Australia Explained: বুশফায়ারের ক্ষতি সামলে ঘুরে দাঁড়াবেন যেভাবে

Australia Explained: Bushfire Recovery

A resident walks away from her flood-damaged house in the bushfire-affected town of Cooma on January 5, 2020. Source: AFP / SAEED KHAN/AFP

অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ডের এই পর্বে থাকছে, জরুরি সাড়া বা এমার্জেন্সি রেসপন্স থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার পর্যন্ত, বুশফায়ারের পর করণীয় গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত।


মূল বিষয়
  • কর্তৃপক্ষ নিরাপদ বলার পরই কেবল ঘরে ফিরুন এবং লুকিয়ে থাকা অঙ্গার আছে কি না তা সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করুন।
  • বুশফায়ারের বাস্তবতা ও মানসিক প্রভাব মোকাবিলায় রিকভারি সেন্টার, আর্থিক সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যায়।
  • বুশফায়ার থেকে সামলে উঠতে সময় লাগে — কমিউনিটির সহায়তার ওপর ভর করা এবং নিজের সুস্থতার যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ ও শুষ্ক জলবায়ু এবং অনন্য ভূপ্রকৃতি এ দেশকে বিশ্বের সবচেয়ে বুশফায়ার-প্রবণ দেশগুলোর একটি করে তুলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং পরিবেশ আরও শুষ্ক হয়ে উঠছে, তাই ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং ভয়াবহ বুশফায়ারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুশফায়ার বিষয়ক পরিকল্পনা থাকার গুরুত্বের কথা অস্ট্রেলিয়ানদের নিয়মিতভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু বুশফায়ারের আগুন নিভে যাওয়ার পর কী ঘটে? আগুন নেভার পর কীভাবে নিরাপদে ঘরে ফিরবেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন এবং নিজের যত্ন নেবেন?

বুশফায়ারের অভিজ্ঞতা যে-কাউকে মানসিকভাবে খুবই নাড়া দেয়।

শরিফ বেইতি নিউ সাউথ ওয়েলসের ন্যানা গ্লেন নামের ছোট একটি গ্রামের রুরাল ফায়ার সার্ভিস ব্রিগেডের ডেপুটি ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া জুড়ে এক লক্ষেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী শরিফের মতোই কমিউনিটিকে সচেতন করা, আগুন নেভানো এবং পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার কাজ করেন।

২০১৯ সালে তিনি প্রথম বড় বুশফায়ারের মুখোমুখি হন। এত বছর পরও সেই স্মৃতিগুলো এখনো তাঁর মনে স্পষ্ট হয়ে রয়েছে।

Metropolitan Fire Service Firefighters in the front of the fire site house.
Metropolitan Fire Service Firefighters in the front of the fire site house. Credit: mastersky/Getty Images

বুশফায়ারের পর বাড়িতে ফিরে আসা অনেকের জন্যই ভীষণ চাপের হতে পারে।

সবার আগে সরকারি পরামর্শের জন্য অপেক্ষা করা ভালো হবে।

আপনার স্টেট এমার্জেন্সি সার্ভিস (এসইএস) ফিরে যাওয়া নিরাপদ বলার পরই কেবল ফেরার সিদ্ধান্ত নিন।

নন-পেরিশেবল খাবার, বোতলজাত পানি, নগদ টাকা, টর্চ ও অতিরিক্ত ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিন।

যদি আপনার বাড়িটি এখনো অক্ষত থাকে, ভেতরে ঢোকার আগে দৃশ্যমান কাঠামোগত ক্ষতি আছে কি না পরীক্ষা করে দেখুন।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো সম্পত্তিতে প্রবেশ করলে রেসপিরেটর, দস্তানা, লম্বা হাতার পোশাক এবং মজবুত জুতা পরুন।

সম্ভব হলে শুরুতে শিশু ও পোষা প্রাণীদের দূরে রাখুন।

বাড়ি বা সম্পত্তিতে ঢোকার পর লুকিয়ে থাকা জ্বলন্ত অঙ্গার রয়েছে কিনা ভালো করে খেয়াল করে দেখুন — এগুলো থেকে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে এবং বুশফায়ার নিভে যাওয়ার কয়েক দিন পরও আবার আগুনের উৎস হতে পারে।

আপনার সম্পত্তির বীমা করা থাকলে, কিছু সরানো বা পরিষ্কার করার আগে সবকিছু নথিভুক্ত করুন।

যত বেশি সম্ভব ছবি ও ভিডিও করুন এবং ক্ষয়ক্ষতির লিখিত হিসাব রাখুন। অনেক বীমা কোম্পানি অস্থায়ী আবাসনের মতো জরুরি প্রয়োজনের জন্য দ্রুত অর্থ প্রদান করে।

তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও সহায়তা দিতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ও রিলিফ সেন্টারগুলো স্থাপন করা হয়।

সাধারণত সেখানে আশ্রয়, খাবার, পানি ও চার্জিং স্টেশন থাকে।

ইমার্জেন্সি রিকভারি ভিক্টোরিয়া, সার্ভিস এনএসডব্লিউ বা কুইন্সল্যান্ড রিকভারি হটলাইনের মতো রাজ্যভিত্তিক সেবাগুলোও পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারি দুর্যোগকালীন আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

শরিফ বেইতি বলেন,

রিকভারি বা পুনরুদ্ধারের পথ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।
Australia Explained: Bushfire Recovery
Aerial view of the Australian bush fire destruction with a burnt home & property. Bell NSW 2020 bush fires - Blue Mountains Credit: mikulas1/Getty Images

বুশফায়ারের ধোঁয়া আগুনের কাছাকাছি থাকা মানুষদের মত দূরের মানুষদেরও প্রভাবিত করে — বাতাসের মান, স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এ সময় হৃদরোগ বা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগা মানুষ বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকেন।

জরুরি চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লাই হেং ফুং বলেন, ধোঁয়া সরে যাওয়ার বহু পরেও এর প্রভাব থাকতে পারে।

তিনি বলেন, বারবার দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হলে ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

Australia Explained: Bushfire Recovery
A house belonging to Allan Lehepuu in the mountains near Michelago that was destroyed by bush fires, New South Wales, Australia. Allan is a volunteer fire fighted and went to help fight the fire at the bottom of the mountain. The fire spread rapidly and destroyed Allans and other houses in the area. Credit: Ashley Cooper/Getty Images

বড় ধরনের বুশফায়ারের পর ট্রমা-সচেতন কাউন্সেলর ও রেফারাল সেবাসহ রিকভারি সেন্টার খোলা হয়।

আপনার জিপি ডাক্তারও এ ধরনের সহায়তা খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারেন। আর লাইফলাইন বা বিয়ন্ড ব্লুর মতো হেল্পলাইনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।

রেড ক্রস অস্ট্রেলিয়ার রিকভারি ও ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের ন্যাশনাল ম্যানেজার এরিন পেলি বলেন, দুর্যোগের পর শিশু ও তরুণদের সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন অভিভাবকের সুস্থতা শিশুদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

আপনার সন্তানের আচরণে উদ্বেগজনক কিছু লক্ষ্য করলে জিপি বা হেল্পলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাঁচ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের জন্য গোপনীয় ফোন ও অনলাইন কাউন্সেলিং সেবা দেয় কিডস হেল্পলাইন।

এবং তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, দুর্যোগ থেকে সেরে উঠতে সময় লাগে।

এরিন পেলি বলেন, ইতিবাচক ব্যাপার হলো, পরিবার, বন্ধু এবং কমিউনিটির সহায়তায় বেশিরভাগ মানুষ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

রিকভারির সময়েও আনন্দময় ছোট ছোট মুহূর্তের জন্য সময় বের করার উৎসাহ দেন তিনি।

আর যদি আপনার অন্যদের সাহায্য করার সামর্থ্য থাকে, তবে নির্দ্বিধায় এগিয়ে যান। খুব বড় কিছু করার দরকার নেই — শুধু পাশে থাকাটাই বিশাল পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

বুশফায়ার থেকে সামলে ওঠা একটি দীর্ঘ পথচলা, তবে আপনাকে এটি একা মোকাবিলা করতে হবে না।

আপনার নিরাপত্তা, আপনার বাড়ি এবং আপনার সুস্থতার জন্য সব রকমের সহায়তা পাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।

আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ?  australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।


Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now