যান্য কমিউনিটির লোকজন, আমরা নিউ জিল্যান্ডের গভার্নমেন্টের আন্তরিকতা এবং তাদের কর্ম-পদ্ধতি, তাদের কার্যক্রমে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।”
নিউ জিল্যান্ডে বিভিন্ন এথনিক কমিউনিটি রয়েছে। জনাব ভূঁইয়া বলেন,
“মাউরি বলি, সামোয়ান বলি, আরও ছোট ছোট গোষ্ঠী আছে। তারাও আমাদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করেছে।”
নিউ জিল্যান্ডের সরকার ও জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন,
“নিউ জিল্যান্ডের সরকার এবং বেশিরভাগ জনগণ আমাদের প্রতি যে-ধরনের আচার-আচরণ করছেন, আমরা সত্যিই মুগ্ধ এবং সন্তুষ্ট।”

অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার সাক্ষাৎকারটি বাংলায় শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.








