অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ডের এই পর্বে আমরা পেট্রোলে কেনার অর্থ সাশ্রয়ের সহজ ও বাস্তবসম্মত উপায়গুলো দেখব এবং এছাড়া শুনব কীভাবে অস্ট্রেলিয়ানরা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।
অনেক মানুষের জন্য পেশাগত কাজ ও পরিবারের দায়িত্বে ভারসাম্য রাখতে গাড়ি চালানো দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
কিন্তু জ্বালানির দাম বাড়ার সাথে সাথে কিছু চালক তাদের অভ্যাস নতুন করে ভাবছেন।
মাঞ্জিল তামরাকার সপ্তাহে তিন দিন মেলবোর্ন ও জিলংয়ের মধ্যে প্রায় ৭০ কিলোমিটার যাতায়াত করেন।
কিছু দিন আগে পর্যন্তও তিনি কখনও কখনও গাড়ি ব্যবহার করতেন, কিন্তু এখন তিনি বেশিরভাগ সময় গণপরিবহন ব্যবহার করেন।
যদিও ট্রেনে যাতায়াতে সময় বেশি লাগে, কিন্তু এতে তিনি টাকা সাশ্রয় করতে পারছেন।
আগে যে পরিমাণ টাকা তিনি দুই সপ্তাহে খরচ করতেন, এখন তা দিয়ে মাত্র এক সপ্তাহ গাড়ি চালিয়ে কাজে যেতে পারেন।
এই অতিরিক্ত খরচ তার সঞ্চয়ে প্রভাব ফেলছে।
মাঞ্জিলের অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার অনেক মানুষের অনুভূতির প্রতিফলন।
২০২৬ সালের মার্চে ন্যাশনাল রোডস এন্ড মোটারিস্টস এসোসিয়েশন (National Roads and Motorists’ Association - NRMA)-এর একটি জরিপে দেখা যায়, অর্ধেকেরও বেশি অস্ট্রেলিয়ান চালক তাদের গাড়ি চালানো কমিয়েছেন।
কেউ বেশি করে গণপরিবহন ব্যবহার করছেন, আবার কেউ জ্বালানি বাঁচাতে একসঙ্গে একাধিক কাজের জন্য যাতায়াত করছেন।
এনআরএমএ-এর পিটার খৌরি বলেন, জ্বালানির দাম কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু সময় লাগবে।
এদিকে, ছোট ছোট পরিবর্তনও বড় পার্থক্য আনতে পারে।
খরচ কমাতে অস্ট্রেলিয়ান সরকার সাময়িকভাবে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর অর্ধেক করেছে। এই ব্যবস্থা ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন গাড়ি চালানোর অভ্যাস পরিবর্তনও জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ছোট ছোট আলাদা যাত্রার বদলে একসঙ্গে একাধিক কাজ সেরে ফেললে জ্বালানি বাঁচে।
গাড়ির টায়ারে সঠিক বাতাস রাখলে জ্বালানি খরচ প্রায় পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
এবং আপনার গাড়ি চালানোর গতিও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটারের বদলে ৯০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালালে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
পিটার খৌরি আরও কিছু সহজ অভ্যাসের কথা মনে করিয়ে দেন।
যেমন, লিড ফুট (lead foot) করা থেকে বিরত থাকা, যা বলতে খুব দ্রুত গাড়ির গতি বাড়ানো বোঝায় এবং এই প্রবণতা বেশি জ্বালানি খরচ করে।
এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো একসঙ্গে বড় সাশ্রয়ে পরিণত হতে পারে।
আরেকটি সহজ উপায় হলো জ্বালানি নেওয়ার আগে বিভিন্ন স্টেশনের দাম তুলনা করা।
ভোক্তা সংগঠন চয়েস (CHOICE)-এর লিয়াম কেনেডি বলেন, অনেক চালক বুঝতে পারেন না যে বিভিন্ন পেট্রোল স্টেশনে দামের কতটা পার্থক্য হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি স্টেট ও টেরিটোরিতে এমন অ্যাপ বা ওয়েবসাইট রয়েছে যা আপনাকে কাছাকাছি সবচেয়ে সস্তা জ্বালানি খুঁজে পেতে সাহায্য করে। নিউ সাউথ ওয়েলসে সরকার পরিচালিত ফিউল চেক (FuelCheck) নামে একটি অ্যাপ রয়েছে, আর ভিক্টোরিয়ায় একই ধরনের সার্ভো সেভার (Servo Saver) অ্যাপ রয়েছে।
এই টুলগুলো ব্যবহার করলে খুব কম পরিশ্রমেই আপনি টাকা সাশ্রয় করতে পারেন।
যাদের বাজেট সীমিত, যেমন শিক্ষার্থী, পরিবার, বা যারা বিদেশে টাকা পাঠান, তাদের জন্য জ্বালানিতে সামান্য সাশ্রয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মাঞ্জিলের জন্য গণপরিবহনে যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক না হলেও এটি তাকে বাড়তি খরচ সামলাতে সাহায্য করছে।
এবং অনেক অস্ট্রেলিয়ানের জন্য এখন সময় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
জ্বালানির দাম এখনও অনিশ্চিত থাকায়, যেখানে সম্ভব কম পেট্রোল ব্যবহার করাই হতে পারে আপনার টাকা বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি।
অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ সামলানোর আরও বাস্তব টিপস পেতে এসবিএস অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইনড (SBS Australia Explained) ওয়েবসাইটে দেখুন অথবা যেখানে আপনি পডকাস্ট শোনেন সেখানে আমাদের অনুসরণ করুন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
এই লিঙ্কে ক্লিক করে নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
Read more about SBS’s use of AI









