গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- 'তাসের ঘর' ছবিতে মূলত একজন শিল্পী (স্বস্তিকা মুখার্জী) অভিনয় করেছেন
- ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিতভাবেই সিনেমা নির্মাতাদের আজকের এই সময়ে বাঁচিয়ে রেখেছে
- মানুষের মুখের কথায় বা 'ওয়ার্ডস অফ মাউথে'ও দর্শকরা ছবি দেখতে উৎসাহিত হতে পারে
'তাসের ঘরে'র থীম সম্পর্কে নির্মাতা সুদীপ্ত রায় বলেন 'মডার্ন স্ল্যাভারি' (আধুনিক যুগের দাসত্ব) এ যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে করোনা প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে। আমাদের সমাজে অনেকেই বিনা প্রতিবাদে এই অদ্ভুদ দাসত্ব মেনে নিয়েছেন।
"তারা প্রধানত মহিলা, আমাদের মা-বোন, মাসি-পিসি, স্ত্রী।... তারা ধরেই নিয়েছেন এটাই আমার জীবন, সেটা থেকেই মুক্তির একমাত্র উপায় পারিবারিক সহিষ্ণুতা, এরকমই একটি বিষয়ই এই ছবির গল্প।"
এই কাহিনীর মূল চরিত্র সম্পর্কে মিঃ রায় বলেন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার একজন নারী যার নাম সুজাতা, তাকেই ঘিরেই আবর্তিত হয় এর গল্প।

গল্পটি লিখেছেন শাহানা দত্ত, গল্পটি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে পড়ে মনে হয়েছিলো এর মধ্যে এমন কিছু বিষয় আছে যা সহজেই আমরা এড়িয়ে যাই, যা আমাদের তীব্রভাবে চোখে পড়ে লকডাউনের সময়ে।
"ঘরবন্দি সময়ের এই গল্পটি আমাকে নাড়া দেয়, তখন আমার মনে হয়েছিল এই ছবিটি দিয়ে আমরা অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছুতে পারব।"
'তাসের ঘর' ছবিতে মূলত একজন শিল্পী (স্বস্তিকা মুখার্জী) অভিনয় করেছেন। একক শিল্পীর ওপর নির্ভর করে সিনেমা নির্মাণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
মিঃ রায় বলেন, নিশ্চিতভাবেই তিনি এই ছবির শিল্পী স্বস্তিকা মুখার্জির দক্ষতার ওপর নির্ভর করেছেন। তবে গত জুলাই-অগাস্ট মাসে যখন ছবিটি নির্মিত হয়, তখন যেকোন ছবি বানানোই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
"একক শিল্পী নির্ভর ছবি ভারতবর্ষে এর আগে যে অনেক হয়েছে তা কিন্তু নয়, ...এটা নিতান্তই একটা নতুন অভিজ্ঞতা ছিল আমার জন্য। স্বস্তিকা মুখার্জী নিজেকে নিংড়ে দিয়ে এই ছবির চরিত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে আমার আলাদা করে কিছু বলার থাকে না।"
তবে কিছু 'আপেক্ষিক ঝুঁকির' কথা বলেন নির্মাতা সুদীপ্ত রায়, প্রথমত যে সময়ে (করোনা প্রাদুর্ভাব) ছবিটি নির্মিত হয়েছে, এবং দ্বিতীয়ত এর ন্যারেটিভ স্টাইল।
তিনি বলেন, এই ছবিতে কিছু মনোলোগ রয়েছে, যেখানে শিল্পী ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দর্শকদের সাথে কথাগুলো বলে।

"এই রকম একটা ট্রিটমেন্ট মানুষ কতটা গ্রহণ করবে, সেটা নিয়ে কিঞ্চিৎ সন্দেহ, বা তর্কাতর্কি মাঝে মধ্যেই হয়েছে। কিন্তু আমার এ বিষয়ে কোন সন্দেহ ছিল না যে সুজাতা চরিত্রে স্বস্তিকা ভীষণ ভালো করবে।"
অনলাইন ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যেটি 'ওভার দ্য টপ' বা ওটিটি নামে সুপরিচিত (যেমন নেটফ্লিক্স, হৈচৈ) তাতে টিভি সিরিজ বা সিনেমা প্রদর্শনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর আগেও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হৈচৈ এবং নেটফ্লিক্সে তার কিছু ছবি বা টিভি প্রদর্শিত হয়েছে।
মিঃ রায় বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিতভাবেই সিনেমা নির্মাতাদের আজকের এই সময়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। অনেক মানুষই কিন্তু ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোকে কেন্দ্র করে তাদের বাঁচার রসদ খুঁজে পেয়েছে, মানুষের অনিশ্চিত এই সময়ে এটি নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মগুলোর জন্য (কম বাজেটের স্বাধীন নির্মাতাদের ছবি) ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ভালো সুযোগ এনেছিল হয়তো, কিন্তু সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠিত বড় বাজেটের নির্মাতা বা প্রযোজকরা এখন ওটিটি'র জন্য ছবি বানাচ্ছেন।
"সেই দিক বিবেচনায় স্বাধীন নির্মাতারা কিছুটা অসমতার চ্যালেঞ্জে পড়লেও, সাধুবাদ জানাতে হয় যে ওটিটি প্ল্যাটফর্মটি নতুন নির্মাতাদের জন্য কিছু সুযোগ তৈরী করে দিচ্ছে," বলেন সুদীপ্ত রায়।

এসবিএস বাংলার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে মিঃ রায় বলেন, দর্শকরা বাংলা ছবির বিকাশে সহযোগিতা করতে পারেন, অন্যান্য ভাষার ছবির তুলনায় গত দু'তিন বছরে বাংলা ছবি পিছিয়ে পড়ছে।
"দর্শকরা যদি তাদের ভালোলাগা ছবিগুলো সম্পর্কে আরো পাঁচজনকে বলেন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে একটু-আধটু কথা বলেন, তাতে শুধু যে আমরা ইন্সপায়ার্ড হবো তাই শুধু নয়, মানুষের মুখের কথায় বা 'ওয়ার্ডস অফ মাউথে'ও দর্শকরা ছবি দেখতে উৎসাহিত হতে পারে।"
সুদীপ্ত রায়ের পুরো সাক্ষাৎকারটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
আরও দেখুন:











