মূল দিকগুলো
- এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বরেণ্য ২১ জন চিত্রশিল্পীর ৩১ টি চিত্রকর্ম থাকছে।
- প্রায় দুই দশক ধরে এই শিল্পকর্মগুলো সংগ্রহ করেছেন নীরা এবং আতিক রহমান দম্পতি।
- ২৭ অগাষ্ট থেকে শুরু করে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ সপ্তাহব্যাপী প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত ন'টা পর্যন্ত ডেকিন ইউনিভার্সিটির বারউড ক্যাম্পাসে বিনামূল্যে এই প্রদর্শনী দেখতে পারবেন দর্শকরা।
বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান দম্পতি নীরা এবং আতিক রহমানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের এই শিল্পকর্মগুলি অনন্যভাবে বাংলাদেশের হৃদয় ও আত্মাকে, এর জনগণ এবং এর কয়েক শতাব্দীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকেই তুলে ধরে।
অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই বছরে এমন একটি আয়োজন অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের সৌন্দর্যকেই প্রতিফলিত করে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
এসবিএস বাংলার সাথে কথা হয় এই শিল্পকর্মগুলোর সংগ্রাহক নীরা এবং আতিক রহমান দম্পতির সাথে।
'বাংলাদেশের হৃদয় হতে' প্রদর্শনী এবং এর নামকরণ সম্পর্কে মিজ নীরা রহমান বলেন, 'এখানে আমি একটু রবি ঠাকুরকে মনে করে বলি, দেশতো মাটিতে তৈরি নয়, দেশ মানুষের তৈরি। আমরা বাংলাদেশি প্রবাসীরা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছি, প্রত্যেকেই এক টুকরো বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করি, অন্যদিকে রং তুলির আঁচড়ে বা পেন্সিলের রেখায় একজন শিল্পী তার আঁকা ছবিতে শুধুমাত্র তার শিল্পিত মনের প্রকাশই তো ঘটান না, বরং তা হয়ে ওঠে একটি জনপদের যাপিত জীবনের প্রতিচ্ছবি। এই ছবির মাধ্যমে সেই ভূখণ্ডের মানুষের আবেগ অনুভূতির একটি চিত্রিত রূপ, ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরা যায় সহজেই।'

'এই যে বাংলা দেশের হৃদয় হতে কথাটা আমরা নিয়েছি রবীন্দ্রনাথের গান থেকে, তার কারণ আমরা ভেবেছি এই ছবিগুলো বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের কথা বলে, ইতিহাসের কথা বলে এবং সংস্কৃতির কথা বলে এবং এটি কোন নিছক ছবির প্রদর্শনী নয়, এটি যেন আমাদের কাছে বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে বহু যোজন দূরে আরেক টুকরো বাংলাদেশ,' বলেন তিনি।
নীরা রহমান বলেন, 'শিল্পীর আঁকা ছবিতে ফুটে উঠবে সেই গল্প যা বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের হৃদয়ের ধ্বনি স্পন্দিত হবে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়াতে, এরকম ভাবনা থেকেই আমরা নামটা রবীন্দ্রনাথ থেকে নিয়েছি।'

এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বরেণ্য ২১ জন চিত্রশিল্পীর ৩১ টি চিত্রকর্ম থাকছে।
মিজ রহমান বলেন, 'এই শিল্পীরা প্রত্যেকেই স্বনামধন্য এবং নিজ নিজ নামে খ্যাত। চিত্রশিল্পী হিসেবে তারা প্রত্যেকে একেকজন নক্ষত্র।'
এই শিল্পীরা হলেন, (বর্ণানুক্রমিক অনুসারে ) আব্দুল মান্নান, আব্দুস শাকুর শাহ, অলকেশ ঘোষ, বীরেন সোম, ফরিদা জামান, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, জামাল আহমেদ, কনকচাঁপা চাকমা, কারু তিতাস, কাজি শহীদ, মোহাম্মদ ইকবাল, মনিরুল ইসলাম, মনসুর-উল করিম, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন্নবী, রনজিত দাশ, রোকেয়া সুলতানা, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সমর মজুমদার, শেখ আফজাল, এবং সমরজিৎ রায় চৌধুরী।
প্রায় দুই দশক ধরে এই শিল্পকর্মগুলো সংগ্রহ করেছেন নীরা এবং আতিক রহমান দম্পতি। নীরা রহমান ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্নের ফ্যাকাল্টি অফ আর্টসের আর্টস টিচিং ইনোভেশনের একজন শিক্ষক এবং আতিক রহমান কাজ করছেন ইন্টারন্যাশনাল এইড এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে।

এবছর অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি চলছে - এর প্রেক্ষিতে এই প্রদর্শনীর তাৎপর্য সম্পর্কে মি. আতিক রহমান বলেন, 'পশ্চিমা বিশ্বে অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে প্রথম দেশ যারা বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল ১৯৭২ সালের শুরুতে, সে অর্থে আমরা এখন বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি।'
'তবে একটা বিষয় লক্ষণীয় অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের পরিচিতি সে অর্থে হয়ে ওঠেনি, যেমনটি ভারত বা চীনের বেলায় হয়েছে। বাংলাদেশকে তারা চেনে গার্মেন্টস এক্সপোর্টার কিংবা ক্রিকেট নেশন হিসেবে।'
'কিন্তু আমাদের যে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে সেটি কিন্তু তুলে ধরার সুযোগ হয়নি। সেই চিন্তা থেকে যখন আমরা একটি শিল্প প্রদর্শনী করছি যার উদ্দেশ্য হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার যে জনগোষ্ঠী আছে তাদের কাছে আমাদের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরা, তারা আসবেন এই প্রদর্শনীতে এবং বাংলাদেশের শিল্পী এবং সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হবেন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা,' বলেন তিনি।

মি. রহমান বলেন, 'কূটনৈতিক সম্পর্কের একটা বড় বিষয় হলো জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, যা সরকারের সাথে সরকারের যোগাযোগের বাইরের একটি বিষয়। একটি দেশের জনগণ যখন আরেকটি দেশের জনগণ সম্পর্কে জানতে বা বুঝতে পারে তখন দৃঢ় সম্পর্ক তৈরী হয় এবং সেই দিক থেকে এমন একটি প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের শিল্পীদের কাজগুলো তুলে ধরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।'
এটি যাদের সহায়তা পেয়েছেন সে সম্পর্কে মি. আতিক রহমান বলেন, এতে সহায়তা করেছে ডেকিন ইউনিভার্সিটি আর্ট গ্যালারি, এছাড়াও আমি ধন্যবাদ জানাবো অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশন ইন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হাই কমিশন ইন ক্যানবেররা; তাদের রাষ্ট্রদূতরা আমাদের শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়েছেন যা আমাদের পরম পাওয়া।
'সবশেষে আমি ধন্যবাদ দেবো প্রত্যেক শিল্পীকে তারা প্রদর্শনী আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন অত্যন্ত অমায়িক ভাবে,' বলেন তিনি।

২৬ অগাস্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন ডেকিনের স্কুল অফ হিউম্যানিটিজ এন্ড সোশ্যাল সায়েন্সের প্রফেসর গায়ে স্কালথর্প।
২৭ অগাষ্ট থেকে শুরু করে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ সপ্তাহব্যাপী প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত ন'টা পর্যন্ত ডেকিন ইউনিভার্সিটির বারউড ক্যাম্পাসে বিনামূল্যে এই প্রদর্শনী দেখতে পারবেন দর্শকরা।
মেলবোর্নের বাইরের দর্শকদের জন্য একটা ভার্চুয়াল ট্যুর থাকবে। এ সম্পর্কে ডেকিন ইউনিভার্সিটি আর্ট গ্যালারির ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
নীরা এবং আতিক রহমান দম্পতির পুরো সাক্ষাৎকারটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।












