শাহান আলম: অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ভিক্টোরিয়া এবিএ গত ১১ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার আয়োজন করে বৈশাখী মেলা ১৪৩৩। মেলবোর্নের ব্যস্ততম এলাকা ড্যানডিনং এর গ্লোরিয়া প্যাক নেটবল কমপ্লেক্সে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই মেলায় যোগ দেন। ভিক্টোরিয়ার প্রাচীনতম বাংলাদেশি সংগঠন হিসেবে এ বি এ প্রতিবছর তিন চারটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে কথা হয় রায়হান ফয়সাল শাওনের সঙ্গে। তিনি অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। শাওন বলেন, বিগত তিন দশক ধরে এবিএ পয়লা বৈশাখ-সহ নানা ধরনের কমিউনিটি প্রোগ্রাম করে থাকে।
আজকে আমাদের পহেলা বৈশাখের প্রোগ্রাম আমরা কভার করছি। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন বিগত তিরিশ বছরও সময় বেশি সময় ধরে আমরা এই ধরনের কমিউনিটি সাপোর্ট করে থাকছি। আমরা কমিউনিটি সাপোর্ট করছি, কমিউনিটির বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলো করে থাকছি। আজকে আমাদের মহাসমারোহে আমরা প্রতি বছরের মতো পহেলা বৈশাখ প্রোগ্রামটা অ্যারেঞ্জ করেছি। আমাদের প্রধান অতিথি হিসেবে আমাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন আমাদের মাননীয় হাইকমিশনার সাহেব। বাংলাদেশের জনাব বোরহান উদ্দিন সাহেব, উনি ক্যানবেরা থেকে এসেছেন আমাদের প্রোগ্রামে জয়েন করার জন্য। প্রতি বছরের মতো আমাদের এই অনুষ্ঠানটি অনেক ইভেন্ট দিয়ে আমরা সাজাই। আমাদের এখানে খাওয়া থাকে এবং আমাদের এখানে
আমরা অনেক আমাদের নাচ গানের ব্যাপার থাকে এবং আমাদের কমিউনিটির প্রত্যেক গ্রুপকে আমরা এখানে ইনকরপোরেট করি এবং ইনক্লুসিভ করি যাতে কমিউনিটির পুরা কমিউনিটি বেনিফিটেড হয়। এবং আমরা শুধু বাংলাদেশে থেকে এসেছি। আমরা চেষ্টা করি আমাদের যে ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি সেটা যেন আমরা ধরে রাখতে পারি। আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং আশা করি আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন।
শাহান আলম: অস্ট্রেলিয়া যেহেতু আমরা একটা মাল্টি কালচারাল সোসাইটি, এই ধরনের প্রোগ্রাম এই সোশ্যাল কোহেশনের জন্য কতটুকু ইম্পর্টেন্ট বলে আপনি মনে করেন?
