বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার। এতে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এই নির্বাচন নিয়ে এখন আমরা কথা বলছি ব্রিসবেনের গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ গভর্নমেন্ট এন্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স এর রিসার্চ ফেলো এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ রেগুলেশন এন্ড গ্লোবাল গভর্ণেন্স এর ভিজিটিং ফেলো ড. অনুরাগ চাকমার সঙ্গে। [মিউজিক]
সিকদার তাহের আহমদ: ড. অনুরাগ চাকমা, এসবিএস বাংলায় আপনাকে স্বাগত।
ড. অনুরাগ চাকমা: ধন্যবাদ আপনাকে।
সিকদার তাহের আহমদ: বাংলাদেশে কেমন হলো এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট?
ড. অনুরাগ চাকমা: আমি প্রথমে একটু বলে নিই, আমি গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটিতে এখন বিভিন্ন দেশের ইলেকশন নিয়ে কাজ করছি। আমরা বেসিক্যালি চারটা কেস স্টাডি নিয়েছি: অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া এবং ইন্ডিয়া। এবং এই চারটা ইলেকশনের বাইরে আমরা লার্জ অ্যানালাইসিস করব, যেটা স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু এর পরে যত ইলেকশন হয়েছে, মানে আপনার অল ওভার দ্য ওয়ার্ল্ড সমস্ত ইলেকশনগুলো নিয়ে আমরা স্টাডি করতেছি এবং এই ভিতরে আমরা তিনটা বিষয় দেখার চেষ্টা করছি। ইলেকটর রেজিলিয়েন্স, একটা হচ্ছে টেকনোলজিক্যাল চ্যালেঞ্জ। আপনার এই সময়ে সবচাইতে কিন্তু একটা ইলেকশনের যে ইন্টিগ্রিটি, ইলেকশনের যে ফ্রি এন্ড ফেয়ারনেস, এটা কিন্তু নানাভাবে অ্যাফেক্টেড হয় এবং তার মধ্যে একটা হচ্ছে টেকনোলজিক্যাল চ্যালেঞ্জ। কারণ এখন হাতে হাতে আপনার মোবাইল টেকনোলজি, তারপরে অনেক মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন আমরা দেখি। এগুলো করা হয় বেসিক্যালি প্রতিপক্ষকে মোরালি দুর্বল করে তাকে হারিয়ে দেয়ার জন্য। তো এটা খুব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ-
সিকদার তাহের আহমদ: বিষয়টা একটু পরিষ্কার করার জন্য আমি একটুখানি বলি যে, আপনি মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন বললেন, যে একটি হচ্ছে যে ভুল তথ্য, আরেকটিকে আমরা বলতে পারি অপতথ্য, যেটা ইচ্ছাকৃতভাবে সুচিন্তিতভাবে করা হয়।
একজ্যাক্টলি! এবং এটা একটা, এটা একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ এখন এবং এটা ইউএস প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন থেকে শুরু করে আমরা অনেক দেশেই দেখছি। অস্ট্রেলিয়াতেও আমরা অনেক সময় মানে একটা থার্ড স্টেটকে ইনভলভ হতে দেখি। তারপরে আমরা আরেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছি, সেটা হচ্ছে সোসাইটাল লেভেল চ্যালেঞ্জ। যেমন আপনার ইলেকশনের সময় যে সহিংসতাগুলো নাইজেরিয়াতে, কেনিয়াতে, আমরা জিম্বাবুয়েতে অনেক জায়গায় কিন্তু সংশ্লিষ্ট বা রিলেটেড যে ভায়োলেন্সগুলো দেখি, সহিংসতাগুলো দেখি, তো এগুলো কিভাবে ইলেকটর রেজিলিয়েন্সকে ইমপ্যাক্ট অর্থাৎ, আপনার প্রভাবিত করে সেটা আমরা দেখার চেষ্টা করছি। আরেকটা চ্যালেঞ্জ দেখতেছি, সেটা হচ্ছে