১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (যা বর্তমান বাংলাদেশ) অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার অধিকারের জন্য বাঙালিরা লড়াই করছিল। তেমনি একটি দিন একুশে ফেরুয়ারিতে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর গুলি বর্ষণে প্রাণ হারায় বেশ কয়েক জন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা।
তার পর থেকে বেদনা-বিধুর এই দিনটি স্মরণ করে আসছে বাঙালিরা।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির পর দিনটি ভিন্ন মাত্রা পায়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী মাতৃভাষা চর্চ্চা ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।
বরাবরের মত এ বছরও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে দিবসটি গুরুত্ব দিয়ে পালিত হয়। গত ২৪শে ফেব্রুয়ারী মেলবোর্নের টার্নিট লাইব্রেরির প্রাঙ্গনে স্থাপিত স্থায়ী শহীদ মিনারে দিবসটি উদযাপিত হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্য ২৪শে ফেব্রয়ারি ছুটির দিনটি বেছে নেয় আয়োজক সংগঠন ভিক্টোরিয়ান বাংলাদেশী কমিউনিটি ফাউন্ডেশন- ভিবিসিএফ।
রৌদ্র ঝলমলে গ্রীষ্মের সকালে কমিউনিটির সদস্যরা জড়ো হতে শুরু করেন, মেলবোর্নের টার্নিট লাইব্রেরির প্রাঙ্গনে অতিথিদের বসার জন্য টানানো হয়েছে যথেষ্ট বড় একটি মঞ্চ এবং অস্থায়ী ছাউনি।
প্রাঙ্গন জুড়ে ছিলো বেশ কিছু বুটিক ও প্ল্যান্ট স্টল, খাবারের স্টল, ভিকটোরিয়ান বাংলা মোবাইল লাইব্রেরির উদ্যোগে ছোট্ট পরিসরে একটি বইমেলা, এবং বাচ্চাদের জন্য চিত্রাংকন প্রদর্শনী।

এই উদযাপন অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী নুসরাত ইসলাম বর্ষা এসবিএস বাংলাকে জানান, ভিবিসিএফ ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি উদযাপন করে আসছে।
"উইন্ডহ্যাম সিটি কাউন্সিলের আর্থিক সহায়তায় গত তিন মাস ধরে অনুষ্ঠানটির প্রস্তুতি চলেছে। আমরা আজকে বৃহত্তর কমিউনিটিকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানটি করতে যাচ্ছি।"

অনুষ্ঠানটি শুরুতেই অ্যাবোরিজিনাল ও টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডারদের ভূমিগুলোর ঐতিহ্যবাহী রক্ষকদের স্বীকৃতি দান করা হয়। এরপর ঐতিহ্যবাহী কুলীন ন্যাশনের প্রতিনিধিরা স্মোক সেরেমনির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন সকাল ১১টায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল ও ভিক্টোরিয়ান রাজনীতিবিদগণ, যাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার ফর ফরেন এফেয়ার্স টিম ওয়াটস এমপি, ফেডারেল এমপি জোয়ান রায়ান, ম্যাথিউ হিলাকারী এমপি, ডিলেন ওয়েইট এমপি, এবং পরে যোগ দেন উইন্ডহ্যাম সিটি কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর জেনি বারেরা।
ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ারের কাছ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা গ্রহণ করেন অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক নুসরাত ইসলাম বর্ষা এবং ভিবিসিএফ প্রেসিডেন্ট মোর্শেদ কামাল।

অনুষ্ঠানে অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার ফর ফরেন এফেয়ার্স টিম ওয়াটস এমপি তার বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটি শুধু নিজ ভাষাকে ভালোবাসাই নয়, এর সাথে যুক্ত সংস্কৃতিকেও মূল্য দিতে পারা ও সংরক্ষণের কাজটি শিখতে পারে।"
ফেডারেল এমপি জোয়ান রায়ান তার বক্তব্যে জুলিয়া গিলার্ড লাইব্রেরির প্রাঙ্গনে স্থাপিত শহীদ মিনারকে এই এলাকার বহু-সংস্কৃতির সম্প্রদায়ের সফল প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।

ভিক্টোরিয়া স্টেটের এমপি ডিলেন ওয়েইট আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমরা জানি ট্র্যাডিশনাল ল্যাঙ্গুয়েজের গুরুত্ব কতটা ব্যাপক। তাই আমাদের সম্প্রদায়গুলো যাতে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে তাদের নিজ ভাষা ব্যবহারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে আমাদের সেজন্য সহযোগিতা করতে হবে।"
ভিক্টোরিয়া স্টেটের এমপি ম্যাথিউ হিলাকারী ভাষা-শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, "নিজের ভাষায় কথা বলতে পারার গুরুত্ব অপরিসীম। আজকে আমরা যে ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছি তার ট্র্যাডিশনাল নাম এবং ভাষা হচ্ছে ডুকরাম, আজকের ইভেন্টটি যেন তাদের অতীত ইতিহাস-সংস্কৃতিরই একটি প্রতিফলন।"
অতিথিদের বক্তব্য শেষে প্রভাত ফেরী এবং শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষেরা।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন খন্দকার সায়েদুল ইসলাম এবং জাহিদ মজুমদার।
এরপর দুপুর ১২টায় অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে
শিশু-কিশোর সহ স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশন করেন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাল 8টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।
পুরো প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
এসবিএস রেডিও সম্প্রচার-সূচী হালনাগাদ করেছে, এখন থেকে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টায়, এসবিএস পপদেশীতে আমাদের অনুষ্ঠান শুনুন, লাইভ।
কিংবা, পুরনো সময়সূচীতেও আপনি আমাদের অনুষ্ঠান শোনা চালিয়ে যেতে পারেন। প্রতি সোম ও শনিবার, সন্ধ্যা ৬টায়, এসবিএস-২ তে।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
এ সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন: sbs.com.au/audio








