২০২১ সালের সেনসাস পূরণ করার জন্য এখনও দেরি হয়ে যায় নি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি পাঁচ বছর পর পর আদমশুমারি করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যাই এখন লকডাউনে রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্টাটিস্টিক্স বলছে, যতটা সম্ভব সহজে ও নিরাপদে তারা আদমশুমারি সম্পন্ন করবে।
অস্ট্রেলিয়ায় কোনো একটি বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে আদমশুমারির ঘটনা এবারই প্রথম।
সেনসাস ২০২১ এর সিনিয়র রেপন্সিবল অফিসার টেরেসা ডিকিনসন বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের জনগণের গভীর চিত্র পাওয়া যাবে।
১০ আগস্ট ছিল অফিসিয়ালি সেনসাস নাইট। তবে, সেনসাস ফর্ম পূরণের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্টাটিস্টিক্স বা এবিএস জনগণকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে।
মিজ ডিকিনসন বলেন, এর মাধ্যমে জনগণকে সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে।
এরপর, যে-সব পরিবার এখনও সেনসাস ফর্ম জমা দেয় নি, তাদেরকে রিমাইন্ডার লেটার পাঠানো হবে কিংবা নিরাপদ হলে মাঠ-কর্মীরা বাড়িতে যাবেন।
এরপর শুরু হবে তথ্য জমা করার বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রাপ্ত তথ্যগুলো একত্রিত করা হবে। ২০২২ সালের জুন মাসে প্রথম দফায় সেনসাস ডাটা প্রকাশের কথা রয়েছে।
আর, যাদের সহায়তার দরকার, তাদেরকে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করা হবে।
সেনসাস ফর্ম ইংরেজিতে লিখিত। মিজ ডিকিনসন বলেন, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক-যোগাযোগ-মাধ্যমে ২৯টি ভাষায় এ বিষয়ক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, ন্যাশনাল ট্রানস্লেশন সার্ভিসের মাধ্যমে দোভাষীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
এ বছরের সেনসাসকে আগেরগুলোর চেয়ে অনেক ভাল বলে দাবি করছে এবিএস। কারণ, এ বছর অনলাইন প্লাটফর্মের নিরাপত্তা-বিধান করা হয়েছে, টেলিফোন-সহায়তা বাড়ানো হয়েছে এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে। তারপরও, এখনও এমন অনেক জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন।
যেমন, গৃহহীন অস্ট্রেলিয়ানরা কিংবা যারা পথে-ঘাটে ঘুমায় সেসব ব্যক্তিরা।
স্যালভেশন আর্মির মিশন সেক্রেটারি লিন এজ বলেন, কমিউনিটি নিয়ে যে-সব সংগঠন কাজ করে তারা তাদের সিদ্ধান্তগুলো জানানোর ক্ষেত্রে সেনসাস ডাটার ওপরে অনেক নির্ভর করে।
তবে, মিজ এজ বলেন, গৃহহীন লোকদের কিংবা যে-সব লোকের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই, তাদের কাছে পৌঁছানো অনেক চ্যালেঞ্জিং, বিশেষত, এই মহামারীর সময়টিতে।
যারা পথে-ঘাটে ঘুমায় কিংবা যারা ঘর পরিবর্তন করছে, তাদেরকে সেনসাস ফর্ম পূরণে সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
শতকরা ৭৫ ভাগেরও বেশি অস্ট্রেলিয়ান তাদের ফর্ম অনলাইনে পূরণ করবেন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ বছরের সেনসাসে দুটি নতুন প্রশ্ন যুক্ত করতে দেখা গেছে।
প্রশ্ন করা হয়েছে যে, কারও দীর্ঘ-মেয়াদী কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কিনা। যেমন, হাঁপানি কিংবা ডায়াবেটিস। আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, ডিফেন্স ফোর্সে কখনও কাজ করেছেন কিনা।
তবে যে প্রশ্ন করা হয় নি তা নিয়ে কেউ কেউ হতাশ। সেক্সুয়ালিটি ও জেন্ডার বিষয়ক প্রশ্ন না রাখায় এর সমালোচনা করেন LGBTIQ+ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।
সেনসাস ২০২১ এর তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মাইকেল সুকার বলেন, জরিপের বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনার পর কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য-সমস্যা ও ডিফেন্স ফোর্স বিষয়ক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা বেশি দরকারি।
২০২৬ সালের সেনসাসের প্রশ্ন নিরূপণ করার জন্য কর্মকর্তাদের হাতে আরও পাঁচ বছর সময় আছে।
প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.





