১৮ মে ফেডারাল নির্বাচনকে সামনে রেখে প্যারেন্ট ভিসার নিয়ম-কানুন পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দিল অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস দল। অভিবাসীরা যেন তাদের বাবা-মাকে কম সময়ের মধ্যে সহজেই অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসতে পারে সে জন্য ভিসার নিয়ম-কানুন পরিবর্তন করার কথা বলল তারা।
বিদ্যমান নিয়মে পার্মানেন্ট প্যারেন্ট ভিসার জন্য লম্বা সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়। বর্তমানে ৯৭ হাজার আবেদন অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে। এই বোঝা কমাতে চায় গ্রিনস দল। তারা এই ভিসার জন্য অপেক্ষার কাল ১২ মাসে নামিয়ে আনতে চায়।
পার্মানেন্ট প্যারেন্ট ভিসা ছাড়া বাবা-মাকে সাময়িকভাবে অস্ট্রেলিয়ায় আনতে হলে টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়।

গত সোমবার সিডনিতে গ্রিনস দলের ‘ফ্যামিলি রি-ইউনিয়ন পলিসি’ সম্পর্কে দলের নেতা রিচার্ড ডি ন্যাটালে এসবিএস-কে বলেন,
“বছরের পর বছর ধরে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক যুগ ধরে, মানুষকে প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সরকার। সেজন্য আমি মর্মাহত।”
“আমি একটি ইতালীয় অভিবাসী পরিবার থেকে এসেছি, যার সদস্যরা সবাই ঘনিষ্ট। পরিবারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই বলে আমি মনে করি।”
‘কন্ট্রিবিউটোরি’ প্যারেন্ট ভিসায় বর্তমানে মাথাপিছু ৪৭ হাজার ডলার খরচ হয়। এ ছাড়া, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রায় ৪৫ মাস অপেক্ষা করতে হয়।
এর বিপরীতে, ‘নন-কন্ট্রিবিউটোরি’ প্যারেন্ট ভিসার জন্য খরচ হয় ৬ হাজার ডলার। এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা হলেও এতে দীর্ঘকাল অপেক্ষায় থাকতে হয়। বহু আবেদনকারী তাদের বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় এই ভিসা ইস্যু হতে দেখেন না।
বর্তমানে যে-গতিতে এই ভিসা প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে অপেক্ষমান আবেদনকারীদের ভিসা ইস্যু করতে ৩০ বছর সময় লাগবে।
গ্রিনস দল বলছে, তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই দুটি ভিসাই অনাবশ্যক হয়ে যাবে।
‘ব্যালেন্স অফ ফ্যামিলি টেস্ট’-এর নিয়ম অনুসারে ‘নমিনেটেড প্যারেন্ট’-এর কমপক্ষে অর্ধেক সংখ্যক সন্তানকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বা স্থায়ী অভিবাসী হতে হবে। এ বিষয়টিও পর্যালোচনা করতে চায় গ্রিনস দল।
বোটে করে যারা অস্ট্রেলিয়ায় আসে তাদেরকেও ‘ফ্যামিলি রি-ইউনিয়ন’ ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ দিতে চায় দলটি।
এ সব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য তারা আপাতত ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় আর আগামী দশকে এ খাতে ১২.৬৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করতে চায়।

গ্রিনস দলের সিনেটর, পাকিস্তানী অভিবাসী মেহেরিন ফারূকী এসবিএস-কে বলেন,
“অভিবাসীদের সাদরে গ্রহণ করার এক সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে আমাদের। কিন্তু, এখন আমাদের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদেরকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসাই প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
“আমরা এমন একটি সিস্টেম চাই যার মাধ্যমে পারিবারিক পুনর্মিলন সম্ভবপর হবে, দীর্ঘ সয় পরিবারের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবে না। অভিবাসীদেরকে তাদের পরিবারের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে যুগের পর যুগ অপেক্ষায় থাকতে বলাটা আমার কাছে জঘন্য মনে হয়।”
গ্রিনস দলের আগে প্যারেন্ট ভিসা ইস্যু নিয়ে বড় দুটি দলই নানা কথা বলেছে। কোয়ালিশনের নতুন প্যারেন্ট ভিসা স্কিম ঘোষণা করা হয় ২০১৭ সালের মে মাসে। এটি ১ জুলাই থেকে চালু করা হবে। এতে বছরে ১৫ হাজার ভিসা প্রদানের কোটা রাখা হয়েছে এবং একসঙ্গে ‘এক সেট প্যারেন্টস’-এর জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ৩ বছরের ভিসার জন্য খরচ হবে ৫ হাজার ডলার এবং ৫ বছরের ভিসার জন্য খরচ হবে ১০ হাজার ডলার। উচ্চ হারের এই ভিসা ফি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।

ইমিগ্রেশন মন্ত্রী ডেভিড কোলম্যান এসবিএস নিউজকে গতমাসে বলেন,
“অভিবাসীদের সহায়তা করার জন্য মরিসন সরকার যে-সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো এই নতুন ভিসাটি।”
এদিকে, লেবার দল এই ভিসার বার্ষিক ১৫ হাজার কোটার নিয়ম সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা ‘উভয় সেট প্যারেন্টস’-কেও একইসঙ্গে স্পন্সর করার সুযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া, ৩ বছরের ভিসার জন্য ভিসা ফি ৫ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে ১,২৫০ ডলার এবং ৫ বছরের ভিসার জন্য ভিসা ফি ১০ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে ২,৫০০ ডলার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

লেবার দলের নেতা বিল শর্টেন গত মাসে বলেন,
“বহু বয়স্ক বাবা-মা তাদের পরিবারের সঙ্গে একত্রিত হতে চান এবং সেজন্য তারা টুরিস্ট হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করেন। এটি ব্যয়বহুল, হতাশাজনক, কষ্টকর এবং অসুবিধাজনক।”
মিস্টার কোলম্যান লেবার দলের এই পরিকল্পনাকে ‘নিষ্ঠুর ছলা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন,
“লেবার দল ভাল করেই জানে যে, এই প্রস্তাব পুরোপুরিভাবে টেকসই নয়। অভিবাসী কমিউনিটিগুলোকে নিয়ে তারা নিষ্ঠুর ছলনা করতে চাচ্ছে।”
এ সম্পর্কে ইংরেজিতে আরও পড়ুন এই লিঙ্কে।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
