তারেক নূরুল হাসান: মেলবোর্ন নিবাসী পাভেল সিদ্দিকী ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। দেশ বিদেশে ঘুরে বেরিয়ে সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পছন্দ করেন তিনি। সম্প্রতি তিনি ঘুরে এসেছেন ব্রাজিলের বিখ্যাত অ্যামাজনের জঙ্গল। মেলবোর্ন থেকে দক্ষিণ আমেরিকা যাত্রা ও ভ্রমণের বিভিন্ন দিক নিয়ে এসবিএস বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন পাভেল সিদ্দিকী। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছি আমি তারেক নুরুল হাসান। এখন শুনবেন সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব।
[মিউজিক] তারেক নূরুল হাসান: পাভেল সিদ্দিকী, এসবিএস বাংলায় আপনাকে স্বাগত জানাই। এর আগে আমরা আপনার কাছ থেকে শুনেছিলাম আপনার এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে যাওয়ার গল্প। সম্প্রতি আপনি অ্যামাজনের জঙ্গল ঘুরে এলেন। প্রথমে জানতে চাইব, হঠাৎ সেখানে যাওয়ার কারণ কি? আপনার কি আগে থেকেই আগ্রহ ছিল অ্যামাজনের ব্যাপারে?
পাভেল সিদ্দিকী: ধন্যবাদ তারেক ভাই! অ্যামাজনের যে ব্যাপারটা ওয়ার্ল্ডে তো অনেক টুরিস্ট স্পট আছে অ্যাডভেঞ্চারের জন্য। তো, অ্যাডভেঞ্চারের ব্যাপারে তো আমার সবসময়ই আগ্রহ ছিল। তো, অ্যামাজনের ব্যাপারটা একদিন দুইদিনে আসে নাই। ছোটবেলা থেকে এরকম একটা ইয়ে ছিল, যখন অ্যামাজন জঙ্গল দেখতাম। তারপর ওখানকার প্রাণীদের লাইফ স্টাইল দেখতাম। ওখানে ইন্ডিজিনাস লোকজনদের বিহেভিয়ার দেখতাম এবং আপনার মনে আছে কিনা একটা মেইথ স্টোরি সবসময়ই ছিল আরকি ছোটবেলা থেকে যে, গোল্ডেন সিটি ইন অ্যামাজন ফরেস্ট, এল ডোরাডোর কথা যেটা কাল্পনিক একটা রহস্যময় একটা গোল্ডেন সিটি। এগুলো সব মিলায় মনের মধ্যে একটা ইয়ে ছিল। যখন স্টাডি করলাম, বায়োলজিক্যাল সাইন্স, তো আমার অ্যামাজনের প্রতি ভালোবাসা, আগ্রহটা অনেক বেড়ে যায়। তো, একসময় ডিসিশন নিলাম, ইট টুক মি অ্যাবাউট টেন ইয়ার্স টু প্রিপারেশনের জন্য আরকি।
তারেক নূরুল হাসান: আচ্ছা, এই প্রিপারেশন নিয়েও আমার প্রশ্ন ছিল যে, এবারে অ্যামাজনে যাওয়ার জন্য যে প্রিপারেশনটা, আপনার সেটা তো নিশ্চয়ই এভারেস্টের মতো না, একটু ডিফারেন্ট হবে সম্ভবত। তো, সেটা সম্পর্কে আমাদের কিছু একটা বলুন বা সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো আপনি ফেস করেছেন সেটা সম্পর্কে একটু বলুন।
পাভেল সিদ্দিকী: এখানে এভারেস্টের ব্যাপারটা যেটা ছিল সেটা হচ্ছে যে, ফিজিক্যাল ফিটনেসের ব্যাপারটা ছিল অনেক মানে প্রায়োরিটি। তো, এখানে অ্যামাজনের যে ব্যাপারটা, এখানে ফিজিক্যাল ফিটনেস তো আছেই। বাট, আপনার ফিজিক্যাল ওই ফিটনেস লাগবে না যে, অ্যামাজন ফরেস্টে যে কেউ যেতে পারে। যেকোনো এইজ গ্রুপ কিংবা আপনার যেকোনো সিচুয়েশনে কারো হয়তো ফিজিক্যাল কোন সমস্যা আছে, তারাও যেতে পারবে, কোন সমস্যা নাই। এখানে কতগুলো ব্যাপার আমি স্টাডি করেছিলাম। প্রথমত হচ্ছে, ব্রাজিলের ভিসার ব্যাপারে। এটা অনেকে হয়তো জানে না বা আমরা অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট, আমরা মনে করি যেকোনো দেশে হয়তো অন দ্য স্পটে আমরা ভিসা পেয়ে যাই। বাট, ব্রাজিলের ক্ষেত্রে একটু ডিফারেন্ট। যেমন, ইন অ্যাডভান্স আপনার অ্যাট লিস্ট এক সপ্তাহ থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে ওদের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন এর পরে। ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফিস ইজ অ্যাবাউট আন্ডার জাস্ট আন্ডার হান্ড্রেড ডলার। আমি প্রায় সাত আট দিনের মাথায় পেয়েছিলাম, দে গেভ মি লাইক ফাইভ ইয়ার্স ভিসা। তো, আমরা পাঁচ বছরের মধ্যে আবার যদি আমি যাই ওখানে, তাহলে লাগবে না। বাট, ওরা খুব ক্লোজলি লুক করে যে, মানে কে ট্রাভেল করতেছে ব্রাজিলে, নট ইজি টু গেট ইট। আরেকটা বিষয় বলতে চাই, সেটা হচ্ছে যে, যেহেতু অ্যামাজন ফরেস্টে আপনার মানে ডিফারেন্ট এনভায়রনমেন্ট, যে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট, ওখানে অনেক স্পেসিস যেহেতু এক্সিস্ট, সেক্ষেত্রে রোগ বালাইয়ের একটা ব্যাপার থাকে। ইয়েলো ভ্যাকসিন আগে ম্যান্ডেটরি ছিল ব্রাজিলে। যদি কেউ ব্রাজিলে যেতে চায় বা অ্যামাজন ফরেস্টে যেতে চায়, ইয়েলো ভ্যাকসিনটা খুবই জরুরি। আমি ভ্যাকসিন নিয়েছিলাম বা ভ্যাকসিনের কিন্তু স্ট্রং সাইড ইফেক্ট আছে, সেগুলো হয়তো অনেকের ক্ষেত্রে। যেমন হচ্ছে, আপনার মেমোরি লসের একটা ইয়া আছে। তারপর হাই ফিভার হতে পারে, অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন কিংবা ব্লাড প্রেশার হয়তো রেইজ হইতে পারে কোন কারণে, ইট ডাজন্ট ম্যাটার যে, হোয়াট এইজ গ্রুপ, এগুলো সাইড ইফেক্ট আছে। তো, ইয়েলো ভ্যাকসিনটা আমি নিয়েছিলাম। আমার কিছু কমপ্লিকেশন দেখা দিয়েছিল। খুব মানে শেষ মুহূর্তে নিয়েছিলাম। তবে আমার মনে হয় যে, ভ্যাকসিনের ব্যাপারটা যদি কেউ আর্লি স্টেজে নেয় থাকে তাদের জন্য বেটার। কারণ, এটার দশ বছর ভ্যালিডিটি থাকে। তো, একবার যদি আপনি জ্যাবটা নেওয়ার পরে টেন ইয়ার্স ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু ওয়ারি অ্যাবাউট সেকেন্ড ওয়ান।
তারেক নূরুল হাসান: তার মানে আগে থেকে যদি পরিকল্পনা করা থাকে সে অনুযায়ী তাহলে এই টাইমগুলো ঠিক করা যাবে।
পাভেল সিদ্দিকী: এক্সাকটলি, ইয়েস! ট্রাভেলের ক্ষেত্রে আরেকটা জিনিস সেটা হচ্ছে যে, ওখানে যেহেতু মশার অনেক উপদ্রব সেহেতু ক্লোদিং এর ব্যাপারটা, মশারি আছে ওখানে, প্লাস হচ্ছে মশারি রিপেলেন্টের কথা বলেন। লং স্লিভ পলিস্টার, কারণ ওখানে যেহেতু টেম্পারেচার লাইক থার্টি ওয়ান টু থার্টি ফাইভ ডিগ্রিজ এবং ভেরি হিউমিড, সেহেতু ওই ধরনের পোশাক। বুটের কথা বলব, জুতোর কথা বলব, সেটা হচ্ছে যে আপনার ওয়াটার প্রুফ শুজ অবশ্যই ম্যান্ডেটরি নিয়ে যেতে হবে। স্যান্ডেল নিয়ে যেতে পারেন, বাট এক্সপোজ এরিয়াতে মশারি রিপেলেন্ট ইউজ করতে হবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে আরকি।
তারেক নূরুল হাসান: তাহলে সব রকম প্রিপারেশন শেষ করে আপনি রওনা দিলেন অ্যামাজনের দিকে। আমাদেরকে সেই যাত্রার গল্পটা বলুন।
