১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ থেকে সিডনীতে শুরু হয়েছে বৈচিত্র্যময় লিংগের মানুষদের সর্ববৃহৎ বিশ্ব সম্মেলন ওয়ার্ল্ড প্রাইড ফেস্টিভাল বা সিডনী গে এন্ড লেসবিয়ান মার্দি গ্রা। উৎসব চলবে ৫ ই মার্চ পর্যন্ত।
এলজিবিটিআইকিউ প্লাস বা লেসবিয়ান, গে, বাই-সেক্সুয়াল, ট্রান্সএন্ড জেন্ডার ডাইভার্স, ইন্টারসেক্স, ক্যুয়ির সহ সব লিংগের বৈচিত্র্যময় মানুষের অধিকার ও সম্মান সমুন্নত রাখার প্রত্যয় নিয়ে এই বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে। এই সম্মেলনকে প্রাইড ফেস্টিভাল বলা হয়ে থাকে কারণ বৈচিত্র্যময় লিংগের মানুষেরা প্রাইড বা গর্ব ও সম্মানের সাথে আত্মপরিচয় নিয়ে বাঁচতে চান।
সম্মেলনে আগত ইয়েরমিনা একজন সামোয়ান ট্রান্স উইম্যান বা লিংগ রূপান্তরিত নারী। তার সংস্কৃতিতে লিংগ বৈচিত্রের স্বীকৃতি আছে। তিনি তার লিংগ পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করেন।
প্যাসিফিক সেক্সুয়াল এন্ড জেন্ডার ডাইভার্সিটি নেটওয়ার্কের ইজেকেলি ভ্যুলেভু বলেন, এলজিবিটিআইকিউ প্লাস মানুষেরা ঔপনিবেশিক সময়কাল থেকেই প্রান্তিক অবস্থানে আছেন। প্রান্তিকতার কারণ মূলত বৈষম্যমূলক ঔপনিবেশিক নিবর্তক আইন। প্রাক-উপনিবেশকালে প্যাসিফিক অঞ্চলের সমাজ লিঙ্গপরিচয়ের ক্ষেত্রে আরও বৈচিত্র্যময় ও একাত্ম ছিল।

অস্ট্রেলিয়া এইড বা অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাহায্য তহবিল নিয়ে থাকে এমন ১৪টি প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশে সমকামী সম্পর্ক অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়।
সাতটি প্যাসিফিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত লিঙ্গ এবং লৈঙ্গিক বৈচিত্রের নাগরিকরা সমান আইনী অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। ভ্যুলেভু আরও জানান,
আমাদের মত বৈচিত্র্যময় লিঙ্গের মানুষেরা বিভিন্ন ধরনের জরুরী পরিষেবা যেমন স্বাস্থ্য সেবার মত অধিকার থেকে বঞ্চিত। সমাজে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস ও বৈষম্যজনিত কারণে অনেকে পরিষেবা কেন্দ্রে যাওয়ার সা্হস করেন না।
সমপ্রেমী সম্পর্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বিভিন্ন দেশ উদ্যোগ নিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে বে আইনী ঘোষণা করেছে।
এদিকে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার প্রতিবেশী প্যাসিফিক দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহন করছে। ইক্যুয়ালিটি অস্ট্রেলিয়ার সিইও এনা ব্রাউন এই অঞ্চলে সমলিঙ্গ অধিকারের বিষয়টি উত্থাপনের সুযোগ আছে মনে করেন।
২০১৯-২০২০ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন দেশের এলজিবিটিআইকিউ প্লাস সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাত লক্ষ ডলার খরচ করেছে। অন্যদিকে কানাডা খরচ করেছে ২৫ মিলিয়ন ডলার আর নেদারল্যান্ড এই বাবদ খরচ করেছে ৭৫ মিলিয়ন ডলার।
এই প্রসংগে গ্লোবাল ফিলানথ্রপি প্রজেক্টের সিনিয়র এডভাইজর ডেইভ স্ক্যামেল বলেন, “গত দশকে বিভিন্ন দাতা দেশ যেখানে এলজিবিটিআই ইস্যুতে সাহায্য প্রসারিত করেছে, এদেশের ক্ষেত্রে তা সংকুচিত হতে দেখা গেছে।”
এশিয়া প্যাসিফিক কোয়ালিশন অন মেল সেক্স হেলথ – এপকম এর নির্বাহী পরিচালক মিডনাইট পুনকাসেটোয়াটানা এই খাতে আরও বরাদ্দ দেওয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন।
অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার লিঙ্গ বৈচিত্রের পক্ষের সরকার বলে দাবি করে থাকে।

এসবিএস নিউজের সাথে সাক্ষাতকারে ডিপার্টমেন্ট অফ ফরেন এফেয়ার্সের এক মুখপাত্র বলেন, সরকার নিযুক্ত
“ একজন হিউম্যান রাইটস এম্বাসাডার এলজিবিটিকিউআই প্লাস সম্প্রদায়ের অধিকার সহ বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করবে।”
তৃণমূল সংগঠকেরা বিশ্বাস করেন, লিঙ্গ বৈচিত্রের আন্দোলনে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি উয়োং ভবিষ্যতেও জোরাল ভূমিকা রাখবেন। অস্ট্রেলিয়ায় সমলিংগের মানুষের মধ্যে বিবাহকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে তিনি এর আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
চলমান গে প্রাইড সম্মেলনে সামনের সপ্তাহে এশিয়া প্যাসিফিক এর বিষয়টি উত্থাপিত হবে।
তৃণমূল পর্যায়ের এলজিবিটিকিউআই প্লাস সম্প্রদায়ের সংগঠকেরা আশা করেন, অস্ট্রেলিয়া এই এজেন্ডায় এশিয়া প্যাসিফিক সহ বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়া আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদনটি শুনতে ক্লিক করুন উপরের অডিও প্লেয়ার বাটনে।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।