এনভায়রনমেন্টাল চ্যালেঞ্জ এবং বিশেষ করে ইলেকশনের তিনটা ডাইমেনশন হচ্ছে আমাদের ফোকাস। একটা হচ্ছে পার্টিসিপেশন, জনগণের নির্বাচনে ভোট দেয়ার টার্ন আউট রেট কেমন? তারপরে আরেকটা দেখতেছি হচ্ছে কন্টেস্টেশন, তারপরে অর্গানাইজেশন। তিনটা ডাইমেনশন এবং আমরা এই তিনটা ডাইমেনশনকে তিনটা চ্যালেঞ্জ, এনভায়রনমেন্টাল চ্যালেঞ্জ যেটাকে ধরেন আপনার কোন একটা ন্যাচারাল ডিজাস্টার হলো বা গ্লোবাল একটা যে প্যানডেমিক, আমরা কোভিডের সময় দেখেছি অনেক দেশে ইলেকশন হয়েছে এবং তখন কিন্তু এটা একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ডেমোক্রেসির জন্য। কারণ কোভিডে তো মানুষ ঘর থেকে বের হইতে পারতেছে না। তাহলে তারা কিভাবে মানে ভোট দেবে? একটা ডিসটেন্স মেইনটেইন করতে হচ্ছে একজন এবং আরেকজনের মধ্যে। তারপরে মাস্ক পরে হেলথ রিলেটেড গাইডলাইন ফলো করে যে ইলেকশন মানে করবে, তো অনেক দেশে এটা বড় ধরনের একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। এবং এনভায়রনমেন্টাল চ্যালেঞ্জের ভিতরে আমরা আরও দেখতেছি, যেমন ধরেন আপনার ন্যাচারাল ডিজাস্টার, ফ্লাড হলে বা হিট ওয়েভ হলে তার প্রভাবটা ইলেকশন পার্টিসিপেশনে কেমন পড়ে? সো, ইত্যাদি বিষয় মানে আমরা দেখার চেষ্টা করছি এবং সে জায়গা থেকে আমি বলব আজকের যে আলোচনাটা সিকদার ভাইয়া, আমি মনে করি মানে কিছুটা ইনসাইট হয়তোবা আমি এখানে যোগ করতে পারবো আরকি।
সিকদার তাহের আহমদ: হ্যাঁ, মানে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে। যদিও এটা নিয়ে আপনি সরাসরি কাজ করেন নি, বাট যে এটা আপনার কি মনে হয় যে কেমন হলো?
ড. অনুরাগ চাকমা: তবে আমার একটা পেপার, মানে আমি একটা রিসার্চ আর্টিকেল রিসেন্টলি
সাবমিট করলাম। আমার এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী যিনি কো অথর, আমরা চব্বিশে ইলেকশন নিয়ে কাজ করেছি এবং চব্বিশের ঐ ইলেকশনে বেসিক্যালি হচ্ছে আমরা ইউটিউবের যে কমেন্টসগুলো, এই কমেন্টসগুলোকে নিয়ে আমরা স্টাডি করেছি এবং এখানে আমি প্রায় কয়েক ধরনের অ্যালগরিদম এপ্লাই করে দেখেছি যে, মানুষের সেন্টিমেন্ট পারসেপশন চব্বিশে ইলেকশন নিয়ে কেমন ছিল। তো, আমরা তো জানি চব্বিশের পরেই তো মানে সরকার পতন হয় এবং এবং এটা একটা ইন্টারেস্টিং যে, ওই স্টাডি থেকে আমি যেটা বুঝতে পেরেছি, উপলব্ধি করেছি যে, অনেক সময় পাবলিক পারসেপশন সেন্টিমেন্টগুলো যদি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নেয়, তখন কিন্তু তারা ইজিলি ফরকাস্ট করতে পারবে যে, আপনার ইলেকশনের পরে গভর্নমেন্টের সাসটেইনেবিলিটি কেমন হতে পারে, ইলেকশনের লেজিটিমেসি কেমন, ক্রেডিবিলিটি কেমন? তো যেহেতু মানে এখন তো বিগ ডেটা নিয়ে অনেকেই কাজ করে এবং আপনার পলিটিক্যাল সাইন্সে আমরা যেটাকে বলি ডিজিটাল পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন, অর্থাৎ ডিজিটাল টুল ইউজ করে, আপনার ডিজিটাল টুল যেমন ফেসবুক, ইউটিউব যে বিভিন্ন মাধ্যমগুলো ইনস্টাগ্রাম, তো যেভাবে পলিটিক্যাল পার্টি এবং জনগণ তাদের ইন্টার্যাকশনটা আমরা দেখি, সেটাকে ডিজিটাল পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন হিসেবে আমরা স্টাডি করি এবং ওই জায়গা থেকে দেখলে আমার কিছুটা মানে বাংলাদেশের লেটেস্ট যে ইলেকশনটা চব্বিশেরটা, ওইটা নিয়ে একটু স্মল স্কেলে একটা কাজ আছে আরকি। [হাসি]
