মূল বিষয়
- অস্ট্রেলিয়ার ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠীর মানুষেরা এখনও প্রায় ১০০টিরও বেশি ভাষায় কথা বলে।
- এর ভেতরে অনেক ভাষাই চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- সর্বশেষ ন্যাশনাল ইন্ডিজেনাস ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভে জানিয়েছে যে ৩১টি সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করছে।
ভাষা সাধারণত কোনো স্থান ও সেখানকার মানুষের জন্য নির্দিষ্ট—বলা হয় ভূমি ভাষার জন্ম দেয়।
অ্যাবোরিজিনাল ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রাস্টের ডেপুটি চেয়ার ক্যাথি ট্রিন্ডাল বলেন, ভাষা তার পরিচয়ের একটি অংশ।
২০২১ সালের অস্ট্রেলিয়ান সেনসাস অনুসারে ৭৭ হাজার ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠীর মানুষ বর্তমানে একটি অ্যাবঅরিজিনাল বা টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ভাষায় কথা বলে।
ইউরোপীয় বসতি স্থাপনের আগে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে শত শত ভাষা এবং উপভাষা ব্যবহার করত স্থানীয় মানুষেরা।
কিন্তু ঠিক কতটি ভাষায় তখন কথা বলা হতো?

জন গিবস বলেন, এর উত্তর দেওয়ার কয়েকটি উপায় রয়েছে। তিনি ওয়েস্টার্ন নিউ সাউথ ওয়েলসের একজন গর্বিত উইরাজুরি পুরুষ এবং অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাবঅরিজিনাল অ্যান্ড টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার স্টাডিজ বা AIATSIS -এর রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর।
ইউরোপীয় বসতি স্থাপনের পরে এই সংখ্যাটি দ্রুত হ্রাস পেয়েছিল।
AIATSIS ন্যাশনাল ইন্ডিজেনাস ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভে পরিচালনা করে।
২০১৯ সালের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১২৩টি ইন্ডিজেনাস ভাষা বর্তমানে ব্যবহৃত বা পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে।
লিওনোরা আদিদি টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডের একজন ভাষাবিদ এবং দোভাষী/অনুবাদক। টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডের লোকেরা স্বতন্ত্র একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, তারা অ্যাবঅরিজিনাল মানুষদের থেকে আলাদা । এমনকি এই গোষ্ঠীর মধ্যেও তারা প্রায় ছয়টি ডায়ালেক্টসহ দুটি স্বতন্ত্র ভাষায় কথা বলে।

টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ড ক্রেওল - যা সাধারণ অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজি এবং ট্র্যাডিশনাল ভাষার মিশ্রণ, এটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক একটি কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ। অস্ট্রেলিয়ান পরিসংখ্যান ব্যুরো বা এবিএস এর মতে, এটি এখন সর্বাধিক কথিত ফার্স্ট নেশনস ভাষা।
অস্ট্রেলিয়া এবং টরে স্ট্রেইট জুড়ে বেশিরভাগ সক্রিয় ভাষা কেবল এল্ডারদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। একশটি ভাষা বিপন্ন হিসাবে বিবেচিত এবং কেবল ১২ টি ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে শেখে শিশুরা।
ইউরোপীয় বসতি স্থাপনের সময়ে তৎকালীন আত্তীকরণবাদী নীতি এবং শিশুদের তাদের পরিবার ও সম্প্রদায় থেকে জোরপূর্বক অপসারণের কারণে এই ভাষাগুলি প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল।
মানুষকে তার নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, তবে কিছু ভাষা গোপনে ব্যবহৃত হতো এবং গোপনেই তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।
এ ধরনের কিছু ভাষার জন্যে মি. গিবস ‘হারানো’ বা ‘বিলুপ্ত’ শব্দের পরিবর্তে, সেগুলো ‘ঘুমিয়ে আছে’ বলতে পছন্দ করেন।

অনেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রমবর্ধমানভাবে ফার্স্ট নেশনস ভাষাগুলিকে পুনরুজ্জীবিত ও লালন করার গুরুত্বের প্রশংসা করছেন। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন স্থানের নাম হিসাবে এখন আরও বেশি করে ব্যবহৃত হচ্ছে স্থানীয় ও পুরনো নাম।
কিন্তু ফার্স্ট নেশনস ভাষাগুলি পুনরুজ্জীবনের কাজ বেশ জটিল। লিওনোরা আদিদি বলেন, কিছু ভাষা সমৃদ্ধ হচ্ছে ঠিকই তবে অন্যগুলো ব্যবহার করছে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ। ভাষার বৈচিত্র্য আংশিকভাবে এর পেছনে কাজ করছে।

AIATIS বিশেষত শুরুর দিকের ইউরোপীয় এক্সপ্লোরারদের কাছ থেকে পাওয়া অনেক পাণ্ডুলিপি, জার্নাল এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল রেকর্ডিং সংরক্ষিত রাখে। এই অভিযাত্রীদের অ্যাবঅরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার সাথে জনগোষ্ঠীর সাক্ষাৎ হয়েছিল।
এই উপাদানগুলো ফার্স্ট ভাষাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করার জন্য কমিউনিটি ওয়ার্কশপে ব্যবহৃত হয়।
AIATIS ২০ টিরও বেশি ভাষায় অভিধান প্রকাশের জন্য অর্থায়ন করেছে।
কিন্তু ভাষার পুনঃজাগরণ বলতে এটি শুধু বইয়ের শব্দ হিসেবে থাকবে এমনটা নয়। এর উন্নতি করতে হলে এই ভাষায় তরুণদের কথা বলতে হবে।
ক্যাথি ট্রিন্ডাল রোমাঞ্চিত যে তার নাতি সম্প্রতি খোলা গুমবেনি গিনানা ফ্রিডম স্কুলে যোগ দেবে—যেটি নিউ সাউথ ওয়েলসে খোলা প্রথম ইন্ডিজেনাস দ্বিভাষিক স্কুল।

ফার্স্ট ভাষাগুলির সমর্থন এবং পুনরুজ্জীবনের জন্য সে-ভাষায় দক্ষ অনুবাদক এবং দোভাষী থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
লাভিনিয়া হেফারনান একজন পিনটাপি-লুরিচা অনুবাদক এবং দোভাষী যিনি NAATI বা ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিশন অথরিটি ফর ট্রান্সলেটরস অ্যান্ড ইন্টারপ্রেটরস এর ইন্ডিজেনাস ইন্টারপ্রেটিং প্রজেক্টে কাজ করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজগুলো আবার জেগে উঠছে।
২০১৭ সালে ফার্স্ট নেশনস ভাষাগুলো রক্ষার জন্য প্রথম আইন পাস করা হয়। দ্য অ্যাবঅরিজিনাল ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাক্ট ভাষাগুলিকে নিউ সাউথ ওয়েলসের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠী এই ভাষাগুলির রক্ষক বা কাস্টডিয়ান।
নিজেদের ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে কমিউনিটিতে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে জানান মি. গিবস।
ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ সংরক্ষণে তার মতো ভাষা নিয়ে কাজ করা পেশাদারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রয়েছে বলে মত দেন মিজ হেফারনান।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।







