জুরী বা নির্ণায়কবর্গ অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জুরীবর্গের সদস্যরা আইন বিশেষজ্ঞ নন, সাধারণ মানুষ। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হিসাবে জুরীর দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক। আদালত তলব করলে অস্ট্রেলিয়ানদের জুরীবর্গে বসতে হয়। এই নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে এমনকি জরিমানাও দিতে হয়।
কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জুরী সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জুরীস ডক্টর প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং ‘ম্যাককোয়্যার ল স্কুল’ এর প্রভাষক ডক্টর এন্ড্রু বার্ক বলেন,
জুরী ব্যবস্থা মূলত কমিউনিটি বা স্থানীয় সম্প্রদায়কে আইনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার একটি প্রচলিত পন্থা। জুরী এদেশের গণতন্ত্রের অন্যতম অংশ। কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী না নির্দোষ তা জজ কিংবা আইনজ্ঞ নির্ধারণের বদলে জুরীবর্গের ১২ জন সাধারণ নাগরিক তা নির্ণয় করে থাকেন
মোনাশ ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক জ্যাকি হোরান জানান,
“কেবলমাত্র গুরুতর মামলা যেমন হত্যা, রাহাজানি, যৌন আক্রমণ— এসব ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় জুরীর ব্যবহার হয়। কম গুরুতর মামলা যেমন চুরির মামলায় জুরীর প্রয়োজন হয় না। জজ একাই তার শুনানীতে থাকেন।”

জুরী গঠনের জন্য আদালত নাগরিকদেরকে চিঠি দিয়ে তলব করে থাকেন, জানিয়েছেন মার্ক নোলান। তিনি চার্লস স্ট্যুয়ার্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ল এন্ড জাস্টিস এর পরিচালক। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনে অংশ নিতে যোগ্য নাগরিকদেরকে এলোপাথাড়িভাবে (randomly) জুরী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়।
জুরী গঠন প্রক্রিয়া আরও ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক হোরান জানান, একটি জুরীতে ১২ জন জুরী সদস্য বা জুরর থাকেন। কখনো তার চাইতে কমও থাকে। তবে এই নিয়ম রাজ্যভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।
জুরী দায়িত্ব পালনে নাগরিকদের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়। ডক্টর বুর্ক জানান, যেসব ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি জুরী দায়িত্ব পালনে একান্ত অপারগ যেমন শিশুর একমাত্র অভিভাবক কিংবা কোন ক্ষুদ্র ব্যবসার উদ্যোক্তা যার অবর্তমানে ব্যবসার ক্ষতি হতে পারে— এসব ক্ষেত্রে জুরী প্রার্থীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।
READ MORE

নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ডক্টর বুর্ক আরও জানান, কেউ যদি শুনানীতে অংশ অপারগ হন, যেমন কারোর অসুখ বা কাউকে হয়তো বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখাশোনা করতে হয়— এসব ক্ষেত্রেও অব্যাহতি পাওয়া যায়। কোন জুরর যদি মামলার শেষ পর্যন্ত না থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রে নিজের অপারগতার কথা শুনানির শুরুতেই আদালতকে জানাতে হয়।
ডক্টর হোরান জানান, জুরী নির্ধারণের পর জুরীবর্গের সদস্য বা জুররদের আচরণবিধি নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। মামলা চলাকালে জুরীবর্গের কারোর মামলার প্রসঙ্গে কারোর সাথে আলাপ করা নিষেধ, এমনকি মামলার বিষয়ে অনলাইনেও কিছু খোঁজা নিষেধ।
জুরীর সদস্যরা সাধারণত সাত দিন থেকে বার দিন পর্যন্ত চলতে থাকা মামলায় উপস্থিত থাকেন। তবে কোন কোন মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, যেমন সশস্ত্র সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে মামলা চলে অনেক মাস, এমনকি তা বছর পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘ আর জটিল মামলায় জুরী সদস্যরা শেষ পর্যন্ত থাকতে পারবেন কিনা তা শুরুতেই জিজ্ঞেস করে নেওয়া হয়।

ডক্টর বুর্ক জানান, বিচারকার্যে প্রদর্শিত সব সাক্ষ্য-প্রমাণ জুরীদের দেখতে ও শুনতে হয়। জুরী সদস্যদের এসব তথ্য যাচাই করার ও পারস্পরিক আলোচনার সময় দেওয়া হয়। তার ভিত্তিতে জুরী সদস্যরা তাদের রায় বা অভিমত প্রদান করেন।
তবে বিচারকার্যে আইনজ্ঞদের আইনী বিতর্ক চলাকালে তারা বিচারালয় ছেড়ে চলে যান। তারপর বিতর্কের শেষে তারা ফিরে এলে জজ তাদের ব্যখ্যা করেন, আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী নাকি নির্দোষ তা সবাইকে ব্যাখ্যা করে শোনান।
মামলার রায় বা সিদ্ধান্ত গ্রহনে সব জুরী সদস্যদের একমত হতে হয়। তবে কোন কোন মামলায় জুররদের অবস্থান ১১:১ হলেও চলে। মামলার সিদ্ধান্তে জুরী সদস্যরা একমত নাও হতে পারেন। যদি তারা ঐকমত্যে না পৌঁছান, সেক্ষেত্রে ভিন্ন জুরীর সমন্বয়ে নতুন করে মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হয়।

জুরর বা জুরী সদস্যদের তাদের সেবার জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়। ডক্টর হোরান্ বলেন, অনেকে শুরুতে জুরী দায়িত্ব পালন করতে উদ্বিগ্ন বা শংকিত বোধ করেন। তবে শেষপর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করতে পেরে তারা গর্ববোধ করেন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
পুরো প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: https://www.sbs.com.au/language/bangla/program
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।









