গত জুলাই এবং আগস্ট মাসে বাংলাদেশে কোটা ও সরকার পতনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘জুলাই গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে অন্তত ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
শুরুতে শুধুমাত্র কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন হলেও অভিযোগ রয়েছে যে সরকারি অভিযানের প্রেক্ষিতে এই বিপুল মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে রয়েছে শিশু, কিশোর এবং তরুণরাও।
ফলে এটা ব্যাপকভাবে মনে করা হয় যে এই আন্দোলন দমাতে সরকারের ব্যবস্থা বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীকালে সাধারণ জনতাও এতে যুক্ত হয়ে পড়ে।
এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন অস্ট্রেলিয়া সফররত বাংলাদেশের লেখক এবং প্রকাশনা সংস্থা জলধির প্রকাশক নাহিদা আশরাফী।
কোটা বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করে তিনি বলেন, "আমাদের চোখের সামনে যখন এজন্য আমাদের সন্তানদের আঘাত করা হচ্ছে, তখন আমরা তো চুপ করে থাকতে পারি না।"

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন শরীফ খান, যার ভাগ্নে এই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
তিনি বলেন, "আমার ভাগ্নে ছিল এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ঘটনার দিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে সে মারা যায়।"
তবে হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর কিছু জায়গায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় এবং আহমদীয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও স্থাপনার উপর হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আহমদীয়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য আমির (ছদ্মনাম), যার বাড়ি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পঞ্চগড় জেলার কোতওয়ালী থানার ধাক্কামারা ইউনিয়নের অধীনে ‘আহমদনগর’ গ্রামে।
তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ায় আছেন।
তিনি এসবিএস বাংলাকে জানান, হাসিনা সরকারের পতনের পরই তার ও তার সম্প্রদায়ের অনেক সদস্যের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, নিরাপত্তার জন্য তাদের পরিবার এখন এলাকা ছাড়া।
তিনি এ হামলার জন্য 'অসহিষ্ণু ধর্মীয়' গোষ্ঠীকে দায়ী করে বলেন, "আমরা কোন রাজনীতির সাথে জড়িত না, এবং শান্তিপ্রিয় কমিউনিটি। এরপরেও কিছু চিহ্নিত উগ্রবাদী গোষ্ঠী আমাদের বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালায়।"
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ইতিমধ্যেই এক মাস পেরিয়ে গেছে। প্রশাসনের শীর্ষপদে ব্যাপক রদবদল ছাড়াও দেশের আর্থিকখাতসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে সংস্কার উদ্যোগ।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিদেশে পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে এবং এটি দ্রুতই দৃশ্যমান হবে।

সার্বিকভাবে জনগণের আস্থা ফেরাতে ড. ইউনূসের সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে লেখক নাহিদা আশরাফী বলেন, আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সময় দিতে হবে।
তবে বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো নাজুক বলে মনে করেন আহমদীয়া সম্প্রদায়ের মি. আমির। বাংলাদেশ ফিরে যাওয়ার বিষয়ে এখনো শংকিত বলে জানান তিনি।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘাত–সহিংসতায় নিহত ছাড়াও আহতদের সংখ্যা সারা বাংলাদেশে ১৮ হাজারেরও বেশি বলে সরকার গঠিত কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে এই আন্দোলনে নিহতদের অনেক পরিবারই আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন।
শরীফ খান বলেন, তার ভাগ্নের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র, তিনি চেষ্টা করছেন তার বোনকে সাহায্য করার।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকার পরও সংকট উত্তরণে যথেষ্ট আশাবাদী নাহিদা আশরাফী।
তিনি বলেন, সরকারে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত ইতিবাচক।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে
পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট। এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।








