জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

Group of seniors making activities inside the hospice

Source: Family – Getty Images


Published 30 July 2019 at 11:31am
By Amy Chien-Yu Wang
Presented by Abu Arefin
Source: SBS

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। জীবনের শেষ ভাগে এসে এ প্রবাদ বাক্যটির সত্যতা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়। এ রকম অনেক ব্যক্তি আছেন যারা অসুস্থ্য হয়ে, অপরের গলগ্রহ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে সুস্থাবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে চান। কিন্তু, অনেক সময় পরিস্থিতি এমনই হয়ে যায় যে, মানুষকে অপরের সাহায্য নিয়ে অপরের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকতে হয়।


Published 30 July 2019 at 11:31am
By Amy Chien-Yu Wang
Presented by Abu Arefin
Source: SBS


মারাত্মক সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় আপনাকে কৃত্রিম-সাহায্য নিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হবে নাকি মৃত্যু ঘটতে দেওয়া হবে? এন্ড অফ লাইফ ট্রিটমেন্ট নিয়ে যদি আপনার আগাম কোনো পরিকল্পনা থাকে, যদি তা যথাসময়ে আইনানুগভাবে নিকটজনদেরকে জানিয়ে রাখা যায়, তাহলে সঙ্কটময় মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক সুবিধা হয়। বাস্তবতা হলো, মাত্র ১৫ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান এ রকম পূর্ব-প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়েনে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে অ্যাডভান্সড কেয়ার প্লানিং অস্ট্রেলিয়া। এতে দেখা যায় ৬৫ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩০ শতাংশ  তাদের মেডিক্যাল কেয়ারের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অ্যাডিলেইডের একজন জিপি ড. ক্রিস ময় বলেন, জীবনের শেষ ভাগে এসে মানুষ চিকিৎসা-সেবা নিয়ে হিমশিম খায়।

Advertisement
তার মতে, এর পেছনের কারণগুলো হচ্ছে, যথাসময়ে পরিকল্পনা গ্রহণ না করা এবং যখন তারা কথা বলতে সক্ষম ছিলেন তখন এ বিষয়ে আলোচনা না করা।

ড. ময় পরামর্শ দেন যে, মানুষের উচিত সময় থাকতেই তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথা প্রিয়জনকে জানিয়ে দেওয়া।

অ্যাডভান্সড কেয়ার প্লানিং অস্ট্রেলিয়ার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লিন্ডা নোল্টি বলেন, আপনার অন্তিম ইচ্ছার বাস্তবায়নের জন্য প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলে রাখাটাই যথেষ্ট নয়। এ সম্পর্কে তিনি ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের উদাহরণ দেন যিনি তার পরিবারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যদি তিনি ভয়ানক অসুস্থ্য হন তাহলে যেন তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনা না হয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তিনি সে রকম একটি অবস্থাতেই পতিত হন। তার জীবন নিয়ে টানাটানি পড়ে যায় এবং তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

তিনি এখনও বেঁচে আছেন কিন্তু কথা বলতে পারেন না, খেতে পারেন না, হাঁটতে পারেন না এবং নিজে নিজে বাথরুমে যেতে পারেন না।

অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ স্টেট ও টেরিটোরিতে আইন রয়েছে যার মাধ্যমে অগ্রীম কেয়ার প্লানিং করা যায়। তবে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং তাসমানিয়ায় এ রকম আইন নেই।

নোল্টি বলেন, জীবন দীর্ঘায়িত করার জন্য ট্রিটমেন্ট করা হবে কিনা এ বিষয়ক সিদ্ধান্ত যদি আগেভাগেই নেওয়া হয়ে থাকে তবে তা চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পরিষ্কার করতে হবে।

এ রকম অবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগেভাগেই কাউকে নিয়োজিত করার একটি পদ্ধতি রয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের এ বিষয়ক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগেভাগেই আইনসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রেখেছেন।

অ্যাডভান্স কেয়ার প্লান করার ক্ষেত্রে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় তারা অনেক পিছিয়ে আছেন।

অনকোলজি এবং এজড কেয়ার খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন লিন্ডা নোল্টি। এ রকম অবস্থায় পারিবারিক বিবাদ ঘটতে দেখেছেন তিনি। আগেভাগেই যদি এ বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া থাকতো তাহলে হয়তো এ রকম বিবাদ এড়ানো যেত, বলেন তিনি।

ড. ক্রিস ময় বলেন, চীনা সংস্কৃতিতে মৃত্যুর কথাটি উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে সামাজিক বাধা রয়েছে। কোনো কোনো সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এই বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ড. ময় বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এটি নিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে আলোচনা করাটা জরুরি।

ড. ময় বলেন, কখনও কখনও বিশ্বাস এবং মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা উচিত। কী রকম চিকিৎসা সেবা আপনি পছন্দ করেন তা জানার জন্য।

এ ক্ষেত্রে তিনি ডায়বেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদাহরণ দেন যাদেরকে অনেক সময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলে দিতে হয়। এ রকম লোকও আছেন যিনি একটি পা কেটে ফেলার চেয়ে মৃত্যুবরণ করাকেও শ্রেয় মনে করেন।

আপনি কী রকম জীবনযাপন করছেন সেটিও এর মাধ্যমে বোঝা যায়।

এ সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন: advancecareplanning.org.au

১৬টি ভাষায় এখানে তথ্য পাবেন। আপনি টেলিফোনও করতে পারেন 1300 208 582 নম্বরে।

ভাষাগত সহযোগিতার জন্য কল করুন Translating and Interpreting Service এ, 13 14 50 নম্বরে।

প্রতিবেদনটি বাংলায় শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।

Follow SBS Bangla on .




Share