অবশ্যই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের প্রোগ্রামটা কত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একটু আমরা যদি একটু ডিফারেন্ট অ্যাঙ্গেল থেকে দেখি, আমাদের যে ছোট ছোট বাচ্চা যাদের জন্ম এখানে হয়েছে তারা আসলে আমরা খেয়াল করেছি তারা একটা ডুয়েল ক্রাইসিস ভোগে, আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ভোগে। তারা যখন স্কুলে যায় তারা বোঝে যে তাদের স্কুলে তাদের যাদের সাথে ওরা পড়ছে তারা দেখতে একরকম, কথা বলে এরকম ডিফারেন্ট ভাষায়। স্কুলে আবার বাসায় এসে বাংলায় বলছে। তো এটা দেখা গেছে, লক্ষ্য করা গেছে যে তারা একটা ডুয়েল আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ভোগে। সো ওদেরকে যদি আমরা আসল ওদের রুটটা আমরা ওদের সাথে পরিচিত করে না দেই, সেটা সিনিয়র হিসেবে, গার্জিয়ান হিসেবে আমাদের অপারগতা। তো সেই দিক থেকে আমরা প্রতিবছর আমাদের বাংলার বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রোগ্রাম আমরা রান করে থাকি। পিঠা মেলা করে থাকি, আমরা চৈত্র জয়ন্তী করে থাকি। তারপর পহেলা বৈশাখ তো আছেই। এতে হয় কি? ওরা জানতে পারে এই নতুন নতুন জেনারেশন জানতে পারে আসলে বাংলাদেশের আমাদের অরিজিনাল কালচারটা কি? আমরা কি ধারণ করি, আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতি কি ধারণ করি। তাহলে ওভার দ্য টাইম ওরা যখন বড় হবে ওরা জানবে যে আসলে আমাদের রুটটা কোথায়। তো রুটের সাথে আমরা ফিরে যাওয়া এবং আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি ইমিগ্রেশন নিয়ে। কিন্তু যারা ছোট ছোট এখানে বড় হয়েছে তারা তো আসলে বাংলাদেশকে এভাবে জানে না। বাংলাদেশের আমাদের রুট লেভেলের মানুষ, আমাদের কৃষকের, আমাদের মাঝির গান কি, তাদের খাওয়া কি তারা কিছু জানে না। তো সেটারই পরিচয়ে আমরা ধরে রাখি। বছরের পর বছর আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
শাহান আলম: বৃষ্টিস্নাত এই দিনটিতে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল নানা ধরনের পণ্য এবং খাবারের স্টল। বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী পোশাক নিয়ে উপস্থিত ছিলেন মারজিয়া সুলতানা। তিনি বলছিলেন, তিনি প্রতিবছরই এই মেলাতে উপস্থিত থাকেন।
আমি অ্যাডামিন অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছি। যারা মানে আমরা এই আজকে ছয় বছর ধরে বিজনেস করছি। প্রতিবছরই আসলে মেলায় আসি। মেলা অনুষ্ঠানটা খুবই ভালো হয়।
শাহান আলম: তো আপনার কি কি প্রোডাক্ট?
আমার প্রোডাক্ট হলো গিয়ে মেইনলি ট্রেডিশনাল ওয়্যার। মানে আমাদের দেশীয় শাড়ি, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান বিভিন্ন জায়গা থেকে ড্রেসেস আসছে। সো আমাদের ঐতিহ্য জামদানি সবই আছে। মোটামুটি আমি নরমালি হ্যান্ডলুম প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করি।
শাহান আলম: আপনি বলছিলেন ছয় বছর যাবত আপনি এই কি নিয়মিতই করেন?
হ্যাঁ, আমি নিয়মিতই করছি। বিকজ অফ আমার আসলে ব্যাকগ্রাউন্ড ফ্যাশন ডিজাইনিং এ। সো আমি ফ্যাশন ডিজাইনিং থেকে পড়ে আমার বাংলাদেশে শপ ছিল একই নামের অ্যাডামিনা। সো এখন অস্ট্রেলিয়ায় মুভ করার পরে আমি অ্যাডামিনা অস্ট্রেলিয়াটা শুরু করি আরকি।
শাহান আলম: তো কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
প্রতিবছর এবার মেলায় তো একটু ইয়ে হচ্ছে কারণ বৃষ্টি বাইরে। তাছাড়া আমার মানে সবাই লোকজন ওয়েট করে থাকে আসলে যে এই মেলাটার জন্যে যে এই সময় আপনি একই ছাদের নিচে সবই পাচ্ছেন। সো মেলায় আসাটা নট অনলি সেলিং। এটা মোর লাইক আপনার কমিউনিটির সাথে দেখা হওয়া, সবার সাথে কুশল বিনিময় প্লাস কি সুন্দর সুন্দর অনুষ্ঠান হয় সেগুলো উপভোগ করা আসলে।
শাহান আলম: এই মেলা নিয়ে একজন দর্শনার্থী সায়েম রাজ্জাক বলেন, "এটি বাংলাদেশকে ধারণ করার জন্য দারুণ উপযোগী একটি পরিবেশ।"
খুবই ভালো লাগছে। এটা আমাদের বাংলাদেশি ঐতিহ্যকে ধারণ করার জন্য একটা বেশ একটা উপযোগী পরিবেশ। এখানে আমরা সবাই এসে খুব ভালো লাগতেছে। এখানে আমরা আজকে
নববর্ষ উদযাপন করছি। অনেক মানুষ আসছে। যদিও ওয়েদার একটু খারাপ তারপরও যে লেভেলের মানুষজন এসেছে এটা আসলে খুবই।
শাহান আলম: আপনি কি প্রতিবারই আসছেন?
