গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- বিচ্ছেদের পরে এককভাবে পিতামাতাদের কেউই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্তানের যত্ন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী হন না।
- পিতামাতার দায়িত্ব সমান ভাগ করা মানে তাদের উভয়েরই সন্তানের জন্য আর্থিক খরচ বহন করতে হবে।
- বিচ্ছেদের পর একটি প্যারেন্টিং পরিকল্পনায় সন্তানের জন্য আর্থিক খরচের ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি চুক্তি থাকতে পারে।
- যখন পিতামাতা কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন না, তখন ফ্যামিলি ল এক্ট (পারিবারিক আইন) অনুযায়ী কোন পারিবারিক আদালত সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থের উপর ভিত্তি করে একটি সিদ্ধান্ত নেবে এবং শিশুর ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত আদালতের আদেশ কার্যকর থাকবে।
ফ্যামিলি ল এক্ট বিবাহিত, ডি ফ্যাক্টো, বা সমকামী পিতামাতাদের পাশাপাশি দাদা-দাদি বা নানা-নানীদের মতো কেয়ারারদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
আইনটি এটি নিশ্চিত করে যে একটি পরিবারের মধ্যে পিতামাতার ভূমিকা সম্পর্কে কোনও অনুমান না করে উভয় পিতামাতার সাথে সন্তানদের অর্থপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অধিকার রয়েছে৷
অতএব, বিচ্ছেদের পরে এককভাবে পিতামাতাদের কেউই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্তানের যত্ন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী হন না।
বার্নাডেট গ্র্যান্ডিনেটি ভিক্টোরিয়া লিগ্যাল এইডের ভারপ্রাপ্ত প্রোগ্রাম ম্যানেজার।
ফ্যামিলি ল এক্ট (পারিবারিক আইন)-এর অধীনে সমানভাবে পিতামাতাদের দায়িত্ব রয়েছে, যার মধ্যে আছে শিশুদের ভবিষ্যৎ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেওয়া।বার্নাডেট গ্র্যান্ডিনেটি, ভিক্টোরিয়া লিগ্যাল এইডের ভারপ্রাপ্ত প্রোগ্রাম ম্যানেজার
তিনি ব্যাখ্যা করেন কিভাবে আইনের অধীনে পিতামাতার দায়িত্ব ভাগ করা হয়।
তিনি বলেন, "ফ্যামিলি ল এক্ট (পারিবারিক আইন)-এর অধীনে সমানভাবে পিতামাতাদের দায়িত্ব রয়েছে, যার মধ্যে আছে শিশুদের ভবিষ্যৎ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেওয়া।"
তবে, এটাও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে শুধুমাত্র আদালতই একজন পিতা বা মাতাকে তাদের সন্তানদের সাথে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারে, যেমন পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে।
পিতামাতার দায়িত্ব সমান ভাগ করা মানে তাদের উভয়েরই সন্তানের জন্য আর্থিক খরচ বহন করতে হবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে একজন শিশুকে প্রত্যেক পিতামাতার সাথে সমানভাবে সময় কাটাতে হবে।
এক্ষেত্রে মিজ গ্র্যান্ডিনেটি ব্যাখ্যা করেন যে, কোন ব্যবস্থাটি সবচেয়ে উপযুক্ত তা একসঙ্গে অভিভাবকদের নির্ধারণ করা উচিত।

'প্যারেন্টিং প্ল্যান' বা 'সন্তান পালনের পরিকল্পনা'
তিনি বলেন,"বিচ্ছেদের পর অনেক বাবা-মা নিজেদের মধ্যে অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা করতে চুক্তিতে পৌঁছান যা একটি অনানুষ্ঠানিক, মৌখিক চুক্তি বা লিখিত চুক্তিও হতে পারে যাকে 'প্যারেন্টিং প্ল্যান' বা 'সন্তান পালনের পরিকল্পনা' বলি।"
প্যারেন্টিং পরিকল্পনায় সন্তানের জন্য আর্থিক খরচের ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি চুক্তি থাকতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরির উইমেন্স লিগ্যাল সার্ভিসের একজন সিনিয়র সলিসিটর শিরিন ফাঘনির মতে, প্যারেন্টিং পরিকল্পনাগুলি একটি নির্ধারিত বিন্যাস অনুসরণ করে না৷
তিনি বলেন, "মূলত, দুজন বাবা-মা বসেন এবং তাদের সন্তানদের জন্য তাদের অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা কী হবে তা লিখেন। উদাহরণস্বরূপ, শিশুরা কোন কোন দিনগুলিতে মা এবং কোন কোন দিনগুলিতে বাবার সাথে থাকবে তা ঠিক করা৷ এবং আপনি সন্তানদের বিষয়ে পিতামাতা হিসাবে একে অপরের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করবেন সে সম্পর্কে আপনার কিছু নির্দেশিকা থাকতে পারে।"
প্যারেন্টিং প্ল্যানের উদ্দেশ্য হল বিচ্ছেদের পর দ্বন্দ্ব কমানো, বিশেষ করে যখন বাবা-মায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিতে পারে। তবে, প্যারেন্টিং পরিকল্পনা আইনত কোন বাধ্যতামূলক বিষয় নয়।
তিনি বলেন, "যদি কোন বাবা বা মা প্যারেন্টিং প্ল্যান অনুসরণ করা বন্ধ করে দেয় তাহলে তাকে আদালতে নিয়ে যেতে পারবেন না। প্যারেন্টিং প্ল্যানের ক্ষেত্রে, বাচ্চাদের বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের চাহিদার বিবেচনায় আপনি সেগুলি পরিবর্তন করতে পারেন।
কিন্তু আপনি যদি প্যারেন্টিং প্ল্যানকে আইনত বাধ্যতামূলক করতে চান, তাহলে প্যারেন্টিং কনসেন্ট অর্ডারের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সার্কিট অ্যান্ড ফ্যামিলি কোর্টে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।

পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি
যদি পিতামাতা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম না হন, তাহলে পরবর্তী ধাপে সাধারণত পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।
বার্নাডেট গ্র্যান্ডিনেত্তি বলেন, "অনেক ক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যক্তি বা একজন মধ্যস্থতাকারীরও সাহায্য নেয়া যেতে পারে।"
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সার্কিট অ্যান্ড ফ্যামিলি কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল রেজিস্ট্রার অ্যান-মেরি রাইস বলেছেন যে বেশিরভাগ বিবাহ-বিচ্ছেদে থাকা বাবা-মা আদালতের আশ্রয় না নিয়েই একটি চুক্তি করে।
রেজিস্ট্রার রাইস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, অভিভাবকদের যত দ্রুত সম্ভব এবং সাশ্রয়ীভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সহায়তা করার জন্য আদালতের একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, এই বিকল্প কাম্য নয়।
তিনি বলেন, "আমি মনে করি যারা পারিবারিক আইন ব্যবস্থায় কাজ করে তারা প্রত্যেকেই বলবে যে আদালত হলো একটি শেষ অবলম্বনের জায়গা। কিন্তু কেউ যদি কোন একটি শিশুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করতে চান তাকে অবশ্যই প্রথমে অন্য অভিভাবকের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো উচিৎ, যদি না এটি জরুরী এবং উচ্চ ঝুঁকির হয়। এর মানে হল যে তাদের অবশ্যই কোন নিবন্ধিত ফ্যামিলি ডিসপিউট রেজুলুশন প্র্যাক্টিশনারদের মধ্যস্থতা গ্রহণ করতে হবে এবং কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এটি নিশ্চিত করতে পরিবারকে একটি সার্টিফিকেট পেতে হবে।"

ফ্যামিলি ডিসপিউট রেজুলুশন প্র্যাক্টিশনার (এফডিআরপি) হল একজন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী যিনি বিবাদে থাকা পরিবারের সাথে কাজ করেন।
ফ্যামিলি রিলেশনশীপ সেন্টারের ওয়েবসাইটে আপনি তাদের অবস্থান এবং ফি সহ একটি তালিকা পেতে পারেন। তাছাড়া, প্রাইভেট মধ্যস্থতাকারীরা সাধারণত উচ্চ ফি দিয়ে এই পরিষেবাটি দিয়ে থাকে।
ফ্যামিলি কোর্ট আপনাকে আদালতকে জড়িত না করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সহায়তা করার জন্য অনলাইন রিসোর্স সরবরাহ করে। এছাড়াও আপনি লিগাল এইড পরিষেবাগুলির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বা সহায়তার জন্য ফ্যামিলি রিলেশনশীপ ওয়েবসাইট অনলাইনে দেখতে পারেন৷
রেজিস্ট্রার রাইস বলেছেন, ফ্যামিলি ডিসপিউট রেজুলুশনে উপস্থিত থাকলে আইনজীবীর প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, "যে কোন পারিবারিক সহিংসতা সহ ঝুঁকি সম্পর্কে আপনার উদ্বেগ থাকলে আলোচনার আগে আপনার সাথে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করা হবে। পারে। ফ্যামিলি ডিসপিউট রেজুলুশন প্র্যাক্টিশনারদের দায়িত্ত্ব আলোচনা নিরাপদ এবং উপযুক্ত কীনা তা নিশ্চিত করা। এবং যদি সেটা না হয়, তাহলে একজন ব্যক্তি আদালতে আবেদন করতে পারেন।"
তাছাড়া, আপনি যদি বিচ্ছেদ হওয়া অন্য অভিভাবকের কাছ থেকে ফ্যামিলি ডিসপিউট রেজুলুশনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পান, তবে এটি সাবধানে বিবেচনা করুন এবং আপনার যদি প্রশ্ন থাকে তাহলে আইনি পরামর্শ নিন।
আপনি যদি উপস্থিত না হন, তাহলে আপনার বক্তব্য ছাড়াই একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
পারিবারিক আদালত
যখন পিতামাতা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন না, তখন ফ্যামিলি ল এক্ট (পারিবারিক আইন) অনুযায়ী কোন পারিবারিক আদালত সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থের উপর ভিত্তি করে একটি সিদ্ধান্ত নেবে। শিশুর ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত আদালতের আদেশ কার্যকর থাকবে।
আদালতের আদেশ হল একটি আনুষ্ঠানিক, লিখিত নথি যা শিশুদের জন্য আর্থিক বা অন্যান্য ব্যবস্থা কী হবে তা নির্ধারণ করে৷ আদেশে বর্ণিত জিনিসগুলি সমস্ত পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। এর মানে যদি একজন পিতামাতা আদেশে যা আছে তা না করেন (উদাহরণস্বরূপ, নির্ধারিত সময়ে কোন শিশুকে অন্য পিতা বা মাতার কাছে নিয়ে যাওয়া) তাহলে আদালত আদেশ কার্যকর করতে পারে এবং আদেশ লঙ্ঘন মোকাবেলা করতে পারে।অ্যান-মেরি রাইস , অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সার্কিট অ্যান্ড ফ্যামিলি কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল রেজিস্ট্রার
তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আদালতের আদেশের নির্দিষ্ট বিষয়গুলো অবস্থাভেদে পরিবর্তিত হয়।
রেজিস্ট্রার রাইস বলেন, "আদালতের আদেশ হল একটি আনুষ্ঠানিক, লিখিত নথি যা শিশুদের জন্য আর্থিক বা অন্যান্য ব্যবস্থা কী হবে তা নির্ধারণ করে৷ আদেশে বর্ণিত জিনিসগুলি সমস্ত পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। এর মানে যদি একজন পিতামাতা আদেশে যা আছে তা না করেন (উদাহরণস্বরূপ, নির্ধারিত সময়ে কোন শিশুকে অন্য পিতা বা মাতার কাছে নিয়ে যাওয়া) তাহলে আদালত আদেশ কার্যকর করতে পারে এবং আদেশ লঙ্ঘন মোকাবেলা করতে পারে।"
আদালত আদেশগুলিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করলে তার উল্লেখযোগ্য পরিণতি হতে পারে।
আদালতের সামনে আপনার মামলা উপস্থাপন করার জন্য, বেশ কয়েকটি লিখিত নথি দাখিল করতে হবে এবং শিশুদের জন্য কী ঝুঁকি আছে তা চিহ্নিত করতে হবে। আদালতের ওয়েবসাইট থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশনের একটি তালিকা দেখে নিতে পারেন।
অনুবাদ পরিষেবাসহ ওয়েবসাইটটিতে ভিডিও আছে বিষয়গুলো বোঝার জন্য।

সন্তানকে নিয়ে দেশের বাইরে বা অন্য কোন স্টেটে যাওয়া
মিজ ফাঘনি বলেন, যখন আপনার সন্তানকে নিয়ে দেশের বাইরে বা অন্য কোন স্টেটে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন অন্য অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন যদি না আপনি আদালতের আদেশ চান।
তিনি বলেন, "এজন্য একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলার প্রয়োজন হয়, কারণ স্থান পরিবর্তনের জন্য আবেদন করার সময় আদালত অনেক কিছু বিবেচনা করবে। যেমন নিরাপত্তা, পরিবারের কাছাকাছি থাকা এবং সহায়তা, আর্থিক বিষয় ইত্যাদি।"
আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা
যদি আপনি একটি নির্দিষ্ট প্যারেন্টিং ব্যবস্থায় সম্মত হওয়ার জন্য চাপ অনুভব করেন, এবং বিশেষ করে যদি আপনি পারিবারিক সহিংসতার সম্মুখীন হন, তাহলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
পুরো প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা অডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।
আরও দেখুন

অস্ট্রেলিয়ায় বিবাহ-বিচ্ছেদের নিয়ম কী?











