গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- রিপ কারেন্ট হলো অস্ট্রেলিয়ার সৈকতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
- সাঁতার কাটার জন্যে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো লাল ও হলুদ পতাকার মাঝের এলাকা, যেখানে লাইফগার্ডের টহল থাকে
- অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের গতিবিধি জানা ও আক্রমণ থেকে প্রতিরোধের জন্যে বিভিন্ন প্রোগ্রাম চালু রয়েছে
অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১২ হাজার সৈকত রয়েছে। এর ভেতরে মাত্র পাঁচ শতাংশেরও কম সৈকতে লাইফগার্ড বা সার্ফ লাইফসেভারের কর্মীরা টহল দিয়ে থাকে।
সৈকতে গড়ে প্রতি ১২ মাসে মাত্র একটি প্রাণঘাতী আক্রমণের খবর পাওয়া যায়, যেখানে একই সময়ে উপকূলীয় পানিতে ডুবে গড়ে ১২২ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে অনেকগুলি ভাটার স্রোতের কারণে ঘটে।
শেন ডাউ সার্ফ লাইফ সেভিং অস্ট্রেলিয়ার (এসএলএসএ) কোস্টাল সেফটির জেনারেল ম্যানেজার । এসএলএসএ গত বছর ১০ হাজার উদ্ধার কাজ রিপোর্ট করেছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে রিপ কারেন্টের কারণে।

রিপ বা ভাটা হল এক ধরণের শক্তিশালী স্রোত যা ঢেউয়ের বিপরীত দিকে যায়, এবং সে সময়ে পানিতে থাকা যে কাউকে সৈকত থেকে দূরে, সমুদ্রের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
আর এগুলি সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন মি: ডাউ।
রিপ কারেন্ট মারাত্মক হতে পারে, তাই হঠাৎ এর মাঝে পড়ে গেলে এসএলএসএ-র পরামর্শ হচ্ছে:
- শান্ত থাকুন এবং আপনার শক্তি সংরক্ষণ করুন।
- হাত উপরে তুলুন এবং সাহায্যের জন্য জোরে ডাকতে থাকুন।
- স্রোতের সাথে ভাসতে থাকুন। এটি আপনাকে অগভীর বালু বা তীরের দিকে ফিরিয়ে আনতে পারে। অথবা ভাটার টান থেকে বাঁচতে সৈকতের সমান্তরালে বা ঢেউ যেখানে ভেঙ্গে পড়ছে সেদিকে সাঁতার কাটার চেষ্টা করুন।
তবে শেন ডাউ বলছেন, সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো যেখানে নিরাপদ শুধু সেখানেই সাঁতার কাটা।
এরকম ডুবে যাওয়ার ঘটনা যত বেশি ঘটে, তার তুলনায় হাঙরের আক্রমণের ঘটনা অনেকই কম ঘটে থাকে।

ড: ফিবি মার টারোঙ্গা কনজারভেশন সোসাইটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা।
তিনি অস্ট্রেলিয়ান শার্ক ইনসিডেন্ট ডাটাবেজ তৈরি করেছেন যা ১৮০০ সাল থেকে আমাদের সৈকতে হাঙরের গতিবিধি রেকর্ড করেছে।

এই রেকর্ড থেকে দেখা যায়, খাদ্য হিসেবে মানুষ হাঙরের কাছে তেমন আকর্ষণীয় নয়। এবং সাধারণত ইচ্ছাকৃতভাবে হাঙর আক্রমণ করার জন্যে মানুষকেই খোঁজে এমনটাও নয়।
নিউ সাউথ ওয়েলস ডিপার্টমেন্ট অব প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজের লিডার অব শার্ক প্রোগ্রামস মার্সেল গ্রিন বলেন, শুধুমাত্র কয়েক প্রজাতির হাঙর মানুষের জন্য বিপজ্জনক।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হোয়াইট শার্ক, টাইগার শার্ক এবং বুল শার্ক।
এগুলোর বাইরে অন্যান্য প্রজাতির হাঙরও মানুষকে আক্রমণ করতে পারে, বিশেষ করে যদি প্ররোচিত হয়। যেমন কেউ যদি দুর্ঘটনাক্রমে সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকা কার্পেট হাঙর অথবা 'ওবেগং' এর উপর পা ফেলে, তাহলে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

মি: গ্রিন বলেন, এই প্রজাতির হাঙরগুলো বেশ নিরীহ, বিশেষত বিপজ্জনক তিন প্রজাতির হাঙরের তুলনায়, যাদের চলাফেরা বা আক্রমণের ব্যাপারে আগে থেকে ধারণা করা কঠিন।
নিউ সাউথ ওয়েলস, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং কুইন্সল্যান্ডে সাধারণত বেশিরভাগ আক্রমণের ঘটনা ঘটে। তবে অস্ট্রেলিয়া জুড়েই এই সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য সাহায্য পাওয়া যায়। যেমন শার্কস্মার্ট নামের অ্যাপ।
শার্কস্মার্ট অ্যাপটি বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং এতে হাঙর বিষয়ক সতর্কতা এবং সমুদ্র সৈকতের কোন জায়গাগুলিতে টহল রয়েছে, এ বিষয়ক তথ্য পাওয়া যায়।

মি: গ্রিন বলেন, এতে আরও আছে নিরাপদে থাকার জন্যে কোন জিনিসগুলো থেকে দূরে থাকা উচিৎ, যেমন কাদা পানি, এবং ভোর, সন্ধ্যা ও রাতে সাঁতার কাটা বা সার্ফিং করা, এরকম আরও দরকারি পরামর্শ।
সমুদ্র সৈকতে যাওয়া মানুষদের সুরক্ষায় নিউ সাউথ ওয়েলস ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়াতে হাঙরের আক্রমণ প্রতিরোধের জন্যে বিশ্বের দুটি শক্তিশালী প্রোগ্রাম চালু রয়েছে।
কিছু কিছু সৈকতে ঘেরাও দেয়া সুরক্ষিত জায়গা রয়েছে। ড্রোন ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে উপর থেকে নজরদারি করা হয় এবং যদি কোনও হাঙর দেখা যায় তাহলে সাইরেন বাজিয়ে মানুষদেরকে পানি ছেড়ে উঠে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়।
আবার শার্কস্মার্ট অ্যাপে হাঙরের সঠিক অবস্থান পাঠানোর জন্যে শার্ক ট্যাগিং প্রোগ্রামও চালু রয়েছে।
সেই সাথে সার্ফারদের হাঙর প্রতিরোধক ডিভাইস পরার জন্যও বিশেষভাবে বলা হয়ে থাকে।
শেন ডাউ বলেন, সবচেয়ে উত্তম পরামর্শ হচ্ছে, টহল দেয়া সৈকতে কোনো বন্ধুর সাথে মিলে সাঁতার বা সার্ফিং করতে যাওয়া।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ার বাটনে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।