শাহান আলম: তো কি কি করলেন? কি কি খেলেন?
পিঠা নরমালি পিঠা খাই। তারপর ইলিশ মাছ যেহেতু আমাদের জাতীয় মাছ এবং এটা অততভাবে জড়িত আমাদের পহেলা বৈশাখের সাথে এই মাছটা খাই। কিন্তু এইবার এই মাছটা পেলাম না। একটু হতাশ হলাম। বাট অনেক ধরনের খাবার আছে যেটা আমরা এখানে এই তেহারিও ট্রাই করলাম। ভিতরে এখানে আমরা একটা টেবিলে বসে তেহারি, ভুনা কিচুরি, গরুর মাংস এইসবই আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার।
শাহান আলম: মেলবোর্নের এই মেলায় ক্যানবেরা থেকে এসেছিলেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান তিনি।তিনি এসবিএস বাংলাকে বলেন, পৃথিবীর যে জায়গাতেই বাংলাদেশিরা থাকুক না কেন, পয়লা বৈশাখকে তারা মনে প্রাণে ধারণ করে থাকেন।
খুবই ভালো লাগছে। কারণ আমরা বাংলাদেশি কালচারকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আমরা যে মনে প্রাণে ধারণ করি তার প্রমাণ যে, পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় বাংলাদেশ কমিউনিটি থাকুক না কেন, পহেলা বৈশাখ আসলেই আমরা যে আমাদের স্বরূপে ফেরত যাই তার একটা প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো। আজকে আমি দেখলাম এই মেলবোর্নে বাংলাদেশ কমিউনিটি যারা আছেন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৈশাখ পালন করার জন্য এখানে একত্রিত হয়েছে। নানা ধরনের স্টল দিয়েছে। নানা ধরনের ফুড স্টল, নানা ধরনের কাপড়ের স্টল, গহনার স্টল। আমি খুবই মুগ্ধ হয়েছি এগুলা দেখে।
শাহান আলম: মেলবোর্ন ছাড়াও অন্যান্য শহর যেমন সিডনি, ক্যানবেরা বা অ্যাডিলেড এসব জায়গায়ও সেখানেও কি আপনাদের উপস্থিতি থাকে?
অবশ্যই। আমরা-- আমি গতবার সিডনিতে একটা বড় ধরনের সেলিব্রেশন হয়েছিল বৈশাখের। আমি সেখানে ছিলাম। সেখানে লোকাল গভার্নমেন্টের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়গণ ছিলেন। এমপি মহোদয়গণ ছিলেন। কমিউনিটির লিডারশিপ তারা ওখানে ছিলেন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গ্রুপ তারা ওখানে গান করেছেন, নাচ করেছেন। নানা ধরনের ফুড ফেস্টিভ্যাল মতো আয়োজন করেছেন। স্টল ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি সারাদিন তাদের সাথে ছিলাম। এছাড়াও আমি ক্যানবেরায় বাংলাদেশ কমিউনিটি যে বৈশাখ পালন করে সেখানেও আমাদের কমিউনিটি-- আমাদের হাই কমিশনের পক্ষ থেকে আমি সহ আমার সহকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমরা এটা সবসময়েই এনকারেজ করি এবং আমরা হাই কমিশনের তরফ থেকেও এই ধরনের ইভেন্ট অর্গানাইজ করে থাকি। বিশেষ করে বৈশাখের ব্যাপারে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে যেখানেই থাকি না কেন আমরা অংশগ্রহণ করি এবং আয়োজন করি।
শাহান আলম: সেটি কি হাই কমিশনের উদ্যোগে?
