বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহতের পরিবারের আহ্বান: তদন্ত করতে গিয়ে যেন তাদেরকে হয়রানি করা না হয়

dbcd6b23-2cd0-4470-b29c-071c2e3ae3f4.jfif

In protest of the Gopalganj incident in Bangladesh, a rally was organised in Melbourne on Sunday, July 20, 2025, by an organisation named 'Hridoye 71'. Credit: Dr Mollah Haque

বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে সম্প্রতি এনসিপি-র সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন।


বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই, ২০২৫ গোপালগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। সমাবেশে হামলা এবং তার পরবর্তী ঘটনায় অন্তত পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন।

সমাবেশে 'হামলার ঘটনা' ঘটলেও বাংলাদেশ পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে নি বলে জানিয়েছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

তবে, এনসিপি-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর অভিযোগ, এই হামলায় আওয়ামী লীগ আশ্রিত দুষ্কৃতিকারীরা যুক্ত ছিল।

এদিকে গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ‘অতিরিক্ত’ বলপ্রয়োগ ও প্রকাশ্যে গুলি চালনার ঘটনায় পাঁচ জন নিহত এবং অনেকে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

এছাড়া দুই দিনব্যাপী সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানের পর আসক বলছে, গোপালগঞ্জে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।

এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। সহিংসতার যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

গোপালগঞ্জের ওই নিহতদের একজন দীপ্ত সাহা। মি. সাহার বোন ও ভগ্নিপতি মেলবোর্নের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে দীপ্ত সাহার ভগ্নিপতি রাতুল বিশ্বাস এসবিএস বাংলার সাথে কথা বলেছেন।

রাতুল বিশ্বাস বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে দীপ্ত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে গুলিতে আহত হয়, ঘটনাস্থলটি তার প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে অবস্থিত। এরপরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও ঐদিন বিকেলে ২৮ বছরের যুবক দীপ্ত মারা যান।

"এরপর কোন পোস্ট মর্টেম ছাড়াই তার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।"

Dipto Saha.jpg
Twenty-eight-year-old Dipto Saha was tragically shot amid the clashes in Gopalganj, Bangladesh, while walking to his business just 50 metres away. He later succumbed to his injuries in hospital. Credit: Ratul Biswas/ Facebook

মি. বিশ্বাস তার শ্যালক দীপ্ত সাহা সম্পর্কে আরো বলেন, "আমার জানামতে দীপ্ত কোন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী ছিল না।"

এই ঘটনায় দীপ্তর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা করা হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পর দীপ্ত সাহার মা, বোন, ভাইসহ পুরো পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তাই মামলা করার বিষয়ে তারা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

তবে রাতুল বিশ্বাস যোগ করেন, "যদি (বাংলাদেশের) পুলিশ-প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করে থাকে, কোন তদন্ত বা তথ্যের জন্য আমাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে, তবে তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, আমার পরিবারের সবার মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদের যতটুকু কম হয়রানি করা যায়, তারা যেন সেটা করেন, এবং তারা যাতে তাদের কাজ দক্ষতার সাথে পালন করেন।"

গোপালগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে মেলবোর্নে গত ২০ জুলাই ২০২৫, রবিবার একটি সমাবেশের আয়োজন করে “হৃদয়ে ৭১” নামের একটি সংগঠন।

মেলবোর্নের পশ্চিমে টার্নিটের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ' এই সংগঠনটি গোপালগঞ্জে গত ১৬ জুলাই সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনার নিন্দা করে। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিরা বর্তমান সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী-সহ অন্যান্য বাহিনীর গুলিতে মারা গিয়েছেন।

এছাড়া সংঘর্ষ পরবর্তী কার্ফিউ এবং ১৪৪ ধারা জারি এবং ‘অসংখ্য’ লোককে গ্রেপ্তার এবং ‘হয়রানি’ করার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করা হয় ওই প্রতিবাদ সভায়।

এতে অংশ নিয়েছিলেন ড. মোল্লা মো. রাশিদুল হক, ড. কাইয়ুম-উজ-জামান মোল্লা, বাঁধন, রাকসান্ড কামাল, মিতা চৌধুরী, মফিজুল ইসলাম, এহতেশামুল হক পিকলু প্রমুখ।

বক্তারা গোপালগঞ্জের এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানান এবং ‘হত্যাকারীদের’ দ্রুত বিচার দাবি করেন।

গোপালগঞ্জের ঘটনা সম্পর্কে ড. মোল্লা হক বলেন, আমরা বাংলাদেশের গণমাধ্যম থেকে জেনেছি, এই ঘটনার পর সেখানে কারফিউ এবং ১৪৪ ধারা জারি করে ঘরে ঘরে গিয়ে গোপালগঞ্জের সাধারণ নিরীহ মানুষদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

"বিগত ১২ মাসে বাংলাদেশে ‘মব ভায়োলেন্সে’ নিহত ‘শত শত’ মানুষের মৃত্যু, জঙ্গি ও অপরাধীদের জেল থেকে ছেড়ে দেয়া, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের কর্মীদের বিনা বিচারে জেল-হাজতে প্রেরণ, ধর্ষণ, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি এবং চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ায় এবং দেশের মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা (বাংলাদেশের) বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগ দাবি করি”, বলেন ড. হক।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।

এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট

আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?

এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।

এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.

আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস


Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now