ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে রেদওয়ান রনি পরিচালিত "দম" চলচ্চিত্র। এরই ধারাবাহিকতায় গত আঠাশ ও উনত্রিশে মার্চ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইড ও সিডনিতে সিনেমাটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। অ্যাডিলেইডে আঠাশ মার্চে প্রদর্শনীটি ঘিরে এই প্রতিবেদন। সঙ্গে আছি আমি আন্তারা রাইসা।
ঈদের ছুটিতে মুক্তি পাওয়া সিনেমা মানেই বাংলাদেশে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ। সেই আবহ এবার ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝেও। আবেগ, টান টান উত্তেজনা আর বেঁচে থাকা সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে "দম"। সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে আফগানিস্তানে এক চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়া এক বাংলাদেশির জীবন সংগ্রাম। কেন্দ্রীয় চরিত্র নূর, যাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই দাবি পূরণ না হলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। চারপাশে মরুভূমি, পাহাড় আর অনিশ্চয়তা। খাবার ও পানির অভাবে প্রতিটি মুহূর্ত যেন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। এই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা। এটাই সিনেমার মূল গল্প। নির্মাতা রেদওয়ান রনি সিনেমার নির্মাণশৈলীতে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। এই কথাটি উঠে এসেছে কয়েকজন দর্শকের প্রতিক্রিয়ায়। এই চলচ্চিত্রটি একটি বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয় আরও গভীরভাবে। প্রায় এক দশক পর বড় পর্দায় ফিরে এসেছেন নির্মাতা রেদওয়ান রনি। আর তার সঙ্গে রয়েছেন শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী এবং পূজা চেরি। তাদের একসঙ্গে উপস্থিতি সিনেমাটিকে ঘিরে বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি করেছে। রোজার ঈদে মুক্তির পর থেকেই বাংলাদেশে সিনেমাটি ব্যাপক দর্শক প্রিয়তা পায়। মাল্টিপ্লেক্সে টানা হাউজফুল শো এবং মুক্তির পর প্রথম তিন দিনেই প্রায় এক কোটি টাকার আয়, সব মিলিয়ে এটি দ্রুত আলোচনায় চলে আসে। এই জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে দেশের বাইরেও। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইডের প্রসপেক্ট এলাকার প্যালেস নোভা সিনেমা হলে গত আঠাশ মার্চ শনিবার বিকেল পাঁচটায় প্রদর্শিত হয় "দম"। প্রদর্শনীর আয়োজন করে গ্লোবাল অস্ট্রেলিয়া মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট। সিনেমাটি দেখতে হলে ভিড় করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা, যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্দায় দেশের সিনেমা দেখার সুযোগ পাননি। সিনেমা শেষ হওয়ার পর কথা হয় কয়েকজন দর্শকের সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ায় তিন বছর ধরে বসবাসরত সাবিকুন নাহার দিনা জানান, প্রবাসে বসেই প্রথম তিনি বড় পর্দায় বাংলাদেশের কোন সিনেমা দেখলেন। তার ভাষায় এই অভিজ্ঞতা তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে।
আমি আসলে বাংলা মুভি দেখা ছেড়েই দিছিলাম almost, কারণ যে type-এর commercial movie release হয় ওগুলা আসলে দেখা হয় না আমাদের। But last কয়েক বছর ধরে, দুই-তিন বছর ধরে এত সুন্দর সুন্দর মানে নতুন theme-এর movie আসতেছে, classical movie আসতেছে। এখন, এখন আসলে আগ্রহ হয় বাংলা movie দেখার। বাংলাদেশে তো একটা ব্যাপার ছিল যে চাইলেই avail করা যেত, যে কারণে হচ্ছে হয়তো এই এখানকার thrillটা হয়তো feel করি নাই। But এখানে যেরকম মানে এই যে ঈদ উপলক্ষে বাংলা movie দেখলাম, তাও এত সুন্দর movie, এই thrillটা অন্যরকম। মানে it was very much different from our country. So এখানে মানে এখানে বসে দেখতে পারছি, এটা আসলে অনেক মানে অনেক বড় একটা ভালো লাগার ব্যাপার।
মাত্র আট মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় আসা সোহরাব হোসেন নিয়াজ বলেন, সিনেমাটি তাকে দেশের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। দূরে থেকেও যেন তিনি কিছু সময়ের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন নিজের পরিচিত পরিবেশে।
এই movieতে একটা part ছিল যে একটা time-এ আর কি মানে ও যখন emotional ছিল, কানতেছিল তখন opponent-এর gangster একজন জিজ্ঞেস করতেছিল যে কেন কানতেছিস ঈদ নিয়ে। মানে পরে বলতেছিল যে তুমি বুঝবা না কারণ ওর family ছিল না। ঈদে সব থাকলে ওর familyটা ছিল না। Familyটা যে missing, ওই জিনিসটা এখানে আসলে ঈদে specially ভালোমতো বোঝা যায়। অস্ট্রেলিয়াতে বাংলা movie প্রথমবারই আমার আজকে দেখা এবং আমি expect করব যে আরও আমাদের বাংলাদেশি এবার মনে হয় পাঁচটা বা ছটা film আর কি release হয়েছে, যে সবগুলোই যাতে আসে। তাহলে আমরা যাতে আর কি সময় করে দেখতে পারি।
প্রায় পনেরো বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, প্রবাসে এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি করে।
কথা বলতে গেলে "দম" একটি দম বন্ধ হয়ে আসার মতো একটা movie। একদমই movieটা দেখে ফেলার মতো। কাহিনী সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মাণ করা এবং সিনেমাটোগ্রাফি বলেন, sound effect বলেন, expression বলেন, আফরান নিশো আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন যে সে কোন level-এর একজন অভিনেতা হতে পারে। সাথে এটাও বলব যে চঞ্চল চৌধুরী যতক্ষণ পর্দায় উপস্থিত ছিলেন, সে জানান দিয়ে গেছেন যে সে কত বড় মাপের একজন অভিনেতা হতে পারে। অবশ্যই আমরা বিদেশের বাড়িতে যারা থাকি তারা আসলে অনেক কিছুই খুব miss করি। যেমন শেষের দিকে কিছু সংলাপ যেগুলি ছিল যে "আমি বাংলাদেশি। আমি কিন্তু এখন স্বাধীন। আমি কিন্তু এখন আর ভয় পাই না। আমাকে আর পরাধীন করা যাবে না।" এগুলি আসলে অনেক বেশি গভীর শব্দগুলি, বাক্যগুলি। যদি আমরা চিন্তা করি যে দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বা আমাদের রাজনৈতিক জীবনে, রাষ্ট্রীয় জীবনে সমস্ত কিছুতে আসলে আমরা স্বাধীন, পরাধীনতার কোন শৃঙ্খলে আসলে আমাদেরকে আবদ্ধ করা যাবে না। যদি আমরা বুঝতে পারি যে আমরা স্বাধীন, অবশ্যই বাংলাদেশ সগৌরবে সারা বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবে। আমার মনে হয় রেদওয়ান রনি এই ছবিটার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মানুষকে, সারা বিশ্বে যেখানেই বাঙালিরা বা বাংলাদেশিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন তাদের প্রতি এই একটা message দিয়ে দিলেন যে আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি, আমরা স্বাধীন।
আমরা আমাদেরকে কেউ আর আটকাতে পারবে না। heads up to team redone রনি এবং heads up to the Bangladesh টাকে আসলে প্রতি মুহূর্তেই miss করি। আমি Bangladesh টাকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশি movie এইজন্যই আসা। সেটা যেমনই হোক না কেন অনেকের কাছে হইতে পারে যে না কাহিনীটা খুব ভালো লাগেনি, না সিনেমাটা খুব ভালো নেই। কিন্তু তারপরও আমার মনে হয় একটি দেশি movie দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা। বিদেশে যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে যে পরিচয় করে রাখা, এই যে অদম্য চেষ্টা বাংলাদেশি movie র মাধ্যমে এখানে আসলে হচ্ছে। একটা movie আপনাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেবে। তো আসলেই যখন দেখি আসলেই miss করি। অনেক সময় খুব বেশি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই।
প্রদর্শনের আয়োজক এবং Global Australia Media and Entertainment এর কর্ণধার নাজিউল বীর খান জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলা সিনেমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের challenge রয়েছে। যেমন hall booking দর্শক সংখ্যা নিশ্চিত করা এবং বিতরণ সংক্রান্ত জটিলতা। তবে তিনি বলেন, দর্শকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাংলা সিনেমা প্রদর্শনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
দুই হাজার বাইশ সালের August এ
তো পরান দিয়ে শুরু হয় আরকি। Banga Films এর সাথে partnership এ। তো এইটা আমাদের বারো কি তেরো number movie দেখানো হয় আরকি। কালকে বনলতা Express আছে। এটা সব থেকেই এরকম একটা আড্ডার টেবিলেই শুরু হওয়া। আগে বেশিরভাগই তো আপনার বিভিন্ন যে community organization গুলা আনতো তারাই আনতো আরকি বা বিভিন্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। তো আমি দুই হাজার বাইশ সালে এটা শুরু করি। আমার সাথে একজন partner ছিলেন। But উনি পরে family issues কারণে পরে এখন আমি এটার অনেক support পেয়েছি community থেকে যেটা ভালো। Challenges হচ্ছে ওরকম যেটা হচ্ছে একটা যেটা দাওয়াত। ঈদের সময় মানে বাংলাদেশের ছবি তো সাধারণত ঈদে আসে। তো দাওয়াত গুলার কারণে একটু মানে আপনার ইয়া হয় অনেকের। আবার অনেকের কাজও থাকে weekend এ ওটা। আর আরেকটা যেটা হচ্ছে মানে দেশের সাথে যেমন আমরা first Australia তে দেখাচ্ছি, এটা কিন্তু USA হবে next week। কারণ হয়তো ওই piracy এর কারণে DCP গুলা আসতে একটু সময় লাগে। আরকি মানে বাংলাদেশে release হওয়ার পরে আসে। তো ওইটাও একটু challenging হয়ে যায়। Hall অনেকেই চায় দেড় সপ্তাহ দুই সপ্তাহ আগে DCP চায়। কিন্তু আমাদের তো release হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই। so ওইটা একটা কাজ করে। আর sponsorship কিছু কিছু পাওয়া যায়। ছোট যেমন এখানে একটা আছে Driveway।
তারপরে আগেও পেয়েছি বিভিন্ন company থেকে। But বাংলাদেশি তো অত নেই আর businesses হয়তো future এ হবে। But তো next এ আমাদের বনলতা আছে কালকে যেটা একদম মানে houseful। মানে over houseful বলব আরকি। তারপরে
আর কোন movie রাখবেন কিনা? আরও তো কিছু movie release হইছে বাংলাদেশে।
Next weekend এও আছে একটা। আর Pressure Cooker টা সম্ভবত end of April বা early May দেখাব আরকি। আর এরপরে ঈদের movie হবে। আর হয়তো একটা film festival আর করার ইচ্ছা আছে। এটা more like মানে donation। মানে ওটা ticket না। ওটা more like ভালো ভালো ছবিগুলা নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের রীতিকট বা বাংলাদেশের যে ভালো movie। so, এটা হয়তো middle of the year অথবা end of the year করব আরকি।
সিনেমাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সঙ্গীত। বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিন দীর্ঘ চুয়াল্লিশ বছর পর তার জনপ্রিয় গান 'এই মন তোমাকে দিলাম' নতুন সঙ্গীত আয়োজনে গেয়েছেন এই সিনেমার জন্য। যা দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি আবেগ। অভিনেত্রী পূজা চেরি বলেন।
অস্ট্রেলিয়ার মানুষদের জন্য যারা আছেন, ওইখানে বাঙালি অনেকেই আছেন এবং দম এমনভাবে spread হয়েছে সবার মাঝখানে। বাঙালি ছাড়া যারা বাঙালি না তারাও খুবই interested দেখার জন্য। কারণ এই lifestyle টা আসলে সবাই দেখতে চায় number one। number two হচ্ছে এটা আসলে আমাদের সবার জন্য, আমাদের টিমের জন্য এবং বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য অনেক সৌভাগ্যের যে বাংলাদেশ ছাড়াও আসলে বাইরের দেশে release পেয়েছে। first এই তো অস্ট্রেলিয়ায় release পেয়েছে। so এটা খুব ভালো লাগছে এবং বাংলাদেশ থেকে আসলে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী যারা আছেন, ভাই বোন, মা বাবা যারা যারা আছেন সবাইকেই বলব। যারা যারা দেখেছেন অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। জানি সবাই আসলে দম দেখার জন্য অনেকেই উত্তেজিত ছিলেন এবং অনেকেই আসলে চেয়েছিলেন যে দম দেখব। কিন্তু বিদেশে থাকার জন্য আসলে দেখতে পারেননি অনেকে। so যারা যারা দেখেছেন অনেক অনেক ধন্যবাদ। আর এখন পর্যন্ত যারা যারা দেখেননি please go to the cinema hall and watch দম।
প্রবাসীর জীবন অনেক সময়ই ব্যস্ততা আর দূরত্বের মধ্যে আটকে থাকে। কিন্তু এমন একটি সিনেমা যা গল্প বলে টিকে থাকার আশা আর মানুষের অদম্য শক্তির, তা প্রবাসীদের মনে নাড়া দেয় ভিন্নভাবে। কেউ কেউ মনে করেন দম শুধু একটি সিনেমা নয়, অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠেছে দেশের স্মৃতি ছুঁয়ে যাওয়ার একটি মুহূর্ত।
দম চলচ্চিত্রটি নিয়ে প্রতিবেদনটি শুনলেন। সঙ্গে ছিলাম আমি আন্তারা রাইসা।
END OF TRANSCRIPT