আমরা হাই কমিশনের উদ্যোগে আমাদের হাই কমিশনের করি। আর কমিউনিটি, কমিউনিটির নিজস্ব উদ্যোগে করে। আমাদের সাথে কখনো কখনো আমাদের সহযোগিতায় করেন। কখনো কখনো ইন্ডিপেন্ডেন্টলি করেন। যেভাবেই করুক না কেন আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।
শাহান আলম: তো সবশেষে আমি জানতে চাচ্ছি যে, আপনার কোন মেসেজ আছে কিনা বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি?
হ্যাঁ, আমি বাংলাদেশের কমিউনিটির যারা অস্ট্রেলিয়াতে বাস করে আমি তাদের প্রতি উদার আহ্বান জানাবো তারা যেন বাংলাদেশকে ভুলে না যায়। যে দেশের মাটিতে তারা মানুষ হয়েছেন, যে দেশের
মানুষের, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে লেখাপড়া শিখে অস্ট্রেলিয়া এসেছেন, একটা ভালো লাইফ লিড করছেন। তারা যেন বাংলাদেশের ইমেজ বিদেশে তুলে ধরার জন্য তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তাদের যেন অবদান থাকে। এই আহ্বান আমি জানাই অস্ট্রেলিয়া যারা বাংলাদেশ কমিউনিটি বসবাসরত আছেন।
শাহান আলম: মেলায় দুই শিশু কন্যাসহ পরিবার নিয়ে এসেছিলেন বন্ধন। তিনিও বলছিলেন, এখানে পয়লা বৈশাখ বলতে তিনি এই মেলাকেই বোঝেন।
আমি লিনবুকে থাকি। লিনবুক, হ্যাঁ। সো আমাদের বাসা থেকে খুবই কাছে ড্যানিং নং। সো প্রতি বছরই এখানে আসি। প্রতি বছরই আনন্দ করি এখানে। এখানে তো পহেলা বৈশাখ বলতে আমরা এটাই বুঝি। আমি কিছু খাবার কিনেছি। আমার মেয়ে ফেস পেইন্টিং করেছে। ফেস পেইন্টিং করছি আর দেখছি যে কি ঘুরে ঘুরে এখানে কি পাওয়া যায়। আমাদের দেশি আইটেম কি কি আছে, হ্যাঁ। প্রতি বছর এখানে পয়লা বৈশাখ হয়। আমাদের, আমরা সবাই এখানে অনেক উদযাপন করি। খুবই আনন্দ সহকারে উদযাপন করি। খুবই এক্সাইটেড হয়ে এখানে আসি প্রতি বছর। তো আশা করব যে প্রতি বছর যেন এভাবে একটা নববর্ষ আমাদেরকে মানুষরা আমাদের জন্য করে।
শাহান আলম: জায়রা, তুমি কি খাচ্ছ?
শাহান আলম: চিপি। কেমন লাগছে?
শাহান আলম: আচ্ছা। তুমি কোথায় এসেছ তুমি?