সিকদার তাহের আহমদ: আচ্ছা।
ড. অনুরাগ চাকমা: তবে এবারের যে ইলেকশন, আপনি যে প্রশ্নটা করেছেন আমি ওই প্রশ্নেই চলে আসি, যা অনেক সময় নিলাম। একটা হচ্ছে, একটা ইলেকশন ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড কতটুকু অনুসরণ করেছে এবং এগুলো মানে আপনার করতে পেরেছে কিনা?... এবং যদি না পারে, সেক্ষেত্রে কোথায় আমরা ব্যর্থতাগুলো দেখি? এবং পরবর্তীতে এই চ্যালেঞ্জগুলোকে কিভাবে আপনি মিটিগেট করতে পারেন? এই প্রশ্নগুলো কিন্তু পলিটিক্যাল সাইন্সে আপনার দীর্ঘদিনের, কারণ পলিটিক্যাল সাইন্স মানে তো ইলেকশন, ডেমোক্রেসি। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা পড়ি এবং পড়ায় চর্চা করি, গবেষণা করি। তো, এগুলো কিন্তু খুব মানে আপনার পুরনো কোশ্চেন আর কি! আমি যদি দুই একজন স্কলারের নাম বলি, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্টের আপনার পিপা নরিস, খুবই বিখ্যাত স্কলার এবং গ্রিফিথে আমি যার সাথে কাজ করছি, বেসিক্যালি উনারা হচ্ছে একটা টিম আরকি। মানে, ফেরান একজন প্রফেসর আছেন গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের, তো উনার সাথে আমি এখন কাজ করছি। তো, মানে তারা হচ্ছে ইলেকশন আপনার ইন্টিগ্রিটিটাকে অনেকগুলো ইন্ডিকেটর দিয়ে মেজার করছে। আমরা যেমন প্রত্যেকটা বিষয়কে আপনার মেজার করি, যেমন আপনার ধরেন ইলেকশনটা সুস্থ হলো নাকি মানে আপনার সুস্থ হলো না? ইলেকশন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হলো, কতটুকু হলো না, তো ইত্যাদি বিষয়কে আমরা কিভাবে মেজার করব? তো মেজার করার তো অনেকগুলো মাধ্যম থাকতে পারে, অনেকগুলো ইন্ডিকেটর আমরা ইউজ করতে পারি। আমি জাস্ট কুইকলি বলব, মানে আপনার অনেকগুলো ইন্ডিকেটর, এই ইন্ডিকেটরগুলোকে আমরা চারটা স্টেজে ভাগ করি, যেটাকে আমরা ইলেকটর সাইকেল বলি। প্রথমে, প্রথম হচ্ছে যে স্টেজ সেটা হচ্ছে, সেটাকে আমরা বলি হচ্ছে বিফোর দ্যা ইলেকশন। তারপরে আপনার ক্যাম্পেইন পিরিয়ডটা ধরি, তারপরে আরেকটা হয় আপনার ডিউরিং দ্যা ইলেকশন ডে, যেদিন আপনার নির্বাচনের ভোটদান হয়, তারপরে আফটার দ্যা ইলেকশন। পুরো জিনিসটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দেখতে হবে এবং প্রত্যেকটা স্টেজে আপনার ইলেকশনে যে মানে ইন্ডিকেটরগুলো সেগুলো ঠিকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে কিনা। তো আমি এখন ইন্ডিকেটরগুলো একটু বলি, একটা হচ্ছে আপনার ইলেকটরাল যে ল, মানে সেগুলো আমরা ইম্পারশিয়ালি এপ্লাই করতে পেরেছি কিনা? অর্থাৎ ইলেকশন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী আইন, কেউ কোন প্রার্থী লঙ্ঘন করছে কিনা, মানে সেগুলো মনিটরিং করছে কিনা, সুপারভিশন করছে কিনা এবং যদি করে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার মানে কোন ধরনের পানিশমেন্ট দেয়া হলো কিনা? মানে আমরা যেমন যে আপনার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রুমিনা পারভীনের ক্ষেত্রে দেখেছি। তার মানে, এই ইলেকটর যে ল গুলো, এই ল গুলো কিন্তু ইকুয়ালি অ্যাপ্লিকেবল হওয়ার কথা। এগুলো হচ্ছে কিনা? তার মানে এটা একটা ইন্ডিকেটর। যদি না হয়ে থাকে, দ্যাট মিনস ইলেকশন ফ্রি এন্ড ফেয়ার না, ইলেকশনের লেজিটিমেসি নিয়ে আপনার কোশ্চেন আসতে পারে। তারপরে আমরা আরেকটা ইন্ডিকেটর এপ্লাই করি, যেটা হচ্ছে ভোটার রেজিস্ট্রেশন ইন্টিগ্রেটেড। অর্থাৎ, মানে দেখা গেল ভুয়া ভোটারের লিস্ট মানে আছে কিনা? তারপরে আমরা আরেকটা ইন্ডিকেটর এপ্লাই করি, যেটা হচ্ছে যে প্রত্যেকের ইকুয়াল অপরচুনিটি আছে কিনা। ইলেকশনে সে যে মানে দাঁড়াবে, ক্যাম্পেইন করবে তাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে কিনা, তার জীবনের নিরাপত্তার হুমকি দেয়া হচ্ছে কিনা, তো ইত্যাদি বিষয়গুলো হচ্ছে আপনার মানে প্রি-ইলেকশন পিরিয়ড। তারপরে আরেকটা বিষয় হচ্ছে, যেহেতু মিডিয়ার বাইরে তো কোন কিছু না, মিডিয়া কাভারেজটা আপনার ব্যালেন্সড হচ্ছে কিনা, নিরপেক্ষভাবে দেয়া হচ্ছে কিনা, নাকি কোন একটা দলের পক্ষ হয়ে মিডিয়া কাজ করছে। সো, ইত্যাদি বিষয় যদি আমরা টিক চিহ্ন দিতে পারি, তার মানে হচ্ছে আমরা বলতে পারব ইলেকশন, প্রি-ইলেকশন স্টেজে আমার এই ইন্ডিকেটরগুলো যে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড সেগুলোকে আপনার ফুলফিল করতে পারছে। তার মানে হচ্ছে ইলেকশন ফ্রি এন্ড ফেয়ার। তারপরে আপনার ইলেকশন ক্যাম্পেইন যখন হয়, আমরা অনেকগুলো ইন্ডিকেটর দিয়ে সেটাকে মেজার করি, যে এটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করছে কিনা। তার মধ্যে একটা ইন্ডিকেটর হচ্ছে যে, আপনার ফেয়ার কম্পিটিশন কিনা। যেমন, যেমন ধরুন অনেক ক্ষেত্রে আপনার ফাইন্যান্স বাইরে থেকে করা হচ্ছে।
সিকদার তাহের আহমদ: বাইরে বলতে মানে দেশের বাইরের কথা বলছেন?
ড. অনুরাগ চাকমা: দেশের বাইরে থেকে বা যেকোনো একটা অপশক্তি বা মানে ইলেকশনকে প্রভাবিত করার জন্য মানে ভোট বায়িং যে ইয়াটা আরকি, আপনি টাকা দিয়ে-
সিকদার তাহের আহমদ: অননুমোদিত উৎস থেকে যদি আমরা বলি, বেআইনি উৎস থেকে।
ড. অনুরাগ চাকমা: বেআইনি উৎস থেকে, হ্যাঁ। এটা একটা ব্যাপার আছে, ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স সেটা ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা? তারপরে ভোটাররা সঠিক ইনফরমেশন রিসিভ করছে কিনা, সেখানে কোন ধরনের গাপেলোতি বা আপনার কোন ধরনের লেকিংস আছে কিনা, এটা হচ্ছে ক্যাম্পেইনের সময়। তারপরে আরেকটা হয় কি, মানে সবচাইতে যেটা ইম্পর্টেন্ট আমাদের দেশগুলোতে, যেহেতু ইলেকশন মানেই তো হচ্ছে একটা আনন্দ। আবার তার বিপরীতে আমরা দেখি সহিংসতা, যেহেতু এটা একটা পাওয়ার স্ট্রাগল। প্রত্যেক দলেরই চাই হচ্ছে যেভাবেই হোক ক্ষমতায় যাওয়ার। তো যার ফলে একটা ইন্ডিকেটর আমরা এপ্লাই করি, সেটা হচ্ছে আপনার ভায়োলেন্স হচ্ছে কিনা? তার মানে হচ্ছে, আমরা চারটা স্টেজে ইলেকটর সাইকেলকে দেখি এবং দুইটা স্টেজটা আমি বলেই নিলাম। আর বাকি দুইটা স্টেজ যেদিন আপনার ইলেকশন হয়, ওই ইলেকশন ডে তে হচ্ছে আপনার যেমন ব্যালট সিকিউরিটি। কারণ ব্যালট বক্স তো আমরা দেখি চুরি হয়ে যায়, এটা হচ্ছে কিনা? তারপরে কাউন্টিং একুরেসি, যেটা নিয়ে এখন একটা বিতর্ক হচ্ছে, বিশেষ করে মির্জা আব্বাসের যে সাথে যে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি। সো, কাউন্টিং নিয়ে একটা এখানে বিষয় ছিল। তারপরে অনেক জায়গায় এবং জামাত এগারো দলীয় জোটের যে ব্রিফিং আমরা দেখলাম, যে তারা এই বিষয়টাকে হাইলাইট করেছে। অনেক জায়গায় মানে প্রতিপক্ষকে জিতিয়ে দেয়ার জন্য ভোট সুস্থভাবে গণনা হয় না। এটা একটা, তারপরে আপনার যেদিন ইলেকশন শেষ হবে, আফটার দ্যা ইলেকশন, সো ইলেকশনের পরে যে ইলেকশন কেন্দ্রিক যে ডিসপিউটগুলো, বিবাদগুলো তৈরি হয়েছে, এগুলো পিসফুলি রিজলভ করা হচ্ছে কিনা? কারণ পিসফুল ট্রান্সফার অফ পাওয়ারটা হচ্ছে ডেমোক্রেসির সবচাইতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা পিলার। এবং আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে কি, ডেমোক্রেসির সৌন্দর্য হচ্ছে যে দল বা যে...... পক্ষ হেরে যাবে তারা এটাকে সাদরে গ্রহণ করবে এবং তাদের প্রতিপক্ষ যারা জিতবে তাদেরকে হচ্ছে, ওয়েলকাম জানাবে। তা আমাদের এই জিনিসটা আমরা দেখতে পাচ্ছি কিনা? আমি কিন্তু এই ইন্ডিকেটর গুলো যদি ধরি, তো একটা মিক্সড অবজারভেশন আমার কাছে। প্রথমত, আমি বলব এই ইলেকশনটা বাংলাদেশকে একটা ক্রাইসিস থেকে তুলে নিয়ে আসার জন্য খুবই ইম্পর্টেন্ট। কিন্তু সেই সাথে মানে যে কুইশনটা রিলেটেড সেটা হচ্ছে, এই ইলেকশন আমার পরবর্তীতে যে ডেমোক্রেসি, গণতন্ত্র, সুশাসন এগুলোকে কতটুকু মজবুত করতে পারে সেটা হচ্ছে এখন দেখার বিষয়। যেহেতু, এখানে ইলেকশনের আরেকটা অবজারভেশন আমার, সেটা হচ্ছে যে, এই ইলেকশন মানে নানা দিক থেকে আপনি দেখলে খুবই ইন্টারেস্টিং। একটা হচ্ছে, এই প্রথম ইলেকশনের সাথে একটা রেফারেন্ডাম হয়ে গেল এবং এই রেফারেন্ডামে আপনি চিত্রগুলো দেখেন, মানে হিসাব নিকাশ করলে দেখবেন কিছু দৃষ্টিগুলোতে মানে যেমন ঢাকার দশ আসনে আমি দেখলাম সবচাইতে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট পড়েছে। আবার আমার তিন পার্বত্য জেলা আমি খাগড়াছড়ি থেকে, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি না ভোট সবচাইতে বেশি পড়েছে। আমরা হয়তো স্টাডি করলে বের করতে পারব যে, কোন এলাকাগুলোতে হ্যাঁ ভোট বেশি, কোন এলাকাগুলোতে হয়তো ডেমোগ্রাফিক প্রোফাইল, তারপরে ইকোনমিক কন্ডিশন ইত্যাদি ভেরিয়েবল নিয়ে আমরা হয়তো মানে অ্যানালাইসিস করে দেখতে পারি যে, কোন কোন বিষয়গুলো আপনার হ্যাঁ ভোটের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছে। কোন কোন বিষয়গুলো যেমন সোসিও ইকোনমিক কন্ডিশন, হয়তো কালচারাল ডাইভারসিটি, এথনিক ডাইভারসিটি তো এগুলো মানে আপনার প্রভাবটা কেমন পড়েছে গণভোটের ক্ষেত্রে আরকি? তো এটা একটা, আরেকটা বিষয় হচ্ছে যেটা ইন্টারেস্টিং সেটা হলো যে, এই ইলেকশনের মাধ্যমে আমরা দেখলাম জামাত মনে হয় এই প্রথম যে একটা বিরোধী দলের অবস্থানে গেল আরকি! যেটা হচ্ছে একটা নতুন ডাইমেনশন বাংলাদেশের রাজনীতিতে।
সিকদার তাহের আহমদ: ডক্টর অনুরাগ চাকমা, এসবিএস বাংলাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. অনুরাগ চাকমা: ধন্যবাদ, সিকদার ভাই।
END OF TRANSCRIPT