মূল বিষয়
- অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়ালের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১,২০০ জন অ্যাবরিজিনাল পুরুষ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নাম লেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ৬,৫০০ জন।
- সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে অ্যাবরিজিনাল জনগণকে বহু বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
- সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য অনেকে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল নিজের পরিচয় গোপন করে চেষ্টা।
- দেশে ফিরে আসার পরও অ্যাবরিজিনাল ভেটেরানদের দৈনন্দিন জীবনে বৈষম্য এবং কঠোর আইনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
‘অ্যানজাক ডে’ অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় দিবস।
এই দিনে প্রতি বছর মানুষ একত্রিত হয় যুদ্ধ, সংঘাত এবং শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করার জন্য।
তবে অ্যানজাক ডে-র প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করা সময়সাপেক্ষ হতে পারে, বিশেষ করে আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় নতুন এসে থাকেন।
কাদের অবদান আমরা স্মরণ করছি — আর এমন কোনো গল্প কি আছে যা আমরা সাধারণত শুনতে পাই না?
অনেক অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার মানুষ অস্ট্রেলিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও অন্তর্ভুক্ত — এবং প্রায়ই তাদের এই দায়িত্ব পালন করতে হতো নন-ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ানদের পাশাপাশি, এমনকি যখন তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
বর্তমানে এই গল্পগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া ও স্মরণ করার জন্য ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
নগুনাওয়াল/গোমেরোই পুরুষ মাইকেল বেল এই কর্মকাণ্ডের একজন অংশীদার। অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়ালে ইন্ডিজেনাস লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে তিনি অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগণের সেবা ও ত্যাগকে চিহ্নিত ও স্বীকৃতি দিতে সহায়তা করেন — যারা ইউনিফর্ম পরে সেবা দিয়েছেন এবং যারা দেশের ভেতরে থেকে যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করেছেন, উভয়কেই।
এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি স্পষ্টতর চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে।
নতুন নথি আবিষ্কৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যাগুলো ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।
তবে একটি প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে —নন-ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ানদের তুলনায় ইন্ডিজেনাস অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা কতটা উল্লেখযোগ্য?

নতুন নথি আবিষ্কৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যাগুলো ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।
তবে একটি প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে —নন-ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ানদের তুলনায় ইন্ডিজেনাস অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা কতটা উল্লেখযোগ্য?
মাইকেল বেল বলেন, “আমরা পরিচিত জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনা করে অ্যাবরিজিনালদের নিয়োগের সংখ্যা পরিসংখ্যানগতভাবে বিশ্লেষণ করেছি, এবং দেখা গেছে নন-ইন্ডিজেনাসদের নিয়োগের হার অন্যদের মতই।“
অর্থাৎ,
উল্লেখযোগ্য বাধার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, অ্যাবরিজিনালরা প্রায় একই হারে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
তাহলে সেই বাধাগুলো কী ছিল?
মাইকেল বেল বলেন, তখন বিভিন্ন স্তরে বিধিনিষেধ ছিল।
অ্যাবরিজিনাল মানুষের দেশজুড়ে চলাচলের ওপর সীমাবদ্ধতা ছিল।
তাদের পূর্ণাঙ্গ অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো না — এবং কিছু ক্ষেত্রে আইনের চোখেও মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো না।
এছাড়া সামরিক নীতিমালায় ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত নন এমন ব্যক্তিদের প্রায়ই বাদ দেওয়া হতো।
সব মিলিয়ে, সামরিক সেবা দিতে ইচ্ছুকদের জন্য বড় বাধা তৈরি হয়েছিল।
তবে এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।

এধরনের ঘটনাগুলো দৃঢ়তা, সহনশীলতা এবং দেশের সেবা করার গভীর আকাঙ্ক্ষার পরিচয় দেয় — এমনকি সেই দেশের জন্য, যেটি তাদের সমান অধিকার দেয়নি।
কিন্তু এই সৈনিকরা দেশে ফিরে এলে কী ঘটেছিল?
যুদ্ধের সমাপ্তি অনেক অ্যাবরিজিনাল ভেটেরানের জন্য সমতার সূচনা ছিল না।
তারা এমন একটি সমাজে ফিরে আসেন, যেখানে বৈষম্য এবং কঠোর আইন তখনও দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল।
অ্যাবরিজিনাল ভেটেরানদের কিছু অংশ সুবিধা পেয়েছিলেন, কিন্তু অনেকেই পাননি, কারণ ব্যাপক সামাজিক ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের সহায়তা পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এমনকি অন্যান্য ভেটেরানদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন ছিল তাদের জন্য।
ফিরে আসা সৈনিকদের প্রায়ই RSL ক্লাবে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হতো — যা ভেটেরানদের সহায়তা করে এবং ANZAC দিবসের মতো অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
কিন্তু এই ক্লাবগুলোর অনেকগুলো ছিল লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থান, যেখানে অ্যালকোহল পরিবেশন করা হতো।
অ্যাবরিজিনাল মানুষদের এসব স্থানে প্রবেশে প্রায়ই নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা কার্যত কোনো সহায়তা ও সামাজিক সংযোগ — উভয় থেকেই বঞ্চিত হতেন।
বর্তমানে এই ইতিহাসের স্বীকৃতি বাড়ছে।
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়াল অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডারদের সামরিক ক্ষেত্রে অবদানের ইতিহাস খুঁজে বের করা ও সকলকে তা জানানোর ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
মি. বেল আরও বলেন, “আমাদের গল্পগুলো সব গ্যালারিতে সমানভাবে এবং অনুপাতে তুলে ধরা হয়। সব অবদান, সব গ্যালারি, সব গল্প এবং সব উপস্থাপনায় আদিবাসী বিষয়বস্তু রয়েছে। “
এই দৃষ্টিভঙ্গি এটাই প্রতিফলিত করে যে অনেক অ্যাবরিজিনাল সৈনিক নিজেদের দেখতেন — প্রথমে একজন সৈনিক হিসেবে, অন্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রস্তুত।
সেই সঙ্গে বহুদিন আড়ালে থাকা গল্পগুলো এখন পুনরায় আবিষ্কৃত হচ্ছে এবং পরিবার ও কমিউনিটির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।
অনেক পরিবারের জন্য এই মুহূর্তগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী হতে পারে — যা ইতিহাস, পরিচয় এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনঃসংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।
তাহলে এই অ্যানজাক ডে-তে — বিশেষ করে যদি আপনি অস্ট্রেলিয়ায় নতুন হন — তাহলে আপনার কী মনে রাখা উচিত?

অ্যানজাক ডে হলো যুদ্ধ ও সংঘাতে অংশ নেওয়া মানুষদের স্মরণ করার সময়, এবং অনেক অস্ট্রেলিয়ানের জন্য এটি ইতিহাসকে সম্মান জানাতে একত্রিত হওয়ার মুহূর্ত।
অ্যানজাক ডে-কে বোঝা মানে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ ইতিহাসকে বোঝা।
এর মধ্যে রয়েছে অ্যাবরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগণের অবদান এবং তারা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, তার স্বীকৃতি দেওয়া।
এই গল্পগুলো যত বেশি ছড়িয়ে পড়ছে, ততই তারা অস্ট্রেলিয়ার অতীত এবং বর্তমানের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে সহায়তা করছে।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।