বলো নববর্ষে আসছি বলো। বৈশাখ মেলায় আসছি বলো।
শাহান আলম: এই আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার ফেস পেইন্টিং করেছে। কে করে দিয়েছে ফেস পেইন্টিং।
শাহান আলম: আন্টি, আচ্ছা। তুমি খুব ভালো বাংলা বলো।
শাহান আলম: গত এক বছর ধরে এবিএর সাথে যুক্ত মেজবা করিম দীপ্ত। তিনি অনুষ্ঠানটি আয়োজনের নানা দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, আমরা চেয়েছি অস্ট্রেলিয়ায় আসা তরুণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে।
কিন্তু যখন কাজ করি তখন একটা জিনিস দেখি, প্রতি বছর কেমন করে বেটার করতে পারি। আমরা অর্গানাইজ করার সময় এবার একটা জিনিস খেয়াল করেছি। সবাই মনে করেন যে আমাদের গেলে হলো, না গেলেও হলো। আমরা অর্গানাইজ করার আগে একটা চিন্তা করেছি আমরা কোন ডেমোগ্রাফি চাচ্ছি। প্রথমে আমরা টার্গেট করেছিলাম যে ইয়াঙ্গার জেনারেশন যারা স্টুডেন্ট হিসেবে এখানে আসে অস্ট্রেলিয়াতে। এই স্টুডেন্টরা তাদের একটা আলাদা কমিউনিটি। আমাদের কমিউনিটির সাথে ওরা একসাথে হয় না। তারা ওই যে স্টুডেন্ট এবং শনিবার ওরা কাজ করে। তাদের মধ্যে থেকে কিছু ফ্যামিলি আছে যারা আসতে পারে। হাজবেন্ড ওয়াইফ পড়াশোনা করতে এসেছে অথবা ওরাও যদি শনিবারে না কাজ করে কিভাবে ওদেরকে রিচ আউট করা যায়। এবার আমরা সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি, ডেকিন ইউনিভার্সিটি, মনেশ এগুলোতে রিচ আউট করার চেষ্টা করছি এবং সেখান থেকে কিছু আমরা নতুন ফেস দেখতে পাচ্ছি অ্যাজ এ প্যাট্রন। মানে নতুন যারা এই মেলাগুলোতে আসা শুরু। আমাদের দরকার ওদের বেশি। আমাদের কমিউনিটি অর্গানাইজেশন, কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যবসাপতি আছে। তারা যদি আমাদেরকে হেল্প করে সামান্য টাকা দিয়ে তাহলে আমরা এর থেকেও সুন্দর কিছু প্রোগ্রাম করতে পারবো। বাট আমাদের কয়েকজন খুব খাতাকাটনি করে আর কয়েকজনে মানে উপদেষ্টা হিসেবে হেল্প করে। এর বাইরে কমিউনিটির আমরা লেগ্যাসি তৈরি করার চেষ্টা করছি। লেগ্যাসি, ওই যে জুনিয়র যাদেরকে বললাম যারা এসেছে পড়াশোনা করতে এরা একসময় কমিউনিটির অংশ হবে।
শাহান আলম: এই ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের সোশ্যাল কোহেশনের জন্য কতটুকু উপকারী বা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
এক হচ্ছে বাংলা। বাংলা ভাষায় কথা বলা একটা জিনিস। বাংলা কালচারের সাথে থাকা একটা জিনিস। কারণ আমাদের বাচ্চারা সকালবেলা আমরা চাইল্ড কেয়ারে নামিয়ে দিয়ে যাই অথবা স্কুলে নামিয়ে দিয়ে যাই। আমরা যখন কাজ থেকে ফিরি ওদেরকে নিয়ে আসি। ওই যে সাত আট ঘন্টার যে গ্যাপটা ওরা কিন্তু আমাদের কালচার থেকে একটু দূরে চলে যায়। তো ওদেরকে যখন এখানে আনা হয় তখন ওরা দেখে যে ও
I belong to this something আমার বাবা মা heredity থেকে এসেছে অস্ট্রেলিয়াতে। Part of me is also a part of this community। ওইটা আমাদেরকে খুব important ভাবে রাখতে হয়েছে। কিন্তু ওদের জন্য আমরা কিছু ছোট ছোট event রেখেছি so that they understand যে এখানে we are part of a community which is Australian community but at the same time we are part of a Bangladeshi community যেখানে mixed একটা আমার জন্য একটা খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে, আমার জন্য একটা gift আছে। এই জিনিসগুলোর মাধ্যমে ওদেরকে engage করা, involve করা।
শাহান আলম: মেলার আরেকজন দর্শনার্থী রবীন্দ্রনাথ বৈশাখী মেলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জন্মভূমির স্মৃতিচারণ করলেন। তিনি বলেন, দেশে থাকতে বৈশাখী মেলার বৈশিষ্ট্য ছিল নানা ধরনের খাবার এবং নতুন পোশাক।
হ্যাঁ, এইটা তো বর্ষপরণের program। So আমাদের নতুন বছর পরের celebration একটা। তো আমরা দেশের বাইরে যারা আছি তারা এই program এর মাধ্যমে বর্ষপরণ করি। কারণ আমরা দেশে তো আমরা কী করি যে নতুন জামা, নতুন গান, নতুন
খাবার দিয়ে আমরা এটাকে celebrate করি। এখানেও আমরা একই রকমভাবে
করতে চাই যে কিনা নতুন জামা, নতুন program। এখানে বাংলা band আছে।
শাহান আলম: তো আপনি কি কোনো performance করছেন এখানে? নাকি কিভাবে আপনি involve এই program এর সাথে?
আমি হ্যাঁ, দেখতে এসেছি। আমি-
শাহান আলম: কিছু খাওয়া দাওয়া try করেছেন?
হ্যাঁ, খাওয়া দাওয়া মানে এখানে তো আপনি জানেন যে দেশীয় খাবার দোকান খুবই মানে হাতে গোনা কয়েকটা। তো এখানে একটা
অনেক সুযোগ, অনেক বড় opportunity যে দেশীয় খাবার খাওয়ার এবং দেশীয় পোশাক দেখছেন আপনি। দেখতে পাচ্ছেন দেশীয় পোশাকের stall আছে। তো আমিও কিনবো পাঞ্জাবি।
শাহান আলম: মেলায় দেশি ভাইবস নামে একটি সংগঠনের স্টলের কর্ণধার জাওয়াদ রিকশাসহ নানা ধরনের পণ্য নিয়ে বসেছেন এবং ক্রেতাদের সাথে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। তিনি বলেন, তার মিনিয়েচার পণ্যগুলো বাংলাদেশ থেকে আনা যা বাংলাদেশিদের দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়।
আমরা দেশি ভাইবস। আমরা হচ্ছে আজকে this is our first time আমাদের public appearance। আমরা হচ্ছে কি বাংলাদেশ থেকে বানানো জিনিসগুলো আমরা এখানে আনছি। আপনি দেখতে পারবেন ঢাকার রাস্তা বা বাংলাদেশের যেকোনো শহরের রাস্তায় চলতে গেলে আমরা বিভিন্ন জিনিস আমরা বিভিন্ন সময় দেখি। CNG এর পিছে লেখা আছে থামুন, ট্রাকের পিছে বা হয়তো CNG বা রিকশা, ভ্যান গাড়ি বিভিন্ন এই ধরনের জিনিস এবং হাতে করা যে জিনিসগুলি এগুলো আমরা আনছি। জি, তো এর কিছু miniature এবং আমাদের কি আরও কিছু sophisticated miniature on the way আছে। এগুলো hand painted items সেগুলো।
শাহান আলম: তো কেমন বিক্রি হচ্ছে?
আমরা একটু-- আমাদের আজকে আসতে একটু দেরি হয়েছে আমাদের কিছু জিনিস পেতে। তো এই শুরু হলো কিছুক্ষণ আগে। কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের বেশ কিছু শুরু হয়ে গেল কেনাবেচা।
শাহান আলম: Can I have a just little chat with you?
শাহান আলম: So I can see you are selling sugarcane and everything.
fresh sugarcane juice, popcorn and some soft drinks,
শাহান আলম: So are people buying?
Yeah, people it's because it's bit cold. So it's people like better in the, you know, it's a hot weather, but still they are buying. Oh, it's going on, yeah. I just see the when where the people gather because I am businessman. So I know because the sugarcane is popular in Bangla as well and like most of the Indian people they know about the sugarcane. So I just see where the, the South Asian connection is there. So I tried. I tried first time.
শাহান আলম: নৃত্য, গান, কবিতা পাঠসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয় রাত আটটায়।
শাহান আলম: অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ভিক্টোরিয়ার বৈশাখী মেলা নিয়ে প্রতিবেদনটি শুনলেন। আপনাদের সাথে ছিলাম আমি শাহান আলম।
END OF TRANSCRIPT