সিকদার তাহের আহমদ: শ্রোতাবন্ধুরা, এখন আমরা কথা বলছি নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর এলিজা রহমানের সঙ্গে।
কাউন্সিলর এলিজা রহমান, এসবিএস বাংলায় আপনাকে স্বাগত।
কাউন্সিলর এলিজা রহমান: আসসালামু আলাইকুম, সিকদার ভাই। আমি আসলে খুবই আনন্দবোধ করছি। আপনি আমাকে এই আয়োজনে আসতে বললেন, কথা বলতে বললেন। এটা একটা অবশ্যই খুবই বড় সুযোগ আমার জন্যে, আমাকে নিয়ে কিছু কথা বলার।
সিকদার তাহের আহমদ: ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করছেন আপনি। আর আমরা যতটুকু জানি, এর পাশাপাশি মাল্টিলিঙ্গুয়াল কমিউনিটি অ্যান্ড কালচার ইঙ্ক এর সঙ্গেও আপনি যুক্ত। একজন বাংলাভাষী অস্ট্রেলিয়ান নারী হিসেবে এসব ক্ষেত্রে কি কোন চ্যালেঞ্জ অনুভব করেন?
কাউন্সিলর এলিজা রহমান: আগে বলব যে, একজন বাংলাভাষী অস্ট্রেলিয়ান নারী হিসেবে অবশ্যই আমি খুবই সৌভাগ্যবতী একজন। নারী হিসেবে যদি আমি আমার কাজটাকে ঠিক রেখে নিজের সক্রিয়তা এবং সব পরিচ্ছন্ন কাজের জায়গাটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই মূলধারার রাজনীতিতে থেকে সামাজিক পরিসরে কাজ করে এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে আমরা নিজেদের যেই জায়গাটার স্বপ্নের জায়গা, সেই জায়গাটায় আমরা নিজেদেরকে উপবিষ্ট করতে পারি। তবে হ্যাঁ, আমি এটাকে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি একটি দায়িত্ব হিসেবেও দেখি। আমি চেষ্টা করি যেন আমাদের ভাষা, আমাদের সংস্কৃতি এবং অভিজ্ঞতাগুলো স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সঠিকভাবে তুলে ধরা যায়। একই সাথে নারী হিসেবে নারী নেতৃত্বের জায়গায় কাজ করাটা নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিতেও সাহায্য করে। তো এই যত চ্যালেঞ্জ, এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সামনাসামনি করে নিজের জায়গাটাতে পৌঁছে যাওয়া এবং সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়াটা, এটা মনে করি এক ধরনের অ্যাচিভমেন্ট। এই অ্যাচিভমেন্টটা আসলে চ্যালেঞ্জটাকে নিয়েই এগিয়ে যায়। সুতরাং আমার কাছে এই জিনিসটা ভালো লাগে যে, হ্যাঁ, আমি চ্যালেঞ্জ নিব এবং আমি অ্যাচিভ করব।
সিকদার তাহের আহমদ: এবার মাল্টিলিঙ্গুয়াল কমিউনিটি অ্যান্ড কালচার ইঙ্ক, এটার সম্পর্কে একটু জানতে চাচ্ছি।
কাউন্সিলর এলিজা রহমান: মাল্টিলিঙ্গুয়াল কমিউনিটি অ্যান্ড কালচার ইঙ্কটা, এটা হচ্ছে একটি চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশন। আমরা দীর্ঘদিন নন-প্রফিটেবল অর্গানাইজেশন হিসেবেই কাজ করে এসেছি এই প্ল্যাটফর্মে, যেখানে আমি ফাউন্ডার এবং চেয়ার হিসেবে নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই, সেইটার চাইতেও এই সংগঠনের মাধ্যমে আমরা কিভাবে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে একটা সংযোগ তৈরি করব, সেটার উপলক্ষ্য চেষ্টা করি আর কি বের করার। সেটাতে আমাদের মূল সংযোগ লক্ষ্য যদি আমরা বলি, সেটা ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে উদযাপন করা। কিন্তু তার পাশাপাশিও বিভিন্ন ধরনের যেই সোশ্যাল গ্যাপগুলো আমরা দেখি এবং যেই জায়গাগুলোতে আমরা মনে করি যে একটা ব্যালেন্স আনা দরকার, সেই বিষয়গুলো নিয়েও আমরা কাজ করার চেষ্টা করি। এতে নতুন মাইগ্রেটেড গ্রুপ যারা আছেন, মাইগ্রেন্টসরা এসে তাদের যেই সার্ভিসেসগুলোতে তারা অনেক সময়
খুব নিজেদেরকে ইনক্লুসিভ মনে করেন না, সেই পরিবেশটা তৈরি করে দেওয়া তাদের জন্য যে, তারা যেন তাদের অধিকারটা, তাদের সার্ভিসগুলো এবং তাদের পুরো একটা নতুন সমাজ সম্পর্কে ধারণা, সেটা যেন তারা পেতে পারে এবং তারা যেন আইসোলেট ফিল না করে, মানে নিঃসঙ্গতা ফিল না করে। যখন কেউ অন্য জায়গা ছেড়ে একটা নতুন জায়গায় আসে, তার সেই পরিবেশিত জায়গাটার মধ্যে নিজেদেরকে কমফোর্টেবল বানানোর একটা প্রক্রিয়া, সেটা আমাদের এই সংগঠনের মাধ্যমে সেই পর্যায়টা তৈরি করা হয় এবং এটারই একটা অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন মাল্টি কালচারাল ইভেন্ট, ওয়ার্কশপ যেমন করে থাকি, তেমনি কমিউনিটি প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করে নিজেদের সংস্কৃতিটাকেও আমরা তাদের সামনে তুলে ধরার একটা উপায় বের করি আর কি, প্রক্রিয়াকরণ হয়। আর অস্ট্রেলিয়ান সমাজের সঙ্গে ভালোভাবে আমাদের এই কালচারটাকে মেল্ট করাটাই আমাদের মূল ইচ্ছা। কিন্তু অ্যাট দ্য সেইম টাইম ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে কাজ করি আমরা যেভাবেই, সেভাবে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ করি যেগুলো হচ্ছে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স রিলেটেড, সিনিয়র সিটিজেন ইস্যুজ দ্যাট আমরা যেগুলা ফেস করি এখানে, আইসোলেশন কিংবা সার্ভিস রেকমেন্ডেশন, এগুলো আমরা করছি এবং ইয়ুথদেরকে নিয়েও আমরা বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটিজে আমরা ইনভলভ।
সিকদার তাহের আহমদ: আপনার সম্পর্কে একটু জানতে চাচ্ছি। মানে আপনি কবে অস্ট্রেলিয়ায় এলেন? আর এখানে আপনি কি পেশায় আছেন বা কি করেন, এসব বিষয়ে আর কি।
কাউন্সিলর এলিজা রহমান: আমি অস্ট্রেলিয়াতে দুই যুগের উপরে। যখন অস্ট্রেলিয়াতে আসি, আমি বাংলাদেশ থেকেই আমি
ল' নিয়ে পড়াশোনা করে আসি। এখানে এসেও আমি বিজনেস এবং মার্কেটিং এর পাশাপাশি ল' ডিগ্রি নিয়ে পড়েছি এবং পড়ছি এখনও পর্যন্ত। আমি এখন রিসার্চ করছি বেসিক্যালি উইমেন রিলেটেড ইস্যুজগুলোর মধ্যেই, যেখানে আমার মেইন ফোকাসটা হচ্ছে বেসিক্যালিThe violence against women and not only that if we see that way and now violence against women in conflict and peace এবং আমি যদি আরও narrative way তে নিজেকে দেখতে চাই একজন migrated women, um, Australian women হিসেবে এবং Muslim women হিসেবে আমাদের politics বা social welfare এর ক্ষেত্রেও আমরা কিভাবে obstacle গুলা দেখি সেগুলো নিয়েই আমার research এর কাজ এখন, এখন যেটা করছি। এর আগে আমি local government, state government এবং federal government এ কাজ করি এবং রাজনীতির সাথে অনেকদিন ধরেই আমি সম্পৃক্ত labour party র সাথে। Particularly এখন আমি আমার নিজের branch এ Camden branch এ আছি একজন executive member হিসেবে vice president হিসেবে। এছাড়াও আমি আমার Badges Creek যেখানে আমি বসবাস করি Oran Park সেটি যেই state এর under এ সেটিরও delegate হিসেবেই আমি এখনও দায়িত্ব প্রাপ্ত। সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমি, আ, multilingual community and culture এই charity organization টাকে ভিন্ন তরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্নটা দেখছিলাম সেটাতে এখনও পর্যন্ত আমি সংকলপ নিয়েই আগাচ্ছি। আর Camden council থেকে আমার যেই নতুন দায়িত্ব একজন elected councillor হিসেবে সেই দায়িত্বটা আমি এখন উপভোগ করছি। এটি একটি অবশ্যই বলব এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আমি আমার community র আমার residents দের পছন্দ অনুযায়ী আমি আজকে তাদের জন্য কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়ে এসেছি। আমি North Ward কে represent করি যেখানে তিনটা state Leppington, Camden এবং Badges Creek তিনটা state এবং দুইটা federal একটি হচ্ছে Hume আরেকটি হচ্ছে Macarthur। তো, আম, সবকিছু মিলিয়ে North Ward টা যেভাবে connected হচ্ছে এবং খুব দ্রুত development এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমাদের contribution as a new councillor আমরা অনেক কিছু input দিচ্ছি। অনেক infrastructure এর দিকে focus করছি। Community engagement এবং community consultancy তে আমরা priority দিচ্ছি। সেই সাথে community তে কি কি আমাদের এই Camden LGA তে কি কি এই মুহূর্তে budget অনুযায়ী দায়িত্ব নেওয়া যেতে পারে বা সমাধান করা যেতে পারে কাজের সেইগুলোর দিকে যথেষ্ট সচেতন হয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ আপনি হয়তোবা জেনে থাকবেন আমাদের Western Sydney Airport আসছে খুব দ্রুত এই বছরের শেষেই। সেই কারণে আমাদের এই Camden LGA টা নতুন airport এর কারণে অনেক কিছু tourism এবং hospitality র ক্ষেত্রে engage হবে। নতুনভাবে Camden কে উন্মোচন করবে community। তো সেই ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কিছু ভাববার আজ সুযোগ আছে, কাজ করবার সুযোগ আছে এবং আমি আমার জায়গা থেকে একজন বাংলাদেশি elected councillor হিসেবে আমার যতটুকু করা সম্ভব আমার Camden LGA community মানুষদের জন্য আমি সেটা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি সবসময়ই চেষ্টা করে গেছি যে একটা সেতুবন্ধন করা দুইটা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়া। সেটা culturally, business perspective which is economically। যদি কোথাও কোন দিক থেকে আমরা এই দেশ দুইটাকে একত্রিত করে আনতে পারি সেতুবন্ধনের মাধ্যমে আমাদের দুই cultural মানুষগুলো আমরা কিভাবে এই দেশে যখন আমরা বসবাস করছি এই দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে পারি, more সচেতন হয়ে এই দেশকে কিছু দিতে পারি আমাদের জন্মস্থানের পাশাপাশি সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে আমি young generation দেরকে যথেষ্ট উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। Mainstream এর রাজনীতিতে সবাইকে সংযুক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। যারা যেখান থেকে professional career নিয়ে কাজ করছেন বা professionally contribute করছেন এই দেশে তাদেরকেও স্মরণ করছি এবং বারবার তাদের কাছে অনুরোধ করছি যে আপনারা আপনাদের ভালো কাজটি দেখিয়ে আপনারা যেমন আমাদের জন্মস্থান বাংলাদেশকে উপস্থাপন করবেন তেমনি এই দেশের প্রতি আমাদের পরবর্তী generation এবং আমাদের যে দায়িত্ববোধ আছে বা যেই জায়গা থেকে আমাদের মনে হয় যে আমাদের আরও বেশি একত্রিত হয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি করার দরকার সবক্ষেত্রে যেন আমরা সেটা করতে পারি। সেই পরিগণ্ডিটা তৈরি করা, সেই পরিমণ্ডলটা তৈরি করা এবং অবশ্যই আমরা প্রথম generation হয়ে বা দ্বিতীয় generation হয়ে যদি আমরা পরবর্তী generation এর জন্য এটা করে যেতে পারি তাদের জন্যও এটা অনেক বড় চলার পথে অনেক বড় কিছু হতে পারে।
সিকদার তাহের আহমদ: Councillor এলিজার রহমান SBS বাংলাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
কাউন্সিলর এলিজা রহমান: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ সিকদার ভাই। আমি SBS বাংলাকে বলব আপনারা যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এভাবেই কাজ করতে থাকুন। Community আরও শক্তিশালী হবে যদি আপনারা সবাইকে এভাবে উৎসাহ দেন। নতুন যারা আসছেন বা এসেছেন তারা সবাই একত্রিত হন এবং আমাদের নিজেদের পরিচয় নিয়ে আমরা যেমন গর্বিত থাকি এভাবেই যেন আপনারাও আমাদেরকে পাশাপাশি অনেক রকম সুযোগ দিয়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। শুভকামনা রইল।
সিকদার তাহের আহমদ: নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর এলিজার রহমানের সাক্ষাৎকারটি শুনলেন। সঙ্গে ছিলাম আমি সিকদার তাহের আহমদ
END OF TRANSCRIPT