ফাতিমা পেম্যান খেজুরে কামড় দেওয়ার এবং গ্লাস থেকে পানিতে চুমুক দেওয়ার আগে একটি ছোট প্রার্থনা করেন।
সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ সূর্য ডুবতে শুরু করে। এটি সারাদিনে প্রথম খাবার বা পানির স্বাদ।
তিনি তার অফিসে, সিনেটের বৈঠকের মধ্যেই ইফতার করেন।
লেবার সিনেটর সংসদে তার প্রথম রমজান পালন করছেন।
এটি একটি পবিত্র মাস যখন মুসলমানরা ভোর এবং সূর্যাস্তের মধ্যে খাবার বা পানীয় থেকে বিরত থাকে। এসময় তারা প্রার্থনা এবং দাতব্য কাজেও নিয়জিত থাকে।
ইফতারের পর পরই, সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে ফিরে যাওয়ার জন্য রিং বাজে, এবং সিনেটর পেম্যানকে সিনেট চেম্বারে ফিরে যেতে হয়।
তিনি মাত্র দুই চুমুক পানি খেয়েছেন এবং তার মুরগির তরকারির গন্ধ ঘর জুড়ে আছে, যা তখনও স্পর্শই করা হয়নি। দিনের প্রথম খাবার না খেয়েই তিনি কাজে ছুটে যান।
"আমাকে যেতে হবে। আমি ফিরে আসব," তিনি এসবিএস নিউজকে বলেন।
পার্থের উত্তর শহরতলীতে ছয়জনের একটি একান্নবর্তী পরিবারে বেড়ে ওঠেছেন তিনি, তবে এভাবে তিনি রমজান উদযাপনে অভ্যস্ত নন।
পরিবার ভোরের আগে একত্রে ঘুম থেকে উঠে খুব তাড়াতাড়ি খাবার খেতে হয়, এটি সেহরির সময়, এবং সূর্যাস্তের সময় তারা একসঙ্গে ইফতারও করেন।

তবে সিনেটর পেম্যানের জন্য এই বছরটি একটু ভিন্ন, এবারই প্রথম তিনি একাই রমজান পালন করছেন। এই দিনগুলো দীর্ঘ, সিনেটে মাঝে মাঝে মধ্যরাতও পার হয়ে যায়।
সিনেটর পেম্যান ২০২২ সালের ফেডারেল নির্বাচনের পরে শিরোনাম হয়েছিলেন, হয়েছিলেন পার্লামেন্টে প্রথম আফগান বংশোদ্ভূত এবং হিজাব পরিহিত রাজনীতিবিদ হিসেবে।
১৯৯৯ সালে তার বাবা আফগানিস্তান থেকে নৌকায় করে পালিয়ে আসেন। এরপর তাকে এবং তার পরিবারকে স্পনসর করতে যথেষ্ট অর্থ সঞ্চয় করার পর ২০০৩ সালে আট বছর বয়সে তিনি শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন।
এখন, তিনি একজন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ এবং একইসাথে অস্ট্রেলিয়ার ৪৭তম সংসদকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন।
যখন তিনি তার ধর্ম পালন করেন, তখন তিনি বলেন যে তার কর্মক্ষেত্র এতটা সমর্থন দিচ্ছে যে এতে তিনি অবাক।
"আমি এই জায়গায় আসার আগে, ভয়ঙ্কর সব গল্প শুনতাম … এতে আমার ভয় হত। আমি মনে করতাম, 'ভাই, এটা কি ধরনের জায়গা?'" বলেন তিনি।
সংসদ ভবনের বিষাক্ত কর্মক্ষেত্র সংস্কৃতির অভিযোগে সেক্স ডিসক্রিমিনেশন কমিশনার কেট জেনকিন্সের নেতৃত্বে ২০২১ সালে একটি ভয়ঙ্কর স্বাধীন পর্যালোচনার পরে তার এই মন্তব্য এসেছে।

সিনেটর পেম্যান বলেছেন যে তাকে প্রায়ই তরুণ মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি সংসদে বৈষম্যের সম্মুখীন কিনা — এবং তিনি তাদের উৎসাহের সাথে বলেন: "না, এটা আসলে তা নয়"।
তিনি বলেন, "এমনকি ক্রসবেঞ্চে মহিলাদের বা বিরোধী দলের মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাতের অভিজ্ঞতাও অসাধারণ, তারা আপনাকে অনেক সময় কিছু পরামর্শ দেবে, বা এমনকি আপনি কেমন আছেন এটাও হয়তো জিজ্ঞাসা করবে," বলেন তিনি।
তাকে ইফতার করার জন্য কমিটির শুনানি থেকে সময় দেওয়া হয়েছে এবং সিনেট চেম্বারে তার সহকর্মীরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাউন্টডাউন করে উৎসাহ দিয়েছে। তার অফিস কর্মীরা, যারা মুসলিম নন, তারাও তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে একদিন উপবাস করেছিলেন।
তিনি বলেন,"এখানে কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি আশ্চর্যজনকভাবে ভালো, আমি যা আশা করেছিলাম তার থেকে অনেক ভালো।"
তিনি ২২শে মার্চ পবিত্র মাস শুরু উপলক্ষে তার লেবার সহকর্মীদের জন্য তার অফিসে একটি সমাবেশের আয়োজন করার কথা বর্ণনা করেছেন। সেই মুহূর্তটিকে তিনি বলেছেন "অবিশ্বাস্য"।
পরিবেশ মন্ত্রী তানিয়া প্লিবারসেক এবং এনটি সিনেটর মালানদিরি ম্যাকার্থি রমজান সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
"(রমজান সম্পর্কে) তাদের কৌতূহল এবং বোঝার ইচ্ছা এবং তারা যে সম্মান দেখিয়েছিল ... তা ছিল একটি দারুন অভিজ্ঞতা।"
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং সেই অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি কিন্তু তার জন্য রমজান-থিমযুক্ত কিট ক্যাট চকোলেট এবং খেজুরের একটি বাক্স কিনেছিলেন — যেটি দিয়ে তিনি সংসদে প্রতি রাতে ইফতার করছেন।
কিন্তু এখনও একজন রাজনীতিবিদ রয়েছেন যার সঙ্গে তিনি এখনও সংযোগ তৈরী করতে পারেননি।
তিনি ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন, যিনি একসময় প্রতিবাদস্বরূপ সিনেটে বোরকা পরেছিলেন, এখন তিনি সিনেটের তার সহকর্মী।
গত বছরের জুনের নির্বাচনে লেবার দলের জয়ের পরে, সিনেটর পেম্যান বলেছিলেন যে তিনি মিজ হ্যানসন সম্পর্কে জানার জন্য "সত্যিই উন্মুখ"।
কিন্তু, সিনেটে প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও তিনি বলছেন তার সাথে কথা বলার সুযোগ খুব কম হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অধিকাংশই গত ২২ মার্চ থেকে রোজা রাখতে শুরু করেছেন যা শেষ হচ্ছে আনুমানিক ২১ এপ্রিল।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা অডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।