পাভেল সিদ্দিকী: টাইমটার কথা বলি আমি, যে কোন টাইম আসলে, এটা কিন্তু খুবই ইম্পর্টেন্ট একটা বিষয় যে আসলে আমরা ইয়ারের কোন টাইমটাতে ট্রাভেল করব ওখানে। তো, অ্যামাজন ফরেস্টে যে ব্যাপারটা সেটা হচ্ছে যে, জুন থেকে নভেম্বরে এটা হচ্ছে বেস্ট টাইম টু ভিজিট। তো, কারণটা কি? কারণটা হচ্ছে যে, যেহেতু ওখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, তো বৃষ্টিপাতের কারণে যে নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত এই টাইমটা, এই টাইমটা অনেক মানে হাই লেভেল অফ ওয়াটার থাকে, ফ্লাডেড। তো, কিরকম হাই ইয়া থাকে, ডিফারেন্স থাকে আমি বলি, যেটা হচ্ছে যে জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে আপনার ওয়াটার লেভেল যে পরিমাণ থাকে তার থেকে অ্যাট লিস্ট ফাইভ টু সিক্স মিটার ওয়াটার লেভেলটা বেশি থাকে আপনার রেস্ট অফ দ্যা ইয়েতে। তো, ওই সময়ে আসলে ডেফিনেটলি ডেফিনেটলি নট আ সুইটেবল টাইম টু ভিজিট। এই কারণে আমি অনেক আগে থেকে ব্যাপারটা নিয়ে রিসার্চ করেছি এবং চিন্তা করেছি কোন টাইমে গেলে সব থেকে ভালো হয়, মানে বেশিরভাগ টুরিস্ট ওখানে যায়। তো, আমি গিয়েছিলাম অক্টোবরের দিকে, অক্টোবরের প্রথমের দিকে আমার জার্নি ছিল এবং ওই সময়টা কোয়াইট কমফোর্টেবল জার্নি। কারণ, ট্রাভেল কস্টিং এর একটা ব্যাপার আছে যে, আগে থেকে যদি সিক্স মান্থ অ্যাডভান্স যদি আমি টিকিট কিনতে পারি সেক্ষেত্রে চ্যাপা পাবেন, অ্যাট লিস্ট ইউ ক্যান সেভ গুড ওয়ান থাউজেন্ড অস্ট্রেলিয়ান ডলার রিটার্ন টিকিট। ট্রাভেলের যে ব্যাপারটা, মেলবোর্ন থেকে যদি আমরা রওনা দেই তাহলে এখানে কয়েকটা ইয়ে আছে। যেমন হচ্ছে, অনেকে যায় ব্রাজিলে, গেলাম আমি। তো, মানে অ্যামাজন জঙ্গলের উদ্দেশ্যে গেলাম, ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের হয়তো আরও দুই একটা সিটি ইন ব্রাজিল হয়তো ভিজিট করার ইয়ে থাকে, যেটা হচ্ছে দে আর ভেরি ক্লোজ, লাইক এক ঘন্টা ফ্লাইট। সান পলো যেটা হচ্ছে সিটি ইন ব্রাজিল, সান পলো হয়ে কিন্তু ম্যানাউস সিটি হচ্ছে অ্যামাজন ফরেস্ট, ওখানে যেতে হবে। তো, সান পলো থেকে ম্যানাউস হয়তো এক ঘন্টার ফ্লাইট। এখান থেকে সান পলো যাওয়ার জন্য কয়েকটা রুট আছে। যেমন সান্টিয়াগো হয়ে যাওয়া যায়, সান ফ্রান্সিসকো হয়ে যাওয়া যায়। তো, হয়তো অনেকের ইয়া থাকে যে না, আমি ঠিক আছে, আমি সান ফ্রান্সিসকো হয়তো ইউএসটা কাভার করলাম, হয়তো একটা দুইটা সিটি, দেন আমি ওখানে গেলাম, দুই একদিন এখানে চিল আউট করলাম। তো, সেক্ষেত্রে করতে পারে। সান পলোতে যাওয়ার পরে ওখানে যে লোকাল ফ্লাইটগুলো আছে সেখানে কিন্তু আপনি বড় লাগেজ ক্যারি করতে পারবেন না। তো, লাগেজগুলো লাগবে ছোট লাগেজ। তো, ওখানে যেটা হয় যে, আপনি কোন লকারে লাগেজ রাখতে পারেন, মেইন লাগেজটা। হয়তো হ্যান্ড লাগেজে যে জিনিসপত্র লাগবে ওটা নিয়ে আপনি ম্যানাউস সিটিতে গেলেন। আমরা হোটেলে রাখছিলাম, ওখানে হোটেলে ছিলাম আমরা থাকার পরে। ওখানে হোটেলে লাগেজ ওদের কাছে রাখছি, দে হ্যাপি টু কিপ ইট উইথ এ স্মল মানি। ওটা হচ্ছে লকার থেকে অনেক চ্যাপা পড়ে। তারপর আমরা হ্যান্ড লাগেজ নিয়ে আমরা সান পলো থেকে ম্যানাউসে গেলাম। ম্যানাউসে হোটেলে চেক ইন করার পরে আমরা প্ল্যান করলাম যে, কিভাবে যাওয়া যায়। আমরা কিন্তু ইন অ্যাডভান্স, আমি কিন্তু কোন কিছু বুক করি নাই। কারণ হচ্ছে যে, আমি যদি অনলাইনে বুক করি আমার কস্টিং কিন্তু অনেক বেড়ে যায়। তো, সব থেকে বেস্ট হচ্ছে যে লোকাল যে ট্রাভেলার যারা এই এজেন্সিগুলো আছে, লোকালে গিয়ে যদি আপনি ওদেরকে ওখান থেকে আপনি বুক করতে পারেন, এক্ষেত্রে আপনি অ্যাট লিস্ট ইউ ক্যান সেভ আপ টু থার্টি ফাইভ টু ফরটি পার্সেন্ট অফ ইওর বাজেট।
END OF TRANSCRIPT