Australia Explained: স্টাইলের গণ্ডি ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যেভাবে বিকশিত হচ্ছে ফার্স্ট নেশনস ফ্যাশন

AUSTRALIA EXPLAINED - INDIGENOUS FASHION

Back in Blak Runway 2025 Source: AFP / WILLIAM WEST

অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ডের এই পর্বে আমরা জানতে পারব ফার্স্ট নেশনস ফ্যাশন কীভাবে আলাদা, কীভাবে এটি পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত, এবং কীভাবে আমরা ফার্স্ট নেশনস ডিজাইনারদের সমর্থন করতে পারি।


গুরুত্বপূর্ণ দিক
  • অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগোষ্ঠী হাজার হাজার বছর ধরে পোশাক ও অলঙ্কার নকশা করে আসছেন—জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে এবং সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও গল্পকে উদ্‌যাপন করার মাধ্যমে।
  • বৈশ্বিক পরিসরে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করছেন ফার্স্ট নেশনস ডিজাইনাররা।
  • ফার্স্ট নেশনস ফ্যাশনে প্রায়ই ফার্স্ট নেশনস শিল্পীদের শিল্পকর্ম অন্তর্ভুক্ত থাকে—যেখানে শিল্পীদের যথাযথ স্বীকৃতি ও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।
  • ঐতিহ্যগত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে ফার্স্ট নেশনস ডিজাইনাররা টেকসই ফ্যাশন চর্চায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় কিছু দিন কাটালে খুব সহজেই চোখে পড়ে যে এখানকার মানুষদের পোশাকের ধরণ অনেক স্বচ্ছন্দ। সবখানেই চোখে পড়ে অ্যাকটিভওয়্যার, সার্ফ ব্র্যান্ড আর নিত্যদিনের আরামদায়ক পোশাক।

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ফ্যাশনের আরেকটি দিক রয়েছে যেটির কথা নবাগতরা এ দেশে এসে শুরুতে খুব একটা জানতে পারে না। অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ডিজাইনাররা হাজার বছর ধরে পোশাক ও অলঙ্কার তৈরি করে আসছেন—আর সেই সৃজনশীল ধারা আজও সমানভাবে জীবন্ত।

এটি নিয়মিত দেখা যায় র‍্যাম্পে, বৈশ্বিক ফ্যাশন প্রচারণায়, এবং দৈনন্দিন পোশাকে।

AUSTRALIA EXPLAINED—FIRST NATIONS FASHION
You can see Aboriginal and Torres Strait Islander fashion at national events like Australian Fashion Week. Credit: Rob Hookey/Getty Images

উপনিবেশ স্থাপনের আগে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠী তাদের জলবায়ু, পরিবেশ ও জীবনযাপনের উপযোগী পোশাক তৈরি করতেন।

মানুষের পরিধেয় পোশাক থেকেই জানা যেত যে তারা কোন জনগোষ্ঠীর, কোথা থেকে এসেছেন, এবং কীভাবে তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত।

আজও অনেক ফার্স্ট নেশনস ডিজাইনার ফ্যাশনকে এভাবেই দেখেন—যে এটি গল্প, সংস্কৃতি এবং ‘কান্ট্রি’-র প্রতি নিজের দায়িত্ববোধকে দৈনন্দিন জীবনে বহন করে আনে।দীর্ঘদিন ধরে অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ফ্যাশন মূলধারার গণমাধ্যমে খুব কমই দৃশ্যমান ছিল।

মিশন, স্কুল ও সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল; আর ফার্স্ট নেশনস জনগণ নিজেদের সম্প্রদায় ও আনুষ্ঠানিক আচার-অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পোশাকের ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছিলেন।

তবে গত এক দশকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

এই পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন ডাংগুটি ও আনাইওয়ান জনগোষ্ঠীর সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব ইয়াতু উইডারস হান্ট। তিনি অনলাইন কমিউনিটি Aus Indigenous Fashion-এর প্রতিষ্ঠাতা।

আজ ফার্স্ট নেশনস ডিজাইনার, মডেল ও শিল্পীরা অনেক বেশি দৃশ্যমান। তবে নিজেদের শর্তে।

হোয়াডজুক নুঙ্গার মডেল নাথান ম্যাকগুইয়ার হলে মব ইন ফ্যাশন -এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, “এটাই আসল বিষয়। আমাদের কমিউনিটির মানুষদের দৃশ্যমান হওয়া, আমাদের সৌন্দর্যকে এ দেশে স্বীকৃতি দেওয়া। আর জানেন, আসলে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল।”

Nathan McGuire.jpg
Whadjuk Noongar model and Mob in Fashion founder Nathan McGuire. Credit: Nathan McGuire

তাহলে কোন ব্যাপারটি ফার্স্ট নেশনস ফ্যাশনকে আলাদা করে?

অনেক ফার্স্ট নেশনস ব্র্যান্ড নিজেদেরকে ‘গল্পনির্ভর’ বা ‘কান্ট্রি’-র সঙ্গে সংযুক্ত বলে বর্ণনা করে।

এখানে ‘কান্ট্রি’ বলতে বোঝায় ভূমি, জল, আকাশ, সম্প্রদায় ও সংস্কৃতি।

এ ডিজাইনগুলো প্রায়ই নির্দিষ্ট স্থান, ভাষা বা সাংস্কৃতিক বিষয়বস্তুর সঙ্গে যুক্ত থাকে।

এ ধরণের প্রিন্টগুলো আসে ফার্স্ট নেশনস শিল্পীদের শিল্পকর্ম থেকে—যেখানে শিল্পীদের যথাযথ কৃতিত্ব ও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। অনেক ব্র্যান্ড ধীরগতিতে কাজ করে, ছোট আকারের সংগ্রহ প্রকাশ করে, যা টেকসই উৎপাদন ও গুণগত মান ধরে রাখে।

এই ধরনের কাজ করছেন ইয়োলঙ্উ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর লিয়ান্ড্রা গেকামাঙ্গু। তিনি রিসোর্ট পোশাক ব্র্যান্ড Liandra-এর মালিক।

তিনি বলেন, “আমরা সবসময় রঙ, সংস্কৃতি আর আনন্দকে সমর্থন করেছি। ফ্যাশনকে ব্যবহার করেছি এমন এক উন্মুক্ত আমন্ত্রণ হিসেবে, যাতে আমাদের সম্প্রদায়ের বাইরের মানুষও ব্র্যান্ডের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার পরিচয় ও সাংস্কৃতিক সূক্ষ্মতার বৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং তা উদ্‌যাপন করতে পারে। আমরা শুরু থেকেই নিজেদের কাস্টম প্রিন্ট তৈরি করেছি। একেবারে শুরু থেকেই আমি নিজেই আমাদের প্রিন্টগুলো এঁকেছি, এবং প্রতিটি সংগ্রহের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট থিম যুক্ত থাকে—যা সেই প্রিন্টগুলোর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।”

Yatu Widders Hunt.jpg
Yatu Widders Hunt, founder of online community Aus Indigenous Fashion. Credit: Yatu Widders Hunt

আপনি যদি এ পোশাকগুলোর ট্যাগ পড়েন বা ওয়েবসাইট দেখেন, তাহলে সেখানে ‘কান্ট্রি’ বা সম্প্রদায় নিয়ে কোনো একটি গল্প খুঁজে পাবেন।

ট্র্যাডিশনাল ফার্স্ট নেশনস পোশাকচর্চায় কেবল প্রয়োজনীয় উপকরণই ব্যবহার করা হতো এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রতি সম্মান দেখানো হতো।

বর্তমানে বহু ফার্স্ট নেশনস ব্র্যান্ড এই ধারণাগুলোকে আধুনিক ফ্যাশনে নিয়ে এসেছে। তারা উন্নত মানের উপকরণ বেছে নেয়, অপচয় কমায়, ব্যাপক পরিসরে গণউৎপাদন এড়িয়ে চলে এবং শিল্পী ও নির্মাতাদের সঙ্গে ন্যায্য সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ভোক্তাদের ক্ষেত্রে ফার্স্ট নেশনস ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করা একই সঙ্গে সংস্কৃতি ও পরিবেশকে সমর্থন করার একটি উপায়।

ফার্স্ট নেশনস ফ্যাশন বহু কর্মসংস্থান ও দক্ষতাও সৃষ্টি করে থাকে।

অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার মালিকানাধীন ব্র্যান্ডগুলো ডিজাইনার, মডেল, স্টাইলিস্ট, আলোকচিত্রী, প্যাটার্নমেকার ও প্রোডাকশন টিমের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করে।

লিয়ান্দ্রা তাঁর ব্র্যান্ডের মাধ্যমে দূরবর্তী ও আঞ্চলিক সম্প্রদায়গুলিকে শিল্পক্ষেত্রের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করেন।

যেসব সম্প্রদায় শিল্পক্ষেত্র থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে, তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ শক্তিশালী পেশাজীবন গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

ইয়াতু জানান যে তিনি খেয়াল করেছেন জাতীয় পর্যায়ে ফার্স্ট নেশনস ব্যবসাগুলো ইতোমধ্যেই অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

David Jones Indigenous Fashion Projects
David Jones Indigenous Fashion Projects show during Australian Fashion Week Source: Getty / Jason McCawley for AFW

আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় নতুন এসে থাকেন, তাহলে প্রশ্ন করতে পারেন: কীভাবে আমি সম্মানজনকভাবে ফার্স্ট নেশনস ফ্যাশনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি?

এখানে কয়েকটি সহজ পরামর্শ রয়েছে।

অনেক ফার্স্ট নেশনস ব্র্যান্ড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে কোনো ডিজাইন ‘অ্যালাই ফ্রেন্ডলি’ কি না—অর্থাৎ, যে কেউ তা পরতে পারেন।

কিছু পোশাক, সাধারণত আনুষ্ঠানিক বা বিশেষ সাংস্কৃতিক ভূমিকায় ব্যবহৃত, কেবল অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার মানুষের জন্য নির্ধারিত। এগুলো সাধারণত স্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকে।

অনেক ব্র্যান্ড শিল্পী, সম্প্রদায় ও ডিজাইনের পেছনের গল্প সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করে।

সেগুলোর ট্যাগে বা অনলাইনে খুঁজে দেখলেই তা পাওয়া যাবে।

ফ্যাশনকে নতুন অভিবাসীদের জন্য ফার্স্ট নেশনস সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক আনন্দময় উপায় হিসেবে দেখেন নাথান।

যারা এই সমর্থন শুরু করতে চান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফার্স্ট নেশনস ডিজাইনার ও মডেলদের অনুসরণ করার মাধ্যমে, অথবা কোনো ফার্স্ট নেশনস র‍্যাম্প শো বা প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তা করতে পারেন।

অথবা ফার্স্ট নেশনস মালিকানাধীন ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করতে পারেন, বিশেষ করে যেসব পণ্যে ‘অ্যালাই ফ্রেন্ডলি’ চিহ্ন রয়েছে।

এটি এমন এক উপায়, যার মাধ্যমে আমরা সবাই যে জিনিসটি ভাগ করে নিই—আমাদের পরিধেয় পোশাক—তার মাধ্যমে সংস্কৃতিকে অনুভব করা যায় এবং এই দেশের গভীরতর গল্পগুলো আরও ভালোভাবে জানা যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।

আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ?  australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।


Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now