মূল বিষয়
- তাপপ্রবাহ ঘটে যখন কোনো স্থানে তিন দিন বা তার বেশি সময় ধরে দিনে ও রাতে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে।
- অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ন্যাশনাল ক্লাইমেট রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ক্রমশ উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
- অস্ট্রেলিয়ায় অন্য যে-কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় তাপপ্রবাহের কারণেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। এর ফলে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে বয়স্ক ব্যক্তিরা, কঠিন রোগে ভুগছেন এমন মানুষেরা, খুব ছোট শিশুরা এবং গর্ভবতী নারীরা।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিকভাবেই অত্যধিক গরম পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণত যখন টানা তিন দিন বা তার বেশি সময় ধরে দিনে ও রাতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকে, তখন সেটিকে তাপপ্রবাহ বলা হয়।
এ ধরনের সময়ে বাড়িঘর, কর্মস্থল এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ঠান্ডা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয় এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বাস্তব ও গুরুতর ঝুঁকি দেখা দেয়।
তাপপ্রবাহের মতো আবহাওয়াজনিত চরম ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠবে। এর ফলে সামাজিক, স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নানা প্রভাব পড়বে।
অস্ট্রেলিয়ান ক্লাইমেট সার্ভিস সম্প্রতি দেশের প্রথম ন্যাশনাল ক্লাইমেট রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ক্রমশ উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর ধরনও বদলে যাচ্ছে।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিট অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ সেন্টারের একাডেমিক পরিচালক অধ্যাপক ওলি জে বলেন, এই পরিবর্তনগুলো ইতিমধ্যেই স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

তাপপ্রবাহ বিপজ্জনক হয়ে থাকে, কারণ এতে পরিবেশগত একাধিক উপাদান একসঙ্গে কাজ করে শরীরে তাপজনিত চাপ সৃষ্টি করে। এর কারণে শরীরের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, সেটিই হলো হিট স্ট্রেইন বা তাপজনিত শারীরিক চাপ।
যখন শরীর তাপজনিত চাপের মুখে পড়ে, তখন দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে—যা এক ধরনের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়ার সিনড্রোম এবং প্রাণঘাতীও হতে পারে।
অধ্যাপক জে বলেন, তাপপ্রবাহের সময় সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ শুধু হিট স্ট্রোকই নয়।

বয়স্ক মানুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন, কারণ সাধারণত তাঁদের শরীর ঘামের মাধ্যমে কার্যকরভাবে তাপ বের করতে কম সক্ষম হয়। আর অস্ট্রেলিয়ায় অন্যান্য যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় তাপপ্রবাহেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে বলে জানিয়েছেন জিপি চিকিৎসক ড. মিশেল হামরোসি।
মিশেল জানান,
তাপপ্রবাহ গর্ভবতী নারীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
রেবেকা ডি মারকো তাঁর তিন সন্তানের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই গর্ভধারণের সময় তাপপ্রবাহজনিত স্বাস্থ্যগত প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতিতে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ড. হামরোসি আরও বলেন,
তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় আগেভাগে একটি পরিকল্পনা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঠান্ডা হাওয়া বইলে জানালা খুলে রাখুন, আর তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে জানালা বন্ধ করুন। গরম পড়লে ঘর ঠান্ডা রাখতে এরকম সহজ একটি রুটিন মেনে চলুন।

অধ্যাপক জে বলেন, সিলিং ফ্যান উপকারী হলেও অত্যধিক গরমে একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্তই তা কাজে লাগে।
ড. হামরোসি বলেন, ঘর ঠান্ডা রাখার অন্যান্য উপায়গুলোর মধ্যে রয়েছে ঠান্ডা শাওয়ার নেওয়া, ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়টায় অনেক বেশি শারীরিক শ্রম দিতে হয় এমন কাজ এড়িয়ে চলা।
মনে করে প্রতিবেশী এবং বয়স্ক আত্মীয়দের খোঁজ খবর নিন। আর যদি আপনি বা অন্য কেউ অসুস্থ বোধ করেন, তবে শরীর ঠান্ডা করার উপায় খুঁজুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে গরমের দিনে হালকা পোশাক পরানো ভালো—অনেক গরম হলে শুধু ন্যাপি পরানোই যথেষ্ট। এছাড়া, বয়স অনুযায়ী তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়ানো নিশ্চিত করুন।
যদি কোনো কারণে আপনাকে বাইরে থাকতে হয়, সে-ক্ষেত্রে অধ্যাপক জের পরামর্শ হলো যতটা সম্ভব ছায়ায় থাকা।
অধ্যাপক জে এবং তার দল একটি ফ্রি অনলাইন টুল তৈরি করেছেন, যেটির নাম HeatWatch। এটি ব্যবহারকারীদের প্রত্যেকের জন্য তাপজনিত চাপের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।
অস্ট্রেলিয়ায় তাপপ্রবাহ ক্রমেই আরও বেশি দেখা দিচ্ছে, তবে সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে মানুষ ঝুঁকি কমাতে এবং অতিরিক্ত গরমে নিরাপদ থাকতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।











