রিলিজিয়াস ডিসক্রিমিনেশন বিলটি বহু বছর ধরে রচিত হচ্ছে। মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রক্ষা করাই এর উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হয়।
কিন্তু আশঙ্কা করা হয়েছে, এই বিলটির ফলে ধর্ম-ভিত্তিক স্কুলগুলো লিঙ্গ-বৈচিত্র্য (জেন্ডার ডাইভারসিটি) মানবে না বা শিক্ষার্থীদের জোর করে বের করে দিতে পারে এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি বৈষম্য করার ক্ষমতা পাবে।
টাসম্যানিয়ার সাংসদ ব্রিজেট আর্চার বলেন, "ধর্মের কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা উচিত নয়, তবে এই বিলটি কারও বিশ্বাসকে রক্ষা করবে না। আমি এর পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত নই৷"

স্টিফেন জোনসেরও একই সন্দেহ। মঙ্গলবার রাতে সকলের চোখ ছিল এই লেবার এমপির দিকে, কারণ তিনি তার লিঙ্গ-বৈচিত্র্যপূর্ণ পুত্রের সমর্থনে এবং তার ভাগ্নের স্মরণে একটি আবেগপূর্ণ বক্তৃতা দিয়েছেন, তার ভাগ্নে লিঙ্গ-পরিচয়ের সংকট থেকে আত্মহত্যা করেছিলেন।
তিনি বলেন, "এটা শুধু আমার বাচ্চাদের জন্য নয়। এটা জোয়ারের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটা আমাদের সব বাচ্চাদের কথা।"
মিঃ জোন্স পার্লামেন্টে বলছিলেন যে, সমকামী এবং ট্রান্সজেন্ডার তরুণ বয়সীদের ভালবাসা এবং সহায়তা দিতে হবে।
এই বক্তৃতার পরে, সবাই প্রত্যাশা করেছিল যে মিস্টার জোনসের অনুভূতির সমর্থনে বিলটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হবে, যা বিরোধীদলেরও প্রতিশ্রুতি ছিলো।
কিন্তু একটি দীর্ঘ ককাস বৈঠকের পর লেবার দলের আইন বিষয়ক মুখপাত্র মার্ক ড্রেফাস বলেন যে লেবার আইনটিকে সমর্থন করবে - তবে কঠোর শর্তে।
লেবার সাংসদ পিটার খলিল এবিসিকে বলেছেন, পার্টি মনে করে যে এখানে ঝুঁকি আছে, এবং ধর্মীয় বৈষম্য থেকে রক্ষা করার জন্য এই মূল সংশোধনগুলির জন্য চাপ দেওয়া উচিত।
পার্টির নেতা অ্যান্থোনি আলবানিজি হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে (প্রতিনিধি পরিষদ) বলেছেন নৈতিক দিকনির্দেশনা এবং (লিঙ্গ-বৈচিত্র্যধারীদের) প্রতি আশা জাগরুক রাখতে সংশোধনীগুলি অত্যন্ত প্রয়োজন।
তবুও কিছু লেবার সমর্থক পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার জন্য লেবারের পরিকল্পনায় হতাশার কথা জানিয়েছে।
অনেকেই তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন, কারণ লেবার বিলটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে না। তারা লেবারকে অভিযুক্ত করে বলছে যে লিঙ্গ-বৈচিত্র্য নিয়ে জন্ম নেয়া ব্যক্তিদের চেয়ে ধার্মিক লোকেরাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু অন্য অনেকের মতো ইকুয়ালিটি অস্ট্রেলিয়ার আনা ব্রাউন মনে করেন পরিবর্তনের পদক্ষেপটি সঠিক পথেই আছে।
তবে আনা ব্রাউন বলেছেন যে সকলের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এখনও অনেক কাজ করা বাকি আছে।
এদিকে, লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন জোট নিজেরাই বিলটির প্রতি সমর্থন এবং বিরোধীতার মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং জোটটি শেষ পর্যন্ত কোন পথে যাবে তা স্পষ্ট নয়।
কিছু কোয়ালিশন এমপি বিলটির পক্ষে আছেন, তবে অনেকের মতো লিবারেল এমপি ডেভ শর্মা দূরত্ব বজায় রাখছেন বলে মনে হচ্ছে।
তিনি স্কাই নিউজকে বলছিলেন যে বিলটি থেকে আদৌ কোন লাভ হবে, নাকি কমিউনিটিকে এক ধাপ পিছিয়ে নেবে সে ব্যাপারতা পরিষ্কার নয় - তবে এটি অনেক আগের একটি প্রতিশ্রুতি।
তবে ফাইন্যান্স মিনিস্টার সাইমন বার্মিংহাম চাপা উত্তেজনার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
তিনি বলছেন যে পার্টির মধ্যপন্থী এবং আরও রক্ষণশীল দলগুলির মধ্যে বিলটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও এটি কোন গভীর সমস্যা নয় বা আইনটি মারাত্মকভাবে ত্রুটিযুক্ত নয়।
তিনি বলেন, "এখনও চ্যালেঞ্জিং কিছু ইস্যু রয়েছে যার কারণে এই আলোচনাগুলি হচ্ছে। কিন্তু লিবারেল এবং ন্যাশনাল পার্টির এমন ব্যক্তিরা আছেন যারা দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংকটের সমাধান করতে চান এবং এখানে ভিন্নমতেরও সুযোগ আছে।"

ধর্মের স্বাধীনতাকে সংজ্ঞায়িত করা এবং ভিন্ন ভিন্ন মূল্যবোধের ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণাগুলো এখনও বড় ধরণের বিতর্কের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে বিলটি হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাশ হলেও সিনেটের মুখোমুখি হতে হবে।
বর্তমান সংসদীয় ক্যালেন্ডারে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে এবং বিলের বিরোধীরা পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু সবাইকে সন্তুষ্ট করে এমন একটি উত্তরের মীমাংসার জন্য যথেষ্ট সময় নেই।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
পুরো প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: https://www.sbs.com.au/language/bangla/program
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।
আরও দেখুন:











