মূল বিষয়গুলি:
- সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৯২ শতাংশ মানুষ লাইব্রেরিকে নিরাপদ স্থান বলে মনে করেন
- বই ছাড়াও লাইব্রেরিতে আরও অনেক সেবা পাওয়া যায়
- বিশেষজ্ঞরা বলছেন লাইব্রেরি মানুষকে নতুন বন্ধু খুঁজে নেয়ার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করে
সামার ও সাবরিনা নামের দুই তরুণী বলেন, পাঁচ বছর বয়স থেকে তাঁরা ‘লাইব্রেরিতেই বড় হয়েছেন’। বই পড়ে সামার শিখেছেন কীভাবে ছবি আঁকতে হয়, আর সাবরিনা অনুপ্রাণিত হয়েছেন বাস্কেটবল খেলতে।
অন্যদিকে, স্থানীয় একজন লাইব্রেরিয়ানের সহায়তা নিয়ে বেভ খুঁজে বের করেছেন তাঁর সৎ ভাই কেভকে। এভাবেই বহু বছর পরে পুনর্মিলন ঘটে এই পরিবারটির।
এ রকম অনেক গল্পই দেখা যায় ‘লাইব্রেরিজ চেঞ্জ লাইভস’ ওয়েবসাইটে। এই সাইটটি পাবলিক লাইব্রেরি ভিক্টোরিয়া বা সংক্ষেপে পিএলভি এবং স্টেট লাইব্রেরি ভিক্টোরিয়ার পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট। স্টেটজুড়ে লাইব্রেরির মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের জীবন বদলে যাওয়ার গল্পগুলো এখানে তুলে ধরা হয়।
READ MORE

নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক লাইব্রেরিগুলি কেবল বইই সরবরাহ করে না, সেই সাথে মানুষকে একটা নিরাপদ স্থানও দেয়, যার মাধ্যমে সহজেই দরকারি তথ্য অনুসন্ধান করা যায়, এবং নিজেদের দক্ষতা উন্নত করা যায়।
এ কারণেই কারো কারো কাছে লাইব্রেরি হচ্ছে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার একটি অভয়ারণ্য।
২০২০ সালে কোরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে আসা কেরির কথাই ধরা যাক, মাত্র তিন মাসের ছুটি কাটাতে এলেও কোভিড-১৯ লকডাউনের কারণে তিনি আর ফিরে যেতে পারেননি।
একাকিত্ব দূর করতে এবং মনোবল ধরে রাখতে তিনি মেলবোর্ন সিটি লাইব্রেরি পরিচালিত 'কনভারসেশন ক্লাব'-এ যোগ দেন।
কেরি জানান, তিনি প্রায় প্রতিদিনই ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। আর কোভিডের কারণে সবাই খুব নিয়মিত কনভারসেশন ক্লাবে যোগ দিতেন। তাই বাড়ি থেকে বের না হয়েও তাঁদের যোগাযোগ কখনো থেমে থাকেনি।
অ্যাঞ্জেলা স্যাভেজ পাবলিক লাইব্রেরি ভিক্টোরিয়ার শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা। এই সংস্থাটি 'লাইব্রেরিজ ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং' নামে একটি কার্যক্রম চালাচ্ছে।
মিজ স্যাভেজ বলেন, লাইব্রেরি মানুষকে অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি নিরাপদ স্থান দেয়। এখানকার পাবলিক লাইব্রেরিগুলি মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ করে না। সবার জন্যেই এগুলি নানা রকম কার্যক্রম চালায়।

এই কার্যক্রমগুলির মধ্যে রয়েছে বুক ক্লাব এবং ক্রাফটস গ্রুপ। আরেকটি উদ্যোগ যা ‘লাইব্রেরিজ আফটার ডার্ক’ নামে পরিচিত, এটি মূলত জুয়া খেলা সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বোর্ড গেম বা চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সহায়তা করার চেষ্টা করে।
মিজ স্যাভেজ মনে করেন যে তাদের অবকাঠামোগত সুবিধার কারণেই পাবলিক লাইব্রেরি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ড: তারান্নুম রহমান ওশিন ওয়েস্টার্ন সিডনিতে কর্মরত একজন সাইকিয়াট্রি রেজিস্ট্রার। তিনি বলেন, লাইব্রেরির মতো 'নিরাপদ স্থান' মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে।
চলতি বছরের মার্চ ও মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার লাইব্রেরি ব্যবহারকারীর ওপর পিএলভি ও স্টেট লাইব্রেরি ভিক্টোরিয়া পরিচালিত দুটি জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, ৯২ শতাংশ মানুষ পাবলিক লাইব্রেরিকে নিরাপদ স্থান হিসেবে মনে করেন। প্রায় ৭২ শতাংশ বলেছেন যে তারা যখন লাইব্রেরিতে যান তখন তারা আরও ভাল বোধ করেন।
একই পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী বলেছেন যে লাইব্রেরি তাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নাজনীন আনোয়ার, যিনি কগনিটিভ নিউরোসাইকোলজির একজন গবেষক ও শিক্ষাবিদ, তিনি মনে করেন যে পাবলিক লাইব্রেরি মানুষকে একাকীত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং নতুন বন্ধু খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।
পাবলিক লাইব্রেরি স্টেট লাইব্রেরি ভিক্টোরিয়ার সাথে একযোগে বেশ কয়েকটি কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে।
মিজ স্যাভেজ জানান, এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিভিন্ন পটভূমির তরুণদের জন্যে পরিচালিত কার্যক্রম। যেমন, LGBTIQ তরুণদের জন্যে আলাদা একটি কর্মসূচী রয়েছে, আবার রিফিউজি এবং আশ্রয়প্রার্থী তরুণদের জন্যে রয়েছে আরেকটি কর্মসূচী।
পাবলিক লাইব্রেরিগুলি ইতিমধ্যে যে ভূমিকা পালন করছে তা অনস্বীকার্য। তবে মিজ আনোয়ার মনে করেন যে দরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ড: ওশিনও বলেন যে লাইব্রেরি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে এবং সেই সাথে বিভিন্ন ভাষায় তথ্য বিতরণ করতে পারে। বিশেষ করে কীভাবে এই ধরনের বিষয়গুলি ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে প্রভাবিত করে সে সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতে পারে।
মিজ অ্যাঞ্জেলা স্যাভেজ জানান, বর্তমানে গ্রন্থাগারগুলো যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তার সাথে সাথে ভবিষ্যতের জন্যেও তাদের আরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে তিনি পাবলিক লাইব্রেরি ভিক্টোরিয়া এবং স্টেট লাইব্রেরি ভিক্টোরিয়ার ওয়েবসাইটে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, শুধু ভিক্টোরিয়া রাজ্যেই পাবলিক লাইব্রেরির সংখ্যা ২৭৬টি। আর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে এই সংখ্যা ১ হাজার ৬৯০টি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ার বাটনে